অতৃপ্ত ভালোবাসা পর্ব ০২ ~ WriterMosharef

অতৃপ্ত ভালোবাসা পর্ব ০২

অতৃপ্ত ভালোবাসা পর্ব ০২

পরাগ নিজেই আসে প্রাপ্তির সাথে দেখা করতে।ক্যাম্পাসে এসে
একজনের কাছে জিজ্ঞাসা করে প্রাপ্তি কে?সে প্রাপ্তিকে
দেখিয়ে দেয়।প্রাপ্তি বসে বসে গান লিখছিল।
পরাগ সোজা গিয়ে প্রাপ্তির সামনে দাঁড়ায়।প্রাপ্তি প্রথম এক
নজর পরাগকে দেখে আবার গান লিখায় মনোযোগ দিল।এবার
পরাগের রাগ উঠে গেলো।
পরাগ,,,,,,,তুমিতো একটা পিচ্ছি মেয়ে।অথচ দম আছে মনে হচ্ছে।এই
ভার্সিটির কিছু হলে সবাই আমাকে আগে ইনফ্রম করে।আর
তোমাকে আমি ডেকে পাঠানোর পরও তুমি গেলে না।তোমার সাহস
দেখে আমি অবাক।
প্রাপ্তি,,,,,,আমি মোটেও পিচ্ছি না।আর আমার সাথে কারো দরকার
হলে তাকে নিজেকেই আসতে হবে।
পরাগ,,,,,সকালে তুমি ঐ ছেলেটাকে মেরেছো কেন??
প্রাপ্তি,,,,,, সে আমার বান্ধবীর সাথে বেয়াদবি করেছিল।তাই
তাকে শিক্ষা দিয়েছি।
পরাগ,,,,,,ক্যাম্পাসে কেউ বাজে কিছু করলে আমি আছি তার
সমাধানের জন্য।তুমি গিয়ে আমার কাছে নালিশ করতে পারতে।
এখন থেকে যেন আর এরকম কোনো ভুল না হয়।কোনো প্রবলেম হলে
আমাকে জানাবে।আমি তার সমাধান করার চেষ্টা করবো।বলে
পরাগ চলে গেলো।
প্রাপ্তি,,,,,,,ক্লাসে এসে আমাকে দমকে যাওয়া??বাছাধন
,আমাকেতো চিনো না আমি কি জিনিস।এইবার দেখো তোমাকে
কেমন নাকানিচোবানি খাওয়াই।
এর পর থেকে ক্যাম্পাসে কিছু হতে না হতেই প্রাপ্তি পরাগকে
জ্বালানোর জন্য চলে যেত।একদিন ক্লাসে একটা লাইট নষ্ট হয়ে
যায়।এটার জন্যও প্রাপ্তি গিয়ে হাজির হয় পরাগের সামনে।পরাগ
তো বেচারা প্রাপ্তির জ্বালায় অতিষ্ঠ।সমস্যা থাকবা না থাক।
প্রাপ্তি গিয়ে পরাগকে জ্বালাবেই
সে যদি জানতো এই মেয়ে এমন তাহলে কখনোই এই মেয়ের সাথে
দেখা করতো না।আর একদিন খুব সকালে প্রাপ্তি পরাগের জন্য তার
চেম্বারের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।পরাগ ক্যাম্পাসে এসেই
দেখে প্রাপ্তি দাঁড়িয়ে আছে।পরাগকে দেখে প্রাপ্তি একটা
মুছকি হাসি দিয়ে পরাগের কাছে এগিয়ে যায়।
পরাগকে বলে ক্যাম্পাসে একটা বড় সমস্যা হয়েছে।এই জন্য তাকে
প্রাপ্তির সাথে যেতে হবে।পরাগ প্রাপ্তির সাথে যায়।প্রাপ্তি
পরাগকে দেখায় ক্যাম্পাসে একটা ফুলের গাছ কে যেন ভেঙ্গে
ফেলেছে।পরাগ এইটা দেখে হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারলো না।
তার মাথায় প্রচন্ড রাগ উঠে গেলো।তার তো ইচ্ছে করছিল এই
মেয়েকে মাথায় তুলে একটা আছাড় মারতে।
এমন করে প্রতিদিনেই পরাগকে কোনো না কোনো ভাবে
জ্বালাতো প্রাপ্তি।আর পরাগ বেচারা না পারত সহ্য করতে না
পারতো কিছু বলতে।
কিন্তু কয়েকদিন ধরে পরাগ প্রাপ্তিকে আর দেখতে পায়না।তার
যেন কেমন লাগলো।তাই নিজেই চলে আসে প্রাপ্তির ক্লাসে।
কিন্তু ক্লাসে এসে প্রাপ্তিকে দেখতে পেলো না।এমন করে পরাগ
সাতদিন প্রাপ্তির ক্লাসে এসে প্রাপ্তির খোঁজ নেয়।কিন্তু
প্রাপ্তির কোনো খোঁজ পায়না।পরাগ ভীষণ টেনশনে পড়ে যায়।
প্রাপ্তির কোনো কিছু হয়নিতো??নানা রকম চিন্তা ঢুকে পরাগের
মনে।
প্রাপ্তিকে দেখতে না পেয়ে পরাগের তো অবস্থা খারাপ।এক
সপ্তাহ পরে প্রাপ্তি ক্যাম্পাসে আসে।প্রাপ্তি ক্যাম্পাসে এসে
তার বান্ধবীদের নিয়ে আড্ডা দিতে থাকে।
