পেট ঠান্ডা রাখার খাবার, কাঁচা কলা রান্না

পেট ঠান্ডা রাখার খাবার, কাঁচা কলা রান্না

পেট ঠান্ডা রাখার খাবার, কাঁচা কলা আমাদের অতি পরিচিত একটি সবজি। খেতে তেমন একটা সুস্বাদু না হলেও এর রয়েছে অসাধারণ সব স্বাস্থ্যগুণ। কাঁচা কলায় আছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন সহ নানা উপাকারী সব উপাদান। যা আমাদের ডায়েবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, ক্যান্সাররের ঝুঁকি কমায় ইত্যাদি সহ নানা ধরনের উপকার করে থাকে।
আসুন জেনে নেই নিয়মিত কাঁচা কলা রান্না খেলে আমাদের কি কি উপকার হতে পারে।

পেট ঠান্ডা রাখেঃ আমাদের পেট ঠান্ডা রাখতে এবং ভালো রাখতে কাঁচাকলা অনেক কার্যকরী। কারণ কাঁচা কলায় আছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। যা আমাদের শরীরে প্রবেশ করা মাত্র হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি ডাইজেস্টিভ ট্র্যাকের কর্মক্ষমতা বাড়াতে এবং বাওয়েল মুভমেন্টের উন্নতি ঘটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই শুধু পেট খারাপই নয়, এর পাশাপাশি যারা প্রায়ই গ্যাস, পেট ফুলে যাওয়া বা এ জাতীয় সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাদের জন্য কাঁচা কলা রান্না অনেক উপকারী। এবং পেটের যেকোন সমস্যায় কাঁচা কলা রান্না খেতে কিন্তু একদমই ভুলবেন না।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়ঃ দিন দিন আমাদের মাঝে নানা হৃদরোগের প্রকোপ বেড়েই চলছে। আর এই হৃদরোগের প্রকোপ কমাতে কিন্তু কাঁচা কলা অনেক উপকারী। কারণ কাঁচা কলাতে আছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা দেখা গেছে, প্রতিদিন 4700 মিলিগ্রাম পটাসিয়াম আমাদের শরীরে প্রবেশ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ৫০ ভাগ
শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব। তবে এ কথাও সত্য
যে পটাসিয়াম সবার জন্য নিরাপদ নয়। কারণ উচ্চ রক্তচাপ অথবা কিডনির রোগে আক্রান্ত রোগীদের বেশি করে কাঁচা কলা রান্না ঠিক না। তাই হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে থাকলে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন কাঁচা কলা রান্না খাওয়ার অভ্যাস করুণ।

কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করেঃ বর্তমানে পুরো বিশ্বে যে হারে ক্যান্সার রোগের প্রকোপ বেড়েই চলছে, তাতে এখনই সচেতন না হলে ভবির্ষতে এ রোগ মহামারী আকার ধারণ করবে। আর ক্যান্সার রোগের ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে দেয় কাঁচা কলা। বিশেষ করে,কোলন ক্যানাসারের আশঙ্কা অনেক কমিয়ে দেয় কাঁচা কোলা। কারণ কাঁচা কলায় থাকা বিশেষ কিছু উপাদান আমাদের কোলন থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, জীবাণু এবং ইনফেকশন দূর করে কোলনকে সুস্থ রাখে। ফলে কোলন ক্যান্সার এবং দীর্ঘমেয়াদী কোলন সংক্রান্ত রোগ দূর করতে কাঁচা কলা বেশ কার্যকরী।

ডায়েবেটিস নিয়ন্ত্রণ করেঃ আপনার যদি ডায়াবেটিস সমস্যা থাকে তবে কাঁচা কলা আপনার জন্য খুবই উপকারী একটি খাদ্য। সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীর বেশিরভাগ খাবার খাওয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু কাঁচা কলার
সবজি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যান্ত উপকারী। এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনের জন্য একটি খুবই উপকারী ঔষধ। তাই যারা ডায়েবেটিসে ভুগছেন ,তারা প্রতিদিন কাঁচা কলা রান্না করে খাওয়া শুরু করুন এবং ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

উচ্চ ভিটামিন বি-৬ এর উৎসঃ আমাদের দেহের জন্য ভিটামিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এই ভিটামিনের অন্যতম উৎস হলো কাঁচা কলা। আমাদের শরীরের জন্য অত্যান্ত উপকারী ভিটামিন বি-৬ এর অন্যতম উৎস হলো কাঁচা কলা। এক কাপ সিদ্ধ কাঁচা কলা
আমাদের দৈনিক ভিটামিন বি-৬ চাহিদা পূরণ করে থাকে। এছাড়া এতে ভিটামিন বি-৬। যা আমাদের রক্তের অন্যতম উপাদান হিমোগ্লোবিন তৈরি করে। হিমোগ্লোবিন আমাদের শরীরের প্রতিটি অংশে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে থাকে। এছাড়া এতে আছে ভিটামিন বি-৪। যা আমাদের রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। রক্তে সুগার বেড়ে গেলে ডায়েবেটিসের মত অনেক জটিল রোগ হতে পারে।

খনিজ পদার্থের উৎসঃ আমাদের শরীর রাখতে প্রয়োজন নানা খনিজ উপাদান। এসব খনিজ উপাদান নানা ভাবে আমাদের শরীরের অনেক উপকার করে থাকে। আর কাঁচা কলা হলো নানা জায়গায় খনিজ উপাদানে পরিপূর্ণ। এতে আছে ক্যালসিয়াম,
পটাসিয়াম, জিংক, আয়রন ইত্যাদি উপাদান।এক কাপ কাঁচা কলায় রয়েছে ৫৩১ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম, ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। যা হাড়ের মজবুত করে, দাঁতকে শক্তিশালী করে এবং শরীর গঠনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কাঁচা কলা রান্না।
Previous
Next Post »