উকুন কেন হয়? উকুন দূর করার উপায়।


উকুন কেন হয়, উকুন দূর করার উপায়, Why Lice? A way to relieve lice. উকুন নাশক মেডিসিন, উকুন নাশক তেল, উকুন তাড়ানোর কার্যকরী উপায়, চুলে উকুন দূর করার উপায়, উকুনের প্রতিকার, উকুন অর্থ, ঘরোয়া পদ্ধতিতে উকুন দূর করার উপায়, উকুন তাড়ানোর কার্যকরী উপায়, উকুন নাশক মেডিসিন, মুরগির উকুন দূর করার উপায়, উকুন বিক্রি, বিড়ালের গায়ের উকুন দূর করার উপায়,

চুলের একটি বিরক্তিকর সমস্যা হল উকুনের সমস্যা। নারী পুরুষ উভয়ের এই সমস্যা হতে পারে। তবে নারীদের উকুন বেশি হয়ে থাকে। উকুন একধরণের পরজীবী যা মানুষের মাথার তালুতে বাস করে এবং রক্ত পান করে জীবন ধারণ করে। উকুন খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই শুরুতেই এটি ধ্বংস করা না গেলে পরবর্তিতে এটি দূর করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

মাথায় উকুন আসার পর ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ডিম পাড়ে। এর পর ১০ দিন সময় লাগে উকুন বড় হতে। একসঙ্গে ডিম থেকে উকুন হওয়ার কারণে অনেক দ্রুত চুলে উকুন ছড়িয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে যতই উকুননাশক প্রসাধনী ব্যবহার করেন, উকুন বারবার ফিরে আসে।
আর এই প্রসাধনীতে নানা ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য থাকার কারণে চুলেরও মারাত্মক ক্ষতি হয়। ঘরোয়া উপায়ে মাত্র ১৫ মিনিটেই আপনি উকুনের সমস্যার সমাধান করতে পারেন।

উকুন থাকলে সাধারণত সারা দিন-ই মাথা চুলকাতে থাকে। মাথার ত্বকে কোন কোন জায়গায় হালকা লাল হয়ে ফুলে থাকে। আবার অনেকের মাথায় একটু-ও চুলকায় না। এক্ষেত্রে চুলে উকুনের ডিম আছে কিনা দেখতে হবে। ডিম গুলো হলো ওভাল শেপের আর অফহোয়াইট রঙের। এগুলো চুলের সাথে লেগে থাকে।

আর উকুন থাকবে স্কাল্পে। যদি ডিমের মত কিছু চুলে পান এবং সেটা যদি খুব সহজেই হাত থেকে পড়ে যায়, বা খুব সহজেই আঙ্গুল দিয়ে সরানো যায় তাহলে সেটা উকুনের ডিম না। কারণ উকুনের ডিম এক ধরনের আঠালো উপাদানের মাধ্যমে চুলের সাথে খুব ভালো ভাবে আটকে থাকে। অনেকের ধারণা উকুন শুধু মাত্র অপরিষ্কার চুলে হয়। না এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। উকুন পরিষ্কার, অপরিষ্কার, লম্বা, ছোট যে কোন চুলেই হতে পারে। উকুনের বেঁচে থাকার জন্য শুধু দরকার হালকা গরম পরিবেশ আর এমন একটা স্থান যেখান থেকে তারা খুব সহজেই রক্ত নিতে পারবে। আর তাই মানুষের স্কাল্প হচ্ছে তাদের বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।

উকুন কেন হয়
১। মাথা অপরিষ্কার থাকলে।
২। ভেজা চুল বাধাঁর অভ্যাস থাকলে।
৩। ভেজা চুল অনেকক্ষণ বাঁধা অবস্থায় থাকলে।
৪। অন্যের চিরুনি, তোয়ালে, গামছা ব্যবহার করলে।
৫। অন্যের মাথা থেকে উকুন চলে এলে।

উকুন দূর করার উপায়
১। ভিনেগার দিয়ে চুল ধোয়া ভিনেগার দিয়ে খুব সহজে উকুন দূর করা সম্ভব। এতে অ্যাসিটিক এসিড আছে যা উকুন দূর করতে সাহায্য করে। সমান পরিমাণ পানি ও ভিনেগার একসঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগান। এবার এই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এতে উকুন মরে যাবে। আপনি চাইলে ভিনেগারের সঙ্গে অলিভ অয়েলও মিশিয়ে নিতে পারেন। অথবা এভাবে দিন ভিনেগার আর পানি মিশিয়ে নিন। তারপর সেটি মাথায় লাগান। ১০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করুন।

২। অলিভ অয়েল বা বাদাম তেলবাদাম তেল বা অলিভ অয়েলের গন্ধ উকুন সহ্য করতে পারে না।  ফলে তারা মারা যায় এবং তারপর চিরুনি দিয়ে খুব সহজে উকুন মাথা থেকে দূর করা যায়। আপনাকে সারারাত চুলে অলিভ অয়েল লাগিয়ে রাখতে হবে। একটি কাপড় দিয়ে চুল মুড়িয়ে রাখুন। এভাবে সারা রাত রাখুন। তারপর উকুন চিরুনি দিয়ে ভাল করে চুল আঁচড়িয়ে নিন। এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে একবার এইভাবে চুল ধুয়ে ফেলুন।

