Romantic Story Death Celebration Romance Tale ~ WriterMosharef

Romantic Story Death Celebration Romance Tale

Romantic Story Death Celebration Romance Tale
Death Selebration

সোফায় বসে পা টা একটা আরেকটার উপর উঠিয়ে আরাম করে বসলাম। পকেট এ থাকা সিগারেটের প্যাকটা বের করলাম, আর একটা সিগারেট জ্বালালাম। বা হাতে রিমোট টা নিয়ে টিভিটা অন করলাম আর ধোয়ার কুন্ডলি পাকিয়ে আকাশে ছাড়তে লাগলাম।

ব্রেকিং নিউজে চোখ পড়তেই একটু নড়ে বসলাম। শহরে নতুন এক খুনির আগমন, যে নিয়ে নিবে হাজারো প্রাণ।

নিউজটা দেখে হেসে ফেললাম, কি বাকোয়াজ খবর। হঠাং মিথি হুমরি খেয়ে আমার কেবিনে প্রবেশ করলো। মেয়েটা বড্ড দষ্যিপণা করে, এখনো পযন্ত আমার রুমে কেহ ঢুকলে ৫ বার চিন্তা করে তারপর অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করে।কিন্তু মেয়েটা Don't Care. এইজন্য জুনিয়র মেয়ের প্রেমে পড়তে হয় না। সিনিয়র এজেন্ট হয়েও যেন মিথির সামনে কিছুই না। অবশ্য মনের কথা এখনো মুখে বলা হয় নি,দুজন দুজনার চোখেই হাজারো কথার সমাপ্তি দিয়েছি। মিথি এভার টিভিটা অফ করে দিয়ে আমার সামনে এসে বললো..?

-স্যার, আই ওয়fন্ট ট্যু সে সামথিং!
আমি সিগারেটের এষ্ট ফেলতে ফেলতে উওর দিলাম, হুম বলো।

-একটা সাইকো কিলার শহরে হামলা করছে স্যার, সে এমন এক র্মাডারের ক্লিপ দিয়েছে যা দেখার পর গভারমেন্ট সহ হেলে গিয়েছে। আমাদের এজেন্টের উপর চাপ পড়ছে খুব।আপনাকে গত ৬ দিন যাবত আমাদের পুড়া এজেন্ট পাগলের মতো খুজে চলেছে কিন্তু আপনি আজ অফিসে আসলেন।

-তুমরা জান,যতক্ষন পযন্ত আমি না চাইবো ততক্ষন পর্যন্ত আমায় কেহ খুজে বের করতে করতে পারবে না ।আমি আমার নিয়মে চলি, নিজের ইচ্ছায় বাচি।
কথাটা শেষ না হতেই আমাদের এজেন্টের হেড অফিসার মি: ইমতিয়াজ স্যার আমার সামনে এসে দাড়ালেন। হাতের সিগারেট টাও শেষ পর্যায়। স্যার ঠিক আমার মুখ বরাবর বসলেন।

-ইমু, তুমাকে খুব গুরুত্বর্পূণ কিছু কথা বললো এখন, মানে একটা কেইস দিব তুমায়। আজ পর্যন্ত যতগুলো কেইস দিয়েছি তুমায় সব গুলো তুমি Solve করেছো আশাকরি এটাও হবে।

কিন্তু, এটা সবচেয়ে ভিন্ন একটা মিশন।
একটা সিগারেট ধরাতে পারবো স্যার..?
আমি কথাটা বলার পর পর সকল এজেন্টের চোখ গুলো বড় হয়ে গেল।

স্যার আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বললেন..? 
এক্সট্রা হবে কি আমার জন্য..?
আমি হেসে স্যারের দিকে সিগারেট টা এগিয়ে দিলাম। সিগারেট টানতে টানতে স্যার আমার দিকে একটা ভিডিও প্লে করে দিলেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে একটা লোক, যার দেহের ভেতর এমন এক টাইম বোম কেহ ফিট করে দিয়েছে যা দেহ থেকে বের করা অসম্ভব। যদিও কেহ তা বের করেও ফেলে তাহলেও বোমটি ফেটে যাবে, আর এটার রেন্জ এতই যে বোম ফাটার ৫০ গজ এড়িয়া পুড়টাই ধ্বংস করে ফেলবে।

ভিডিও টা দেখার পর স্যারের দিকে তাকালাম আর বললাম
-একটা জিনিস লক্ষ করেছেন স্যার..?
-কি..?

-যে লোকটার দেহের ভেতর ,মানে হার্টের সাথে যে বোমটি লাগানো হয়েছে তার দেহে কিন্তু কোন কাটা ছ্যেড়া পাওয়া যায়নি। কোন প্রকার অপরেশন ছাড়া বোমটি শরিরে জায়গা করে নিয়েছে।

-হাও দিস পসিবল ইমু?
-ডোন্ট নো, ওয়েট। ভিডিওটা প্রথম কে পেয়েছে বলেন তো?
-প্রথম আমাদের অফিসের পুড়া র্সাভার হ্যাক করে আমাদের মনিটরেই ভিডিও টা ওপেন হয়েছিল। তার ১৮ মিনিট পর প্রত্যেকটা টিভিতে দেখানো হয়েছে। মানে সবগুলো চ্যানেল একসাথে হ্যাক হয়েছে।
-তাহলে অপেক্ষা করুন, খুনি অবশ্যই আমাদের কিছু বলতে চায়। সে অবশ্যই আমাদের সাথে যোগাযোগ করবে।

-আর তখন তার লোকেশন আমরা লক করে দিব তাহলে?

-স্যার যে ব্যাক্তি আমাদের র্সাভার হ্যাক করতে পারে আর যাই হোক তাকে কখনো ট্রেস করতে পারবেন না তাই শুধুই সময় নস্ট করে লাভ নেই। কারণ খুজে বের করুন। কেননা আমাদের জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পযন্ত এই ছোট একটা সময়ে আমরা কারণ নিয়ে বেচে থাকি। আমি এখানে বসে আছি তারও যেমন একটা কারণ আছে ঠিক এই ভিডিওটার ও একটা কারণ আছে।

-তুমার এ কথার মানে আমি বুজতে পারি না ইমু ,মোটওে না। আমি কিছু বললাম না আপদত কিছু বলতে মোটওে ইচ্ছে করছে না।

আমার চুপ থাকা দেখে সবাই রুম ত্যাগ করলো
তারপর রুমে একা একা বসে রইলাম আর ভিডিও টা বারবার দেখতে লাগলাম। কিছু তো একটা ভিডিওতে আছে যা মিসিং, আর সেটা কি? নিজেই নিজরে মনে অঙ্ক করসি। ।মিথি এভার দৌড়ে এসে আমার সামনে এসে দাড়ালো ,তার চোখে যেন সমস্ত রাজ্যের চিন্তা।
সে কিছু বলতে চাচ্ছে কিন্তু গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছে না। আমি তার দিকে পানির গ্লাস এগিয়ে দিলাম, সে ঢক ঢক করে পানি শেষ করে নিল আর বলতে লাগলো।

-স্যার,আমাদের দেশের মেইন ৩ টা ব্যাংকের সব টাকা গায়েব। সব গুলো টাকা হ্যাক করে নিয়ে মেইন একাউন্টে একটা হাসির ইমুজি দিয়ে রেখেছে। সাথে একটা ফাসির নিশান।

-কি বলো এসব ?
-জ্বী স্যার,, প্লিজ আপনি একটু দেখুন।
আমি দৌড়ে আমার কেবিন থেকে বের হয়ে আমাদের রির্সাস রুমে ঢুকলাম। যে একাউন্টে টাকা গিয়েছে তা খোজ নিতে চাইলাম কিন্তু এ প্রথম র্ব্যাথ হলাম। একেবারে হাইড করে ফেলেছে সব ডাটা। আমি কোন একটি ক্লু খুজে পাই নি। যে এই কাজ টা করছে সে হ্যাকিং জগৎতের বাদশা। তাকে এত সহজে হাতে পাওয়া যাবে না তা আমি বুজে গেছি। উপর থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে আমাদের এজেন্সিকে। দেশের মানুষ রাস্তায় নামছে মিছিল নিয়ে, সরকার যেন অচল হয়ে পড়ছে। আর তা মাত্র ২ ঘন্টা সময়ে সব কিছু এলোমেলো। একজন পুড়া দেশকে এক নিমিষে বদলে দিয়েছে। আমাদের সবাই সারা রাত্র অফিসেই কাটিয়ে দিল। কোন একটা ছোট ক্লু পাবার আশায় নানা রকমের কাজ করে যাচ্ছি কিন্তু ফলাফল শূণ্য । এই প্রথম মনে হচ্ছে ইমু আহমেদ হেরে যাবে ।মাথা টা নিচু করে বসে আছি ঠিক তখন মিথি আমার মুখের সামনে সিগারেট বাড়িয়ে দিল, আমি মুখে নিতেই সে লাইটার দিয়ে সিগারেট টা জ্বালিয়ে দিল। আর বললো ,আমি কখনো তুমায় এত চিন্তিত দেখি নি ইমু, আজ এত চিন্তিত কেন তুমি? স্যার স্যার বলতে ক্লান্ত হয়ে গেছি আর ভালো লাগে না মনের কথা লুকিয়ে বাচতে। তুমি করে বলার অধিকার টা দিবা প্লিজ? আমি আর তুমার মন থেকে লুকিয়ে বেড়াতে পারবো না।দম বন্ধ হয়ে আমার তুমায় কাছে পাবার আশায়।