এই এক সপ্তাহ প্রত্যেকদিন পরাগ প্রাপ্তির ডিপার্টমেন্টে এসে
খোঁজ নিতো।বেচারা এক সপ্তাহেই অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে
প্রাপ্তির টেনশনে।পরাগ আজও প্রাপ্তির ডিপার্টমেন্টে যায়।
গিয়ে দেখে প্রাপ্তি নেই।প্রাপ্তিকে না দেখে পরাগের মুখে
কালো মেঘের ছাঁয়া ভিড় করে।
মাঠে এসে চোখ পড়ে একটা গাছের নিচে যেখানে প্রাপ্তি তার
সব friend দের সাথে আড্ডা দিচ্ছে আর হাঁসছে।এটা দেখেতো
পরাগের মাথায় রক্ত উঠে গেলো।সে হনহন করে গিয়ে সবার সামনে
প্রাপ্তিকে ঠাসসসসসস করে একটা চড় মারে।মুহুর্তেই সেখানে
নিরবতা বিরাজ করে।
প্রাপ্তি গালে হাত দিয়ে পরাগের দিকে তাকিয়ে থাকে।প্রাপ্তি
বুঝতে পারলো না পরাগ কেন তার গায়ে হাত তুলেছে।আর পরাগ
নিজেও জানে না সে সবার সামনে কি করছে।।
প্রাপ্তি পরাগকে কিছু বলার আগেই পরাগ প্রাপ্তির হাত ধরে
টানতে টানতে একটা ক্লাস রুমে নিয়ে যায়।পরাগ রাগের মাথায়
কি করছে সে নিজেও জানে না।
পরাগ,,,,,,,এই মেয়ে তুমি কি হুম??আমাকে কষ্ট দিতে তোমার খুব
ভালো লাগে???এতো দিন ভার্সিটিতে আসো নি কেন??তুমি জানো
এই সাতটা দিন আমার কেমনে কাটলো??কতো টেনশনে ছিলাম??
একটা রাতেও শান্তিতে ঘুমাতে পারি নি।একটা বারো কোনো খবর
দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেছো??এখন এসে আবার সবার সাথে
হেসে হেসে কথা বলছো।আর একজন যে টেনশনে শেষ হয়ে যাচ্ছে
তার কোনো খবর আছে তোমার কাছে??demn it,,,,(প্রাপ্তির বাহু ধরে
ঝাকিয়ে এবং অনেকটা রেখে)
পরাগের কথা শুনে প্রাপ্তি থ মেরে যায়।কিছুক্ষন পর প্রাপ্তি
বলে,,,,,,,
প্রাপ্তি,,,,,,,আশ্চর্য!!!তাই বলে আমাকে সবার সামনে চড় মারবেন??আর
আমি ভার্সিটিতে আসি আর না আসি তাতে আপনার কি??আপনাকে
আমি কিছু বলতে যাবো কেন??আপনি আমার কে যে আপনাকে সব
কিছু বলতে হবে??আর আমার জন্য আপনি টেনশন করছেন কেন?আমি
আপনাকে বলেছি আমার জন্য টেনশন করতে??
পরাগ এতক্ষন কি বলেছে সে নিজেও জানে না।প্রাপ্তির কথা শুনে
পরাগ কিছুটা শক্ড হয়।আর মনে মনে বলে,,,,,আসলেই তো।ও আসলো বা
না আসলো তাতে আমার কি?আমি এতো অস্থির হচ্ছি কেন??
প্রাপ্তির গালে পরাগের পাঁচ আঙ্গুলের চাপ পরে যায়।প্রাপ্তির
তো খুব রাগ পাচ্ছে।তাকে কেউ কোনোদিনও এভাবে চড় দেয় নি।
প্রাপ্তি পরাগের কাছ থেকে কোনো উত্তর পায়নি।আর এক মুহূর্ত
অপেক্ষা না করেই প্রাপ্তি পরাগের কাছে থেকে চলে আসে।
প্রাপ্তি পরাগের কাছ থেকে আসার সময় মনে মনে পরাগের চৌদ্দ
গোষ্ঠী উদ্ধার করে ফেলে।
প্রাপ্তি,,,,,হারামি,বজ্জাত,কুত্তা,এনাগন্ডা,জলহস্তি,কুমির,কচ্চপ,হলুদ
টিকটিকি,,,,,আমাকে চড় মারা??ইচ্ছেতো হচ্ছে তোকে পিটিয়ে
চিঁড়ার মতো চ্যাপ্টা বানিয়ে ফেলি।বলে কিনা ভার্সিটিতে কেন
আসিনি??আসিনি আসিনি।তোকে বলতে যাবো কেনরে??আমি কি
তোর ঘরের বউ নাকি যে তোকে সব বলতে হবে।আমার গালটাকে
কি মনে করেছে??এটা আমার গাল ছিল হারামি,,,তুন্ধলরুটি না। মনে
হচ্ছিল আকাশ থেকে একটা বাজ আমার গালের উপর এসে পড়েছে।
প্রাপ্তি পরাগকে বকা দিতে দিতে তার বান্ধবীদের কাছে যায়
আর এই দিকে পরাগ ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে।সত্যি সে বুঝতে পