ত্বকের উজ্জ্বলতার জন্য বাড়িতে ফলের ফেসিয়াল

Home for glow in the skin Fruit Facial

Home for glow in the skin Fruit Facial
পার্লারে গিয়ে ফেসিয়ালের জন্য ঘণ্টা দুই অপেক্ষা করার মতো সময় আজকাল কার হাতেই বা থাকে বলুন তো? কিন্তু তাই বলে কি আর ত্বকের ঝলমলানির সঙ্গে সমঝোতা করা যায়? তাই বাড়িতে যেদিন একটু বেশি সময় হাতে থাকবে সেদিন আপনার ফ্রিজের ভিতরে চোখ পাতুন একবার। দেখুন সেখানে কী কী মজুত আছে। শসা, কলা, পেঁপে, টোম্যাটো, মধু, দুধের মতো জিনিসপত্র থাকলেই চলবে। তা হলে আপনার অরগ্যানিক ফেসিয়াল নিয়ে কোনও চিন্তাই নেই! জাস্ট আমাদের টিপস গুলো মেনে চললেই ফারাকটা বুঝতে পারবেন।

ক্লেনজ়িং বা ত্বক যথাযথভাবে পরিষ্কার করা,
রোজ তো আপনি আপনার প্রিয় সাবান বা ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখ ধোন, কিন্তু ফ্রিজে ঠান্ডা দুধ থাকলে একবার সেটা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। দুধ ক্লেনজ়ার হিসেবে খুব ভালো, ত্বকের আর্দ্রতা বা পিএইচ ব্যালান্সও তা বজায় রাখতে পারে। তুলোর বল ঠান্ডা
দুধে ডুবিয়ে নিন, তারপর গোটা মুখে বুলিয়ে নিতে হবে চক্রাকারে। তার পর সামান্য উষ্ণ জলে মুখটা ধুয়ে নিন।

এক্সফোলিয়েশন বা মৃত কোষ সরানোর ব্যবস্থা, ভালো কোনও এক্সফোলিয়েটরের সাহায্যে ত্বকের মৃত কোষ সরাতে হবে, তা না হলে ভিতরের ঝলমলানিটা আপনার চোখে পড়বে না। খানিকটা ওটমিল, দুধ, শুকনো লেবুর খোসা মিক্সিতে পিষে নিন। এবার মিশ্রণটা মুখে, গলায়, পিঠে লাগিয়ে অপেক্ষা
করুন শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত। শুকিয়ে গেলে ফের হাতের আঙুলের ডগা দিয়ে চক্রাকারে মালিশ করে ত্বক পরিষ্কার করুন। এক্সফোলিয়েশনের পর ফের উষ্ণ জলে মুখ ধুতে হবে।

ব্লিচ, প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে হয় মধু ব্যবহার করুন, না হলে লাগান লেবুর রস। লেবুর রস অবশ্য জল মিশিয়ে পাতলা করে দেওয়াটাই দস্তুর। মুখে লাগিয়ে অন্তত 10 মিনিট রেখে দিন ওভাবেই। তার পর ফের ঈষৎ উষ্ণ জলে ধুয়ে নেবেন। অনেকেই আছেন যাঁদের ত্বকে ব্লিচ সহ্য হয় না, তাঁরা এই ধাপটা বাদ দিতে পারেন। তবে ব্লিচ করলে আপনার ত্বকের রোমের রং হালকা হয়ে যাবে, তা আরও বেশি উজ্জ্বল দেখাবে।

স্টিম বা ভাপ নিয়ে ত্বকের ছিদ্রগুলিকে উন্মুক্ত করা, আপনি যদি ত্বকের ছিদ্রগুলিকে উন্মুক্ত করতে না পারেন তা হলে তা যথাযথ ভাবে পরিষ্কার হবে না এবং ফেসিয়ালের গুণ ত্বকের গভীরে গিয়ে পৌঁছবে না। তাই একটি বড়ো বাটিতে ফুটন্ত ধোঁয়া ওঠা জল নিন। মাথা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে রেখে মুখে ভাপ নিন পাঁচ মিনিটের জন্য। তবে যাঁদের ত্বক খুব স্পর্শ কাতর তাঁরা স্টিমের ধাপটি এড়িয়ে যেতে পারেন।

ফল দিয়ে বানিয়ে নিন ফেস প্যাক, পাকা কলা, কিউয়ি, পাকা পেঁপে, অ্যাভোকাডো বা টোম্যাটোর মধ্যে যেটি ত্বকে সহ্য হয়, তার শাঁস বা রস বের করে নিন। তার মধ্যে মেশান মধু আর লেবুর রস। এই প্যাকটি মুখ লাগান এবং অপেক্ষা করুন 15 মিনিট। তার পর ঈষৎ উষ্ণ জলে ধুয়ে মুখে একবার ম্যাসাজ করে নেবেন। ফলের ফেসিয়াল করার পর কৃত্রিম টোনার ব্যবহার করার কোনও প্রয়োজন নেই, শসার রস লাগান তার বদলে। একেবারে শেষে গিয়ে ময়েশ্চরাইজ়ার লাগিয়ে নিন। ত্বকের ঝলমলে নিজেই মুগ্ধ হবেন।
Previous
Next Post »