আমি চুপ থেকে মাথা নাড়ালাম যে,হ্যা দিলাম সম্মতি, কিন্তু আমার জিবনে আসলে তুমি সত্যিই দম আটকে মারা যাবে।

So,welcome to hell dear…

হঠাৎ দেখলাম আমার সামনে থাকা লাল বাতি জ্বলে উঠলো, তার মানে অব্যশই ইমারজেন্সি কিছু।মিথি এসে টিভিটা জলদি অন করলো আর সেখানে দেখা যাচ্ছে হাসির ইমুজি দেওয়া একটা অন্ধকার মানুষকে, সাথে ফাসির চিহ্ন।সে কিছুক্ষন চুপ থেকে বলতে লাগলো কাল থেকে হয়তো আমার নামের বেশ কথা হচ্ছে।আমি কে, কেনইবা একজন মানুষের দেহে বোম সেট করেছি আর কেনই বা এতগুলো টাকা হ্যাক করে নিয়ে নিয়েছি। প্রশাসনের লোকদের বলছি, কথা গুলো শুনুন কেননা শুধুই সময় নষ্ট করতে পারবেন কিন্তু আমাকে ট্রেস করতে পারবেন না। আসলে আমিও একজন সাধারন মানুষ হয়েই বাচতে চেয়েছিলাম। উপভোগ করতে চেয়েছি এই জিবন কে কিন্তু আমাকে সে সুজুক দেওয়া হয় নি। মা বাবা কে নিজের চোখের সামনেই মরতে দেখেছি তখন আমি ছোট ছিলাম। ৫/৬ বছর হবে তখন রাস্তায় দাড়িয়ে একা একা কান্না করেছি ক্ষুধার তাড়নায়, তখন অনেকই আমার দিকে তাকিয়ে ছিল কিন্তু দু মুঠু খাবার কেহ দেয়নি।

তখন বুজেছিলাম ক্ষুধার কষ্ট টা কতটা ভংষ্কর।তখন হঠাৎ ১৬/১৭ বছরের দুটি তরুনি আমার সামনে আসলো জিঙ্গাস করলো?

-নাম কি তর ভাই?
-তর মা বাবা কেহ নেই?
-না, ওরা মারা গেছে
-আমাদের সাথে যাবি?

মাথা নাড়িয়ে হ্যা বলেছিলাম, তখন আপু দুটু আমায় তাদের ছোট বাসায় নিয়ে আসে। তাদের ও কেহ ছিলনা, শুধু বাবার রেখে যাওয়া বাসা টা ছাড়া।
আপনারা টিভিতে যেমন রঙিন ছবি দেখেন তার চেয়ে রঙিন হয়েছিল তখন আমার জীবন। আপুরা টিউশন করতো, সংসার চালাতো, আমায় একটা স্কুলে পড়াতো ও।আমার সকল আবদার যেন তাদের পুরণ করতেই হবে এমন মনোভাব ছিল। হঠাৎ করে জীবন টা খুব সুখের হয়েছিল আমাদের সকলের। জীবনে যেন সব কিছু পেয়েছিলাম নতুন করে। ঠিক তেমনই যদি থাকতো তাহলে আজ আমি আপনাদের সামনে এভাবে থাকতাম না। আসলে আপনাদের মতো সুশিল কিছু লোক আমাদের থাকতে দেয়নি আর তাই আমি আজ এখানে। অনেক কিছু উপহার নিয়ে আজ আমি এসেছি আপনাদের সামনে।

হুম,খুব দ্রুত তা পেয়ে যাবেন।

এতটুকু বলেই লোকটা হাওয়া হয়ে গেল, টিভিতে গান শুরু হয়ে গেল। র্সাভার পুনরায় রিলোড হচ্ছে। তাই টিভিটা অফ করলাম।এভার আর কিছু করলাম না কেননা জানি লোকটা কে ট্রেস করা যাবে না। অফিস থেকে বাহিরে বের হলাম। প্রায় ৩ ঘন্টা যখন বাহিরে ঘুরে অফিসে আসতে লাগলাম তখন দেখলাম আমার সামনে একটা ২৮ বছরের যুবক মাটিতে লুটে পড়লো ।দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলাম।

৩০ মিনিট পর ডাক্তার বের হয়ে অবাক করে দিয়ে আমায় বললো..?

-ইমু আস আমার সাথে, তুমায় কিছু দেখাবো
আমি যেতেই দেখলাম ডাক্তার ওই যুবকের শরির স্ক্যান করতে লাগলো। এভার আমিও ভয় পেয়ে গেলাম কেননা যুবকের দেহে বোম। শরিরে কোন কাটা ছিড়া নেই কিন্তু কিভাবে বোম সেট করে তা আমি ভাবতে পারলাম না।আমি শুধু হা করে তাকিয়ে ছিলাম।
আস্তে আস্তে এই সমস্যা টা বাড়তে লাগলো, মানুষ নিজেও যানে না যে তাদের দেহে বোম সেট করা। মানুষ হিংস্র হতে লাগলো, প্রশাসন যেন হিলতে শুরু করলো। এখন সবাই বাচে ভয় নিয়ে। কেমন যেন একটা হরর মুভির মতো লাগে দেশটা। একটু সময়ে কিভাবে কি হয়ে গেল? আর কে বা করছে এটা? অফিসে এসে এসব ভাবতে লাগলাম। ভাবনায় ডুব দিচ্ছি সাথে সিগারেট পুড়াচ্ছি। তখন মিথি এসে বললো..?

-তুমাকে কিছু দেখানোর আছে।
এটা বলেই সে পিসির মাউসে ক্লিক করলো।মিথি ঠিক আমার পাশে এসে দাড়িয়ে রয়েছে, মেয়েটার শরীর থেকে কেমন মাদকতার গন্ধ বের হচ্ছে। এই প্রথম তার দেহের দিকে কুদৃষ্টি দিয়েছি। মন তো অনেক কিছুই চাচ্ছে এখন কিন্তু, তা প্রকাশ করি কিভাবে? ইমু তো ভালোবাসতে জানে না। ইমু,,, মিথির ডাকে
ভাবনায় ছেদ পড়লো আর চোখ রাখলাম মনিটরে। দেখ ইমু, এখন পযন্ত ১৩২ জনের দেহে বোম পাওয়া গিয়েছে যার মধ্যে ১১২ জনের ইক্রিমিনাল রেকড রয়েছে। কিন্তু তারা কোন না কোন ভাবে ছাড়া পেয়ে গিয়েছে।এভার আমার ভাবনা বেরে গেল হ্যা কিছু তো
রয়েছে এই হত্যায়। আর সেদিন সব কথা পুড়াপুরি বলা ও হয়নি। কেন এ হত্যা? তা জানতে হবে ,কারণ খুজতে হবে।

এর ঠিক ২ দিন পর আবার ওই ইমুজি লোকটা টিভির মনিটরে দেখা দিল ।ঠিক আগের মতোই গম্ভীর গলায় বলতে লাগলো মানুষের লালসা থাকে তা স্বাভাবিক কিন্তু এই লালসায় যদি কোন পরিবার শিকার হয় তখন কেমন লাগে আপনাদের কোন ধারণা আছে? অনেকের নেই, আমার কাছে। আমার বোন দুটুকে এক রাতে কিছু পশুরা মিলে সহস্র অন্তবাস খুলে লুফে নিয়েছিল।

আমি চোখ বন্ধ করে কান্না করেছিলাম তখন কিন্তু ওরা আমার চোখ দুটুকে টেনে খোলা রেখেছিল আর বলেছিল –দেখ তর পালিত বোনের দেহ কত মধুর। ১০ বছরের একটা ছেলে তখন তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কি করতে পারে ? নিজ চোখে নিজের বোনদের এই
অবস্থায় দেখতে হয়েছে আমায়।তারা চলে যাবার পর আপুর কাছে গিয়েছিলাম ধীর পায়ে হেটে ।আপু তখন সেই নগ্ন অবস্থায় আমায় জড়িয়ে কেদেছিল। আর বলেছিল শুভ জন্মদিন রে ভাই, আর ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখ। এই দিন ই তকে পেয়েছিলাম কিন্তু উপহার
হিসেবে আজ কিছুই দিতে পারিনি তকে এ চোখের জল আর (বলেই হু হু করে কাদতে লাগলো)। কিন্তু ভাই মনে রাখিস তকে জীবনে বড় হতে হবে,অনেক বড়।আমি তখনও আপুর বুকে জড়িয়ে কান্না করছিলাম আর আমার ছোট জামাটা দিয়ে তাদের ঢাকতে ব্যাস্ত
হচ্ছিলাম।আপু কিছু না বলে শুধু আমার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল।

সকাল হলো, বাসায় মানুষের ভীর জমেছিল ।ঠিক তখন আপনাদের মতো মানুষরা আমার বোনকে নষ্ট বলে উপাধি দিচ্ছিলেন। কেহ পাশে আসে নি তখন আমাদের ।দুপুরে বাজার থেকে দু বোনের জন্য ১০ টাকা দিয়ে দুটি রুটি কিনে এসে দেখি তারা একজন ফ্যানের সাথে ঝুলছে আরেকজন সিলিংয়ের রডের সাথে।

আমি সেদিন আর কান্না করিনি, চোখ মুছে তাদের দাফন সেরে চলে এসেছিলাম। বড় হতে হবে যে তারপর থেকে মানুষ নয় একটা জন্তুর মতো বেচে ছিলাম। বহু বছর হয়ে গেছে রাত্রে ঘুমাই না। চোখ বুজলেই সেই দৃশ্য দেখতে পাই, শুনতে পাই আমার বোনদের
আত্নচিতৎকার। এই ১৬ বছরে যতগুলো ধষণ হয়েছে তার সব কটি হিসাব আমার কাছে আছে। হাজারো মা বাবা তার কলিজাকে হারিয়েছে, লক্ষা ভাই তার বোনকে হারিয়েছে এর সব হিসাব আমার কাছে আছে।সময় এসেছে তা শোধ করার। এই আইন, সরকার
তারা সেদিন কোথায় যেন আবদ্ধ ছিল, তাদের সেদিন আমার বোনদুটুকে দেহ ব্যবসায়ি হিসেবে সংবাদ রটিয়েছিল সবাই আমার মনে আছে আদো ধর্ষিত হওয়া পরিবারকে তো সরকার টাকা প্রধান
করতো। আমিও যাদের যাদের মারবো তাদের পরিবারকে টাকা দিয়ে দিব। পরিবারের দোষ নেই, শিক্ষার ও না এগুলো একটা রোগ, যা আমি বিনাস করতে এসেছি আজ। তারা সবাই মরবে এ খেলায়। আমি মনে করি এমন পশুর জন্য আপনার অবশ্যই খারাপ লাগবে না আর যদি লেগে থাকে তাহলে আপনিও পশু। আমার জন্মদিনের আর ১ দিন বাকি আছে। আর সেদিন ই হবে আমার মৃত্যু উৎসব অর্থাৎ,  Death Selebration আমার নাম হয়তো সবাই জানতে ইচ্ছুক, হুম আমার নাম তো নেই কিন্তু একটা কোড আছে। সুতরাং,  আমাকে 59 বলে ডাকতে পারেন।

আর হ্যা বোম শুধু ১ জায়গায় ফাটবে আর গুলো তরলের মতে মাটিতে লুটে পড়বে। তখনই আমি শান্তি পাব, চিরশান্তি। যেই শান্তির জন্য এত অপেক্ষা।