৩। মেয়োনেজ, মাখন ও পেট্রোলিয়াম জেলি লাগান মাথার তালু ও চুলে মেয়োনেজ বা মাখন অথবা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে চুল ঢেকে সারা রাত এভাবে রেখে দিন। সকালে বেবি অয়েল দিয়ে চুল ম্যাসাজ করে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন, চুলের উকুন ও উকুনের ডিম সহজেই দূর হবে।

৪। এসেনশিয়াল অয়েল লাগানো এসেনশিয়াল অয়েল, যেমন: টি ট্রি অয়েল, ল্যাভেন্ডার অয়েল ও মৌরির তেল উকুন দূর করতে বেশ কার্যকর। ভেজিটেবল অয়েলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে মাথার ত্বকে ও চুলে লাগান। এবার একটি তোয়ালে দিয়ে চুল ঢেকে রাখুন। এক ঘণ্টা পর ভালো করে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন, চুলের উকুন একেবারেই দূর হয়ে যাবে।

৫। ভেজা চুল আঁচড়ানো প্রথমে চুল পানি দিয়ে ভিজিয়ে কন্ডিশনার লাগান। এবার চিকন চিরুনি দিয়ে মাথার ত্বক থেকে চুলের আগা পর্যন্ত আঁচড়ান। কয়েকবার এভাবে ভেজা চুল আঁচড়ান। দেখবেন, মাথার উকুন অনেকটা দূর হবে।

৬। নারকেল তেলউকুন দূর করার ক্ষেত্রে নারকেল তেল অনেক ভাল কাজ করে থাকে। নারকেন তেল উকুনদের শ্বাসরোধ করে দেয় ফলে উকুনরা বেশিক্ষণ থাকতে পারে না। ৩ টেবিল চামচ নারকেল তেল এবং খুব সামান্য কর্পূর মিশিয়ে নিন। তেলটি মাথায় ভাল করে ম্যাসাজ করুন। এরপর শাওয়ার কাপ দিয়ে মাথা ঢেকে দিন। পরের দিন সকালে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। শুঁকিয়ে গেলে চিরুনি দিয়ে আঁচড়ান। দেখবেন উকুন চলে যাচ্ছে। এটি সপ্তাহে ৩ থেকে ৫ দিন করুন। দেখবেন উকুন গায়েব হয়ে গেছে।

৭। পেঁয়াজপেঁয়াজের রসে সালফার আছে যা উকুন দূর করে থাকে। ৪/৫ টা পেঁয়াজের রস করে নিন। এরপর তা মাথায় ভাল করে লাগিয়ে নিন। ২ ঘন্টা পর কুসুম গরম পানি দিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুল শুকানোর পর চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ান, দেখবেন উকুন সব
চিরুনিতে চলে এসেছে।

৮। রসুনরসুনের গন্ধ উকুন সহ্য করতে পারে না। রসুনের গন্ধে দম বন্ধ হয়ে মারা যায়। ১০ কোয়া রসুন নিন। ভালো করে খসা ছাড়িয়ে গ্রাইন্ড করে বা বেটে নিন। এতে যোগ করুন ২ চা চামচ লেবুর রস। ভালো করে মিশিয়ে পেস্টের মতো তৈরি করে মাথার ত্বকে ভালো করে ঘষে লাগিয়ে নিন। চুলের গোঁড়ার কোনো অংশ বাদ দেবেন না। এভাবে ৩০ মিনিট পেস্টটি চুলে লাগিয়ে রাখুন। এরপর কুসুম গরম পানিতে চুল ধুয়ে নিন। খুবই হালকা গরম পানি ব্যবহার করবেন। সপ্তাহে ৩ দিন এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করুন। উকুনের সমস্যা
খুব দ্রুত দূর হয়ে যাবে এবং মাথার ত্বকের অন্যান্য সমস্যা থেকেও মুক্তি পেয়ে যাবেন।
৯। লেবুর রসলেবুর রস উকুন দূর করতে বহুল ব্যবহৃত একটি উপায়। লেবুর রস মাথায় ভাল করে লাগান। ৩ মিনিট অপেক্ষা করুন। প্রথমে ভিনেগার দিয়ে পড়ে কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে একবার করুন। উকুন আপনার মাথা থেকে দূরে থাকবে।লেবুর রসের সাথে আদার পেষ্ট মেশান। এটি মাথায় ভাল করে ম্যাসাজ করুন। একটি তোয়ালে দিয়ে মাথা পেঁচিয়ে রাখুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে ২/৩ বার করুন। যদি উকুনের সমস্যা অনেক বেশি থাকে তবে এটি সপ্তাহে ৫ বার করুন।

১০। নিমনিম হল প্রাকৃতিক প্রতিষেধক, যেটি উকুন দূর করতে অনেক বেশী কার্যকর। এটি মাথার চুলকানিও কমাতে সাহায্য করার সাথে সাথে স্কাল্প ময়েশ্চারাইজ করে থাকে। নিমের পেষ্ট করে সেটি চুল আর মাথার তালুতে লাগান। এটি সপ্তাহে দুবার করুন। নিমের তেল ব্যবহারেও চুল থেকে উকুন দূর করা সম্ভব। ভাল করে মাথার তালুতে নিমের তেল ম্যাসাজ করুন। এক ঘণ্টার পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি সপ্তাহে তিন বার করুন দেখবেন খুব দ্রুত উকুন দূর হয়ে গেছে। আরেকটি পদ্ধতিঃ ২ টেবিল চামচ পাতি লেবুর রস, ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল, ২ টেবিল চামচ নিমপাতার রস সবগুলো উপাদান এক সাথে মিশিয়ে অথবা ব্লেনড করে তারপর মাথার চুলের গোড়ায় গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন ১ ঘণ্টা। ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগান । এই ভাবে সপ্তাহে যদি ২ বার চুলের যত্ন করেন প্রাকৃতিক উপায়ে তাহলে আপনি মুক্তি পাবেন যন্ত্রণা দায়ক উকুন থেকে।

১১। খাবার লবণঅবাক হলেও সত্য লবণ উকুন দূর করতে বেশ কার্যকরী। ১/৪ কাপ লবণ এবং ১/৪ কাপ ভিনেগার ভাল করে মিশিয়ে নিন। এবার এটি চুলে স্প্রে করে ফেলুন। তারপর শাওয়ার কাপ বা টাওয়েল দিয়ে চুল পেঁচিয়ে রাখুন ২ ঘন্টা। তারপর চুল শ্যাম্পু করে ফেলুন। ভাল ফল পেতে এটি সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার
করুন।

১২। বেবি অয়েল প্রথমে বেবি অয়েল দিয়ে মাথা ভাল করে ধুয়ে নিন। তারপর সামান্য পরিমানে কাপড় ধোয়ার পাউডার দিয়ে আবার মাথা ধুয়ে ফেলুন। এরপর মাথায় সাদা ভিনেগার দিয়ে শাওয়ার ক্যাপ পরে ঘুমিয়ে পরুন। সকালে উঠে দেখবেন আপনার সব উকুন শেষ। চুল আঁচড়ানোর আগে শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার দিয়ে নিন। গোসলের পর চুল শুকিয়ে যখন দেখবেন আপনার সব উকুন গায়েব, তখন আপনি স্বীকার করতে বাধ্য হবেন যে বেবি অয়েল একটি উৎকৃষ্ট উকুন তাড়ানোর উপায়। আরও পড়ুনঃ অতিরিক্ত চুল পড়া রোধ করতে দারুণ কার্যকরী মাত্র ১ টি সমাধান।

১৩। চা পাতার তেল চা পাতার তেল যেমন উকুন তাড়ানোর উপায় তেমনি মাথার ত্বকের
জন্যও উপকারী। প্রাকৃতিক ভাবেই এটি একটি ইনসেক্টিসাইড। ঘুমানোর আগে চা পাতার তেলের সাথে একটু নারকেল তেল মিশিয়ে চুলে ও মাথার তালুতে মেখে নিন। এরপর শাওয়ার ক্যাপ পরে ঘুমিয়ে পড়ুন। সকালে সাধারন শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিলে আরও বেশি উপকার পাওয়া সম্ভব।

১৪। ফেইসওয়াশ চুলে লাগান যে কোন ফেইসওয়াশ চুলে লাগান। এরপর একবার চুল আঁচড়ে নিন অতিরিক্ত ফেইসওয়াশ দূর করার জন্য। এখন হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকিয়ে নিন। এর ফলে উকুন নিঃশ্বাস নিতে পারবেনা। কিন্তু এই পদ্ধতি রাতে করলে ভালো কারণ চুলে ফেইসওয়াশ প্রায় ৮ ঘণ্টার বেশি রাখতে হবে যেহেতু উকুন নিঃশ্বাস না নিয়ে প্রায় ৮ ঘণ্টার মত বেঁচে থাকতে পারে। সকালে চুল ধুয়ে ফেলবেন। আর সাথে অবশ্যি বালিশের কাপড়, বিছানার চাদর গরম পানিতে ধুয়ে ফেলবেন। এটা প্রতি সপ্তাহে ২/৩ দিন করতে পারেন উকুন মারার জন্য।

১৫। মিক্স পদ্ধতি দুই চা চামচ রসুন বাটা, দুই টেবিল চামচ নারিকলে তেল, আধা চা চামচ লেবুর রস, আধা চা চামচ আদার রস মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ঘষে লাগিয়ে দিন। আধা ঘণ্টা রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন অস্বস্তিকর উকুন চলে গেছে।

Previous
Next Post »