অতৃপ্ত ভালোবাসা পর্ব ০১ ~ WriterMosharef

অতৃপ্ত ভালোবাসা পর্ব ০১

অতৃপ্ত ভালোবাসা পর্ব ০১
অতৃপ্ত ভালোবাসা

হাতে কফি নিয়ে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আছে প্রাপ্তি।দক্ষিনা বাতাস এসে এলোমেলো করে দিল প্রাপ্তির চুল।কানের পাশে গুজে দিলো চুলগুলো।কফিতে চুমুক দিতে দিতে ব্যালকনিতে রাখা দোলনাটায় বসলো।কানে গুজে দেওয়া এয়ারফোনে গান শুনছে। আজ প্রাপ্তিকে ফুরফুরে লাগছে।আর মাত্র দুদিন পর প্রাপ্তির বিয়ে।
কতো স্বপ্ন দেখেছিল এই বিয়েটা নিয়ে।আজ তার স্বপ্ন পূরন হতে যাচ্ছে। স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে তাদের ভালোবাসা। ভালোবাসায় কতো প্রতিবন্ধকতা থাকে তা কাউকে ভালোবাসার আগে জানা যায় না।দুই বছর রিলেশনের পর স্বীকৃতি পাবে তাদের ভালোবাসা।হঠাৎ কেঁপে উঠলো প্রাপ্তির ফোনটা।স্কিনের দিকে তাকিয়ে দেখে পরাগের কল।একটা মুচকি হাসি দিয়ে ফোনটা
রিসিভ করলো প্রাপ্তি।

পরাগ,,,,,,,মধুমিতা।কোথায় তুমি??
প্রাপ্তি,,,,,,, আমি আমার রুমে।কেন??
পরাগ,,,,,একবার নিচে আসো।
প্রাপ্তি,,,,,, এখন নিচে কেন??আর তুমি কোথায়??
পরাগ,,,,,,আমিতো তোমার বাসার গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।

একবার আসোনা।তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।
পরাগের কথা শুনে প্রাপ্তি ব্যালকুনি দিয়ে একটু উঁকি দিয়ে নিচে দেখার চেষ্টা করলো।দেখলো তাদের গেইটের সামনে থাকা লেমপোষ্টের নিচে সাদা টাওজার,সবুজ হাফ হাতা টিশার্ট চুল গুলো এলোমেলো করা,, গাড়িতে হেলান দিয়ে পরাগ দাঁড়িয়ে আছে। রাতের আলোতে চিকচিক করছে পরাগের চেহারা।অন্যরকম সুন্দর লাগছে পরাগকে। পরাগ এমনিতেও অনেক স্মার্ট,,, কিন্তু এখন অন্য রকম সুন্দর লাগছে।

প্রাপ্তি,,,,,,তুমি এতো রাতে এখানে এসেছো কেন??আমি এখন নিচে নামতে পারবো না। প্লীজ বাসায় চলে যাও লক্ষিটি।

পরাগ,,,,,,প্লীজ, প্লীজ,,একটি বার আসো। তোর সাথে কতদিন ধরে
ঘুরতে যাই না।আজ দুজনে কোথাও হারিয়ে যাই।চাঁদনী
রাত,আকাশে হাজার তারা,আর দুজনের হাতে হাত রেখে হাঁটছি।এক
অন্য রকম মুহূর্ত।এই মুহূর্তটা মিস করতে চাই না আমি।
প্রাপ্তি,,,,,,,,ঘড়িতে দেখ রাত ১২টার উপরে বাজে।এখন বাসা থেকে
বের হওয়া যাবে না।কালদিন পর আমাদের বিয়ে এখন যদি আব্বু
জানে আমি এতো রাতে তোমার সাথে ঘুরতে গেছি তাহলে
নির্ঘাত বিয়ে কেন্সেল করে দিবে।
পরাগ,,,,,,,জানবে কেন???তুমি চুপি চুপি বের হয়ে আসো।ঠিক সময় আমি
তোমাকে বাসায় দিয়ে যাবো।প্লীজ আর না করোনা।
প্রাপ্তি,,,,,বুঝার চেষ্টা করো।বাসার গেইটে তালা দেওয়া।চাবি
আব্বুর কাছে।এখন বের হওয়া সম্ভব না।
পরাগ,,,,,,তুমি না আসলে আমি সারা রাত এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবো।
প্রাপ্তি,,,,,,,ওফ!পাগল একটা।আমিযে এই ছেলেকে নিয়ে কি করি
আল্লাহ জানে।দাঁড়াও আমি দেখি কি করা যায়।প্রাপ্তি চুপটি
করে তার আব্বু আম্মুর রুমে ডুকে যায়।সেখান থেকে চাবিটা নিয়ে
বাহিরে বেরিয়ে আসে।
প্রাপ্তিকে আসতে দেখে পরাগ একটু এগিয়ে এসে প্রাপ্তির কোমড়
জড়িয়ে ধরে।প্রাপ্তি একটা নরমাল থ্রিপিছ পড়ে আছে।তাতেও
যেন তার রূপ উপছে পড়ছে।পরাগ অপলক ভাবে প্রাপ্তির দিকে
তাকিয়ে থাকে।
প্রাপ্তির চোখে থাকা চশমাটা খুলে প্রাপ্তির চোখের দিকে
তাকায় পরাগ।কি আছে এই চোখে?এই চোখের মায়ায় তো আটকে
গেছে সে।কি গভীর এই চোখ।ইচ্ছে করে এই চোখে খুন হয়ে যেতে।
ডুব দিতে এই চোখের গভীরে।দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে।
পরাগের নিঃশ্বাস এসে পড়ছে প্রাপ্তির মুখে।
পরাগ তাকিয়ে দেখে প্রাপ্তির গোলাপি ঠোঁট দুটি কাঁপছে।
পরাগের ইচ্ছে করছে আলতো করে একটু ছুঁয়ে দিতে গোলাপি দুটি
পাপড়ির মতো ঠোঁট।পরাগের ঠোঁট দুটি প্রাপ্তির ঠোঁটের এতোটাই
কাছে যে,দুজনের নিঃশ্বাস দুজনের শরীরে পড়ছে।প্রাপ্তি
পরাগের ঠোঁট দুটো এতো কাছে দেখে পরম আবেশে চোখ দুটি বন্ধ
করে ফেলে।
কিছুক্ষনের মধ্যই পরাগের ঘোর কাটে।পরাগ প্রাপ্তির দিকে
তাকিয়ে দেখে প্রাপ্তি চোখ বন্ধ করে আছে।
পরাগ,,,,,,এই যে ম্যাডাম,,আপনি কি চোখ খুলবেন নাকি এভাবেই
দাঁড়িয়ে থাকবেন।
পরাগের কথায় প্রাপ্তি চোখ খুলে তাকিয়ে দেখে পরাগ তার
দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসছে।পরাগের হাসি দেখে
প্রাপ্তি ভীষণ লজ্জা পায়।লজ্জায় মাথাটা নিচু করে রাখে।
পরাগ,,,,,আজ কি হলো আপনার?কতদিন বলেছি একটা চুমু খাই।
কোনোদিনও অনুমতি দেওনি।আজ এতো কাছে আসলাম তাও কিছু
বলছো না।ব্যাপার কি???
প্রাপ্তি,,,,,না আ...স...লে
পরাগ,,,,,,থাক আর বলতে হবে না।দুদিন পর আমি বিয়ে করছি।তখন
আমি আমার বউকে ইচ্ছে মতো চুমু খাবো।তোমার কাছে আসবো না,,,,
হুম।।
পরাগের কথায় প্রাপ্তি একটু লজ্জা পায়।
পরাগ,,,,,,,,,হয়েছে আর লজ্জা পেতে হবে না।এবার চলো,
প্রাপ্তি,,,,,,,এই ড্রেসে??
(নিজের ড্রেস দেখিয়ে।)আর আমরা কোথায় যাবো???
পরাগ,,,,,এখন আর রাস্তায় লোকজন নেই।তাই এই ড্রেসে গেলেও
প্রবলেম নেই ম্যাম।আর মেইন কথা এই ড্রেসেও আপনার থেকে চোখ
সড়ানো যাচ্ছে না।।চলেন দেরি হয়ে যাচ্ছে।আমরা আজ অজানায়
হারাবো।
পরাগ আর প্রাপ্তি দুজনেই গাড়িতে উঠে বসে।গাড়ি চলতে থাকে
নিজের গতিতে।সারা রাস্তা ফাঁকা।প্রাপ্তির মনে ভয় ডুকে যায়।
এতো রাতে পরাগ থাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে??
পরাগটাও না একটু বেশিই পাগলামি করে। এতো রাতে এই নির্জন
রাস্তায় বের হওয়ার কোনো মানে হয়??এখন যদি কোনো বিপদ হয়।
পরাগের এই পাগলামির জন্যই তো প্রাপ্তি পরাগের সাথে প্রেম
করতে বাধ্য হয়।প্রাপ্তির মনে পরে যায় দুবছর আগের কথা।
যখন প্রাপ্তি অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী তখন থেকেই প্রাপ্তি আর
আকাশের রিলেশন ছিল।আকাশের সাথে দুবছর রিলেশন করার পর
বাধ্য হয়ে ব্রেকাপ করে প্রাপ্তি।আকাশ সব সময় প্রাপ্তিকে
প্রেসারে রাখতো।
মানসিক ভাবেও অনেক অত্যাচার করতো।এক সময় বাধ্য হয়েই
প্রাপ্তি আকাশকে ছেড়ে দেয়।প্রথম দিকে আকাশ প্রাপ্তিকে
অনেক হুমকি দিতো।কিন্তু ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যায়।দু বছর
আকাশের অত্যাচারে প্রেমের প্রতি একটা অনিহা চলে আসে।
মাঝে দুবছর কোনো রিলেশনে যায় নি প্রাপ্তি।
প্রাপ্তি যখন অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্রী তখন একদিন ভার্সিটিতে
একটা প্রবলেম হয়।একটা ছেলে ভার্সিটিতে প্রাপ্তির এক
বান্ধবীর হাত ধরে ফেলে।তখন প্রাপ্তি সেই ছেলেটাকে চড় মারে।
এই নিয়ে ভার্সিটিতে এক বিশাল ঝামেলা।।।
এটা ঝামেলা নিরসন করার দায়িত্ব দেওয়া হয় ভার্সিটির
ভি.পি.কে।তখন ভার্সিটির ভি.পি ছিল পরাগ।।।।
পরাগের কিছু ছেলে প্রাপ্তির কাছে গিয়ে বলে প্রাপ্তি যেন খুব
তাড়াতাড়ি পরাগের সাথে দেখা করে।কিন্তু প্রাপ্তি সরাসরি
বলে দেয় সে কারো সাথে দেখা করতে যাবে না।কারো দরকার
হলে সে যেন প্রাপ্তির কাছে আসে। প্রাপ্তির এমন কথা শুনে পরাগ
নিজেই আসে প্রাপ্তির সাথে দেখা করতে।
Previous
Next Post »