‘ফিরে আসবো আমি কবি হিসেবে
আমার ব্যাপটাইজ-জলপাত্রসহ
লরেল ফুলের মুকুট পরে’
একটুকু বলেই আবার টিভির স্কিন থেকে গায়েব হয়ে গেল।আমরা
আবারো চিন্তায় মগ্ন কিভাবে মৃত্যুর খেলা থেকে বাচা যায়।কিন্তু
বেলা শেষে শূন্য হাতে আমাদের থাকতে হয়।এরই মধ্যে থানা হতে
খবর আসলো যে ৩৪৬ জন ধষণ কারি এসে সেরেন্ডার করেছে।আমি
হাসছি,মানুষ মৃত্যুকে কত ভয় পায় কিন্তু অন্যকে মৃত্যুর কোলে
শোয়াতে বিবেকে একটুও নাড়া দেয় না ।
সারা দেশে কেমন যেন একটা ভয়ানক অবস্থা হয়ে আছে।কেউ
আবার 59 সাথে সহমত প্রকাশ করে কেউ বিরোধীতা।যারা পাপ
কাজ করেছে তারাই ভয় পাচ্ছে আজ।ইতিমধ্যে বেশ কিছু এমপিদের
ফোন এসেছিল বলছে তাদের ছেলেদের বাচাতে ।যত টাকা লাগে
তত নাকি দিবে ।আমি চুপ থেকে আমার কেবিনে এসে কবিতা
আওড়াতে লাগলাম
‘এটা মোটেও ঠিক হয় নি….
যদি এই স্বর্গীয় কবিতা র্স্বগ আর মত্যে গৃহীত হয় তাহলে,
আমাকে র্দীঘ বছর জুড়ে হাঁড়র্জীণ করে রেখেছিলো যে নিষ্ঠুরতা,
যা আমাকে আমার নিজের ঘরে ঘুমাতে দেয় নি,
তাড়িয়ে বেরিয়েছে সেইসব নেকড়ের দল
তা থেকে যেনো নিস্কৃতি পাই আমি’
-ইমু ,ঠিক আছো তুমি ?
পিছনে তাকিয়ে দেখি মিথি দাড়িয়ে আছে ।উওরে বললাম হ্যা
বেশ আছি তো।
-এমন কবিতা তো তুমি কখনো বলো না,আর কেন যেন মনে হচ্ছে না
এটা কোন কবিতা ।কি ছিল এটা ?
-ক্যান্টো xxv
-মানে কি এটার ?
-তেমন কিছু না
ওহ, বুজা গেল মিথি আমার কথায় সন্তুষ্ট না। অবশ্য তাকে এখন এটা
বুজানোর মতো সময় নেই আমার কাছে। আমার সেই লোকটিকে
খুজতে হবে ।জানতে হবে অনেক কিছু ।
আমাদের অফিসের সবাই রাত্র টা কাটিয়ে দিল অফিসে ।নতুন
সকাল কিন্তু কেহ যেন শান্তিু খুজে পাচ্ছে না কেননা আর কিছু
ঘন্টা পর ৫ তারিখ হবে ।শুরু হবে মৃত্যুর খেলা।মানুষ রাস্তায়
নেমেছে নতুন এক বিচার পাবার আশায়,হাজারো বাবা মা আজ
হাসছে। হাসবে না কেন আজ যে বিচার হবে সেই সব অপরাধের যা
তারা পায় নি কখনো ।২৭ ঘন্টা হয়ে গেল সরকারের পতন ঘটেছে
কারণ তার ছেলের দেহেও বোম পাওয়া গিয়েছে ।খোজ অনুযায়ি ৪৭
লাখের বেশি মানুষের দেহে বোম টা পাওয়া গেছে যা অকল্পনিয়।
কোন কাটা ছেড়্যা ছাড়া কিভাবে সম্ভব ।
স্কিনে এভার 59 লেখাটা উঠলো কিন্তু লোকটা আজ নেই।কোটি
কোটি মানুষ দেখছে এটা।কিন্তু আজ আর লোকটা আসলো না ।
স্কিনে ভেসে উঠলো একটা লিখা
’পবিত্র জ্ঞানের স্বর্ণালী মউজিওনে হাটু গেড়ে
মেঝেতে কান পেতে শোনো
গড়িয়ে পড়া পানির শব্দ
খুব গভীর এই লিখাটার বিশ্লেশন টা
সময় পার হচ্ছে, দিন গড়িয়ে সন্ধ্যার আদলে যেন পৃথিবীর যৌনিতে
নতুন এক রঙ দেখা দিল। রাত্র তার নিয়মে চলে এসেছে।চাদটাও
যেন আজ হাসছে ।চারদিকে মৃত্যুর কান্না। সময় ১১:৫৮ ,সকলের
দেহে একটা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। কে মরবে আজ তা হয়তো অনেকেই
আজ জানে না ।আমি আমার কেবিনে বসে আছি, পাশে মিথি আর
হেড স্যারও। সারা দেশের সিসি টিভি ফুটেজ দেখছি বসে বসে।
মিথি তুমি কি জানো তুমি কতটা সুন্দর, হঠাৎ বলে উঠলাম।
-এখন এটা বলার সময় ইমু ?
-আমায় ভালোবাস তুমি ?আমার সাথে থাকবে/কাটাবে এ জীবন
আমার সাথে।
-হ্যা থাকবো,আমিও তুমায় চাই ইমু।প্লিজ এখন এগুলো বলা বন্ধ করো।
-যদি আজ আমিও মরে যায় এ যুদ্ধে।
-স্টপ ইমু।
-একটা কবিতা শুনবে ,,
হঠাৎ এমডি স্যার গলা খাখড়ি দিয়ে বললো ,হ্যা শুনাও
”অনুসরণ করে যাও ঐ ডুবন্ত প্রাসাদে
ওখানে অন্ধকারে থানিক দানব প্রতীক্ষায় আছে,
ডুবে আছে সেই রক্ত-লাল জলধারে…
যে জলাধারে প্রতিফলিত হয় না আকাশের তারা “
কবিতা টা শেষ করার সাথে সাথে দেখলাম যে সরকারি প্রধান
ভবন টা ব্রাস্ট হয়ে গেল ।চারদিকে লক্ষ লক্ষ মানুষ মোমের মতো
গলে পড়ছে। শুরু হলো মৃত্যুর খেলা ।কোথাও তীব্র চিৎকার কোথাও
আমি বিকট হাসির শব্দ ।কিন্তু প্রশ্ন থেকেই গেল 59 টা কে? সে
দেখতে কেমন।
সামনের দিকে তাকিয়ে দেখি মিথি আমার দিকে বন্দুক তাক করে
রয়েছে আর বার বার বলছে তুমি অবশ্যই এই ক্রাইমের সাথে জড়িত্।
নয়তো কিভাবে দুজন একই রকম কবিতা বলতে পারে। তুমি ছাড়া
কেহ দান্তের কথা নিয়ে ভাবে না আর আজ 59 ও দান্তের লেখা ই
বললো। কিভাবে ইমু ?বলো কে করেছে এগুলো, বলো তুমি যুক্ত নয়
এই কাজ গুলোর সাথে।
তাকিয়ে দেখি এমডি স্যার চুপ করে বসে সিগারেট টানছে। আমার
দিকে একবার তাকালো, সিগারেট টা আমার হাতে দিল আর খুব
শান্ত ভাবে আমায় জিঙ্গাস করলো
-কেন ইমু ?
-১২ বছর একটা ছেলেকে কুড়িয়ে এনেছেন,একটা এজেন্ট হিসেবে
গড়েছেন তাহলে জানেন না তা কেন ?
-জানি ,আর তুমি যে একজন নামকরা হ্যাকার তা ও আমার জানা।
তুমি ছাড়া কখনো কেউ এগুলো পাগলপণা করতে পারবে না।
মিথি আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।
-হ্যা এটা আমিই খেলেছি খেলাটা। বলতে পারেন আমিতো
আপনাদের সামনেই ছিলাম তাহলে টিভির স্কিনে কিভাবে ?
আসলে ওই গুলো আগে থেকে আমি রেকড করে রেখেছিলাম। শুধু
সার্ভার হ্যাক করে ভিডিও গুলো ছাড়তাম।
মিথি এভার কান্না করতে করতে বলতে লাগলো আমি শুট করে দিব
তুমায় ইমু।
-হা হা হা বন্দুক ওটা খালি ,হাতে নিয়ে বুজতে পারোনি যে 6.8
পাউন্ড মিসিং ?এজেন্জির মধ্যে এটা কিন্তু প্রথম শিখানো হয়
ডিয়ার ?
-59 মানে কিহ ?
-আমার বেজ নাম্বারের প্রথম আর শেষের ডিজিট।
-তুমার সাথে আর কে কে আছে এই কাজে ?
-আমি সিঙ্গেল এজেন্ট তা অবশ্যই জানো ,
-তাহলে এতগুলি বোম কিভাবে মানুষের দেহে পৌছেছে ।
-তুমি ,তুমরা ,আমরা
-মানে কি ?
-আসলে বোম টা ছিল একটা ন্যানো টেকন্যোলজি, এটা একটা
ক্যাপসুলের মাধ্যমে আমি সেইসব মানুষের দেহে পৌছেদিয়েছি।
আমি প্রায় তুমাদের একটা ক্যাপসুল দিতাম কিছু কিছু
ক্রিমিনালদের খাওয়াতে যাতে তারা অধিক মার খেয়েও ঠিক
থাকতে পারে কিছু সময়ের জন্য ।আসলে এটা একটা বোম ছিল যা
দেহে প্রবেশ করার সাথে সাথে বিছের মতো হেটে মানুষের
র্হাটের সাথে এটাস্ট হয়ে যায়। যার ফলে খুব সহজে ইহা আমাদের
দেহের অভ্যন্তরিনে চলে যায় এবং জায়গা দখল করে নেয়। আর
এটা কোন ১/২ বছরের প্লেনিং না এটা ৮ বছর দরে কাজ চলছে।
সরকারি মেইন ভবন টা উড়িয়ে দিয়েছি কেননা এটা আপদত কোন
কাজের না। আজ আমার প্রতিটা বোনদের সঠিক বিচার টা
পেয়েছে ।আমার কলিজার বোন দুটুও। আর হ্যা টাকা পৌছে গেছে
