ডায়রিয়া কি? ডায়রিয়া কেন হয়, ডায়রিয়া রোগের চিকিৎসা।

ডায়রিয়া কি? ডায়রিয়া কেন হয়, ডায়রিয়া রোগের চিকিৎসা, What is diarrhea? Why diarrhea occurs, treatment of diarrhea disease,

ডায়রিয়া কি?
এটি সেমিসলিড হতে পারবে না। পাতলা হতে হবে পায়খানাটা। দিনে তিন থেকে চারবারের বেশি হলে আমরা বলব ডায়রিয়া।

ডায়রিয়া কেন হয়?
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ডায়রিয়ার একটি বড় কারণ হলো ইরিটেবল বাউল সিনড্রম বা আইবিএস। এর পর কিছু সংক্রমণমূলক কারণ রয়েছে। আমরা কিন্তু এর কারণ হিসেবে টিবিও পেয়ে যাই।

কোনো কারণে যদি মনে করেন, পায়খানার রাস্তায় পলিপ বা টিউমার জাতীয় কিছু হয়েছে, ক্যানসার হয়েছে, তখনো কিন্তু পাতলা পায়খানা নিয়ে আসতে পারে। আরেকটি জিনিস আমরা এখন বেশ পাচ্ছি। সেটি হলো ইনফ্লামেটরি বাউয়েল ডিজঅর্ডার। এখন কিন্তু বেশ ভালো পাওয়া যায়।

আবার খাবারের সঙ্গে কিছু সম্পর্কযুক্ত ডায়রিয়া রয়েছে। অনেকের দুধজাতীয় খাবার খেলে ডায়রিয়া হয়। আবার খাবারের সঙ্গে কিছু সম্পর্কযুক্ত ডায়রিয়া রয়েছে। আবার কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলোকে বলে গ্লুটেন কনটেনিং ডায়েট। সিলিয়ার রোগ বলে একটি রোগ রয়েছে।

ওট, ভুট্টা, বার্লি এসব প্রক্রিয়াজাত যে খাবার গুলো খাচ্ছেন, এগুলো খেলে তার বিপরীতে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। তাহলে খাবারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও আমাদের ডায়রিয়া হতে পারে। আবার অ্যান্ডোক্রাইন বা হরমোনাল কারণে ডায়রিয়া হতে পারে।

ডায়রিয়া রোগের চিকিৎসা
গরমে এ সময়ে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যায়। ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হলে আমরা অনেকে চিন্তায় পড়ে যাই। মনে করেন ডায়রিয়া হলে যে পানি ও লবণ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, সেটা খাওয়ার স্যালাইন দিয়ে পূরণ করলেই চলবে। বেশির ভাগ ডায়রিয়া নিজে থেকেই সেরে যায়। ওষুধ খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নাই। সাধারণ ডায়রিয়ায় কোনো ওষুধ না খেয়ে বিশ্রাম নিন, বারবার খাওয়ার স্যালাইন বা ডাবের পানি পান করুন, বেশি করে তরল খান। ডায়রিয়া হলে শুধুমাত্র খাবার স্যালাইন খেলেই হবে। খাবার স্যালাইন কিনে খাওয়া যেতে পারে। আর না হয় ঘরে হাফ লিটার
পানির মধ্যে এক মুঠো গুড় ও এক চিমটি লবণ দিয়ে স্যালাইন বানিয়ে নিন।

জেনে নিন ডায়রিয়া প্রতিরোধে কী করবেন?
১. রাস্তায় তৈরি করা শরবত, পানি, খাবার ভুলেও খাবেন না।
২. পচা-বাসি খাবার খাওয়া যাবে না।
৩. খাবার খাওয়ার আগে হাত ভালোভাবে পরিস্কার করতে হবে।
৪. ডায়রিয়া হলে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুকে শুধু মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।
৫. যদি সম্ভব হয় তবে শিশুকে অসুস্থ লোক বা রোগী থেকে দূরে রাখতে হবে।
৬. খাবার আগে, শিশুকে খাওয়ানোর আগে এবং মলত্যাগের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।
৭. খাওয়ার পানি ফুটিয়ে খেতে হবে।
৮. শিশুদের নিজের হাত দিয়ে খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে।
৯. পাকা পায়খানা বা স্যানেটারি ল্যাট্রিন ব্যবহার করতে হবে।
Previous
Next Post »