Romantic Story Instant Family Romance Tale

Instant Family
Instant Family

অবন্তী সারা রাত যন্ত্রণায় ছটফট করেছে।
কাল রাতে তরকারি তে লবন কম হওয়া কে কেন্দ্র করে তার গুনধর স্বামী রোহান এমন অবস্থা করেছে যে সারারাত দু চোখের পাতা এক হয়নি। সব কথার এক কথা এবার ঈদে একটা দামি ফোন দিতে হবে অবন্তীর বাবা মায়ের। আর রোহানের মতো জামাই পাওয়া ভাগ্যের কথা। কিছু কিছু দামি জিনিস চাইতেই পারে। তাতে সমস্যা কি। এটা হলো রোহানের মায়ের কথা।
একটু পর সেহরি করতে উঠতে হবে। অবন্তী সবার আগে উঠে সব কিছু গুছিয়ে রাখবে।

তাঁর পর ডাকলে শাশুড়ি আর ননদ খেয়ে ধন্য করবে। কিন্তু আজ বিছানা ছাড়তে পারছে না। তাইতে আজ শাশুড়ি ননদ ভাল করে খেতে পারি নি। আর ভাল করে না খেলে কি সারা দিন রোযা রাখা যায় । এরকম দু চার কথা সকাল থেকে কম করে হলেও পনেরো বিশ বার শুনেছে অবন্তী। কিন্তু কিছু বলার নেই। কাল যখন মেয়ে টাকে মেরেছে তখন শাশুড়ি ননদ ঘরে বসে সাপ লুডু খেলছিল। পরে এসে বললো বৌমা তোমার ও দোষ আছে। একটু দেখতে পারো না তরকারি তে লবন কেমন হচ্ছে। আমার ছেলে টা একটু এমন। তুমি একটু ভাল হয়ে চললেই তো আর সমস্যা থাকে না।

কথা টা শুনে অবন্তীর আরো কষ্ট হতে লাগলো। ইনি ও তো মা। কি করে পারে এমন কোল টানা বিচার করতে।
অবন্তী আর রোহানের বিয়ে হয়েছে দুই বছর এক মাস। চার মাসের একটা ফুটফুটে মেয়ে আছে। অবন্তীর বাবার ছোট খাট একটা মুদি দোকান আছে। যা আয় হয় কোনও মতে সংসার চলে যায়। রোহান একটা ভাল চাকরি করে। শিক্ষিত ছেলে। তাই দেখে মেয়েকে বিয়ে দেন। বিয়েতে অনেক খরচ করেন। তাদের কথা আমরা দুইশজন বরযাত্রী যাবো। একটা ছেলে বলে কথা। কাউকে তো আর বাদ দেওয়া যায় না। তাদের কথা মতো দুইশজন বরযাত্রী আর জামাইকে একটা মটর বাইক দিতে গিয়ে অনেক খরচ করে ফেলেছেন। সব টাই ধার করে করেছেন। এতেও যদি মেয়ে টা ভাল থাকে  আর জামাই কে সোনার কিছু না দিলে ভাল দেখায় না। তাই একটা আংটি আর মোটা চেইন দিতেই হবে এটা ছিল অবন্তীর শাশুড়ি মায়ের দাবি।

সকাল থেকেই সব কাজ পড়ে আছে। ব্যথায় বিছানা থেকে উঠতে পারছে না। মেয়ে টা কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছে আবার। কিন্তু কোলে উঠাবে তার শক্তি ও নেই। শাশুড়ি কয়েক বার বলে গেছে বড়ো মেয়ে জামাই আজকের ইফতার করবে। অনেক রান্না বাকি আছে। তাড়াতাড়ি করে রান্না ঘরে যেতে। ছোট ননদ এ সবের ভিতরে নেই। সে সব সময় ফেসবুক আর ফোনে কথা নিয়ে বিজি থাকে। তাতে অবশ্য কারো সমস্যা নেই। কারণ তো ছোট। কাজের কিছুই বোঝে না। আর শাশুড়ির মাজায় ব্যথা কাজ করার প্রশ্নই আসে না।
আর অবন্তীর এখন কাজ করার বয়স। বউ কালে তিনি ও কতো কাজ করেছেন। এ সব কথা অনেক শুনতে হয় অবন্তীর। তাই নিজের কাজ নিজেই করে। অনেক কষ্ট করে বিছানা ছাড়লো অবন্তী। রান্না ঘরে যেতেই হবে। না হলে উপায় নেই। কিছু দিন আগে ঈদের শাড়ি পেয়েছে অবন্তী। একেবারে সুতি যাকে বলে। সমস্যা কি তাতে। ওর জন্য পিওর সুতি কাপড় ভাল। ছোট বাচ্চা কোলে। শাশুড়ি শাড়িটা দেওয়ার সময় বলেছিল।

অবন্তী কিছু না বলে শাড়ি টা রেখে দেয়। মনে পড়ে
যায় ষআগের দিনের কথা। কতোই ভাল ছিল। বাবা কতো কিছু কিনে দিত সাথে করে নিয়ে গিয়ে। আর আজ। ওর দু চোখ বেয়ে জল পড়তে থাকে। কাউকে কিছু বলতে পারে না। বাবা মা কে কি করে বলবে আবার মোবাইল দিতে হবে। আগের সব টাকা এখনও শোধ হয় নি। এই সব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ করে মেয়ে টার কান্না শুনতে পায়। আরও একবার গরম জল বেয়ে পড়ে। বাঁচতে হবে শুধু ওই ফুটফুটে মেয়ে টার দিকে তাকিয়ে। যার জীবন জড়িয়ে আছে নিজের জীবনের সাথে।
(সমাপ্তি)
Previous
Next Post »