যাদের কাছে যাবার।
হঠাৎ মিথি পিস্তলটা রিলোড করে আমার দিকে তাক করে বলছে
-স্যেরেন্ডার করে নাও ইমু প্লিজ। নয়তো আমি কিছু করে
ফেলবো….
-চলো একসাথে, দুজন হারিয়ে যাই।
-আমি শুট করে দিব ইমু।
এটা বলার পর এমডি স্যার পিছন থেকে মিথির মাথায় একটা আঘাত
করলো ফলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।
-ভয় নেই ইমু ,সে অঙ্গেন হয়ে গেছে আর কিছুই নয়।
-আমি কি ভুল করেছি স্যার ?
-আইনের চোখে তো মৃত্যুদন্ড, কিন্তু ভাইয়ের দৃষ্টিতে ঠিক। আজ
তুমায় দেখে সেই পিচ্ছি কুড়িয়ে পাওয়া ইমুকে পেয়েগেলাম। এখন
থেকে ঘুমাবে তো প্রতি রাত্রে? আর কত যুগ না ঘুমিয়ে পাড় করবে।
-স্যার মিথি!
-ওকে নিয়ে দুরে চলে যাও কোথায় ।আমার প্রাইবেট বিমান টা
নিয়ে চলে যাও ইমু। তুমি আমার ছেলের মতো,তুমি ভালো থাক
সেটাই আমার কাম্য।
-এজেন্টে যদি কোন সমস্যা হয়?
-আমি দেখবো তা ,কেহ বুজতে পারবে না। কিন্তু হ্যা কোন মিশনে
তুমার প্রয়োজন পরলে তুমায় কিন্তু চাই ইমু।
- ঠিক আছে ,আমার নজর আপনার উপরে থাকবে সবসময়।
মিথির পাশে গিয়ে বসলাম। মেয়েটার ঘুমন্ত ফেইসটা কত সুন্দর
দেখায়।টেবিল থেকে সিরিজ টা নিয়ে একটা মেডিসিন সিরিজে
প্রবেশ করালাম আর তা মিথির ঘাড়ে পুশ করলাম।
-কি এটা ইমু ?
-বেনজোডায়াজেপিন্স নামের কেমিকেলের কথা শুনছেন ?
মাথা নাড়ালেন স্যার যে হ্যা ,,,
-এটা ব্যবহার করা হয় পোস্ট-ট্রমাটিক চিকিৎসায়।কেউ যখন ভয়ানক
আর বাজে ঘটনা বা দুঘটনার শিকার হয় যেমন যৌন র্নিযাতন ,তখন
তার র্দীঘ মেয়াদী স্মৃতি স্থায়িভাবে মুছে দেওয়া যায়।নিওরো
সায়েন্টিস্টরা আজকাল তো পোষ্ট-ট্রামাটিক স্ট্রেসের রোগীদের
উপর এই বেনজোডায়াজেপিন্স ব্যবহার করে।এর ফলে রোগিদের
মনে হয় আজও পযন্ত তেমন তাদের জীবনে কিছু ঘটে নি।
-এটা কতক্ষন পযন্ত কাজ করবে ?
-নতুন স্মৃতি যখন তৈরি হয় তখন তা জমা হয় সল্পকালীন স্মৃতির
ভান্ডারে যা ৪৮ ঘন্টা পর ওগুলো চলে যায় র্দীঘ মেয়াদী স্মৃতির
ভান্ডারে। সুতরাং বেনজোডায়াজেপিন্স ব্যবহারের ফলে স্মৃতির
ভান্ডারকে পুরোপুরি রিফ্রেস করা সম্ভব ।সে কখনো জানবেই না
আজকের দিনে কথা।
এটা বলে আমি আরো বেনজোডায়াজেপিন্স নিয়ে মিথির শরিরে
পুশ করতে লাগলাম।
-ইমু এত ডোজ দিলে সে মারা যাবে
-নো স্যার,তাকে আর হারাতে দিব না।
-আমায় ও একটা কপি দিয়ে যেও ইমু ,তুমার চাচী কে দিব,খুব প্যাড়া দেয় আজকাল।
-হা হা হা
.
স্যারের বিমান টা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম অজানায়, মিথির দিকে
তাকিয়ে দেখি এখনো ঘুমিয়ে আছে। নতুন এক জীবনের আশায়
ছুটলাম আজ। খোলা আকাশের দিকে তাকাতেই দেখি আমার আপু
দুটু সাদা কাপড় পড়নে দাড়িয়ে আকাশে উড়ছে আর পাশে থাকা
মিথি কে দেখে হাসছে, আর বলছে ”শুভ জন্মদিন ভাই আমার”বড়
হয়ে গেছিস দেখি তুই ।আপুর কথা শুনে
হঠাৎ চোখ দুটু অশ্রু র্বিসজন করলো,তা দেখে আপু বলে উঠলো
”ওহে অসাধারণ মেধার অধিকারীর
অস্পস্ট সব পংক্তির আড়ালে
যা লুকিয়ে আছে তা শিখে নাও“
প্রতিউওরে বললাম, ওপারে ভালো থেকো আপু।
Previous
Next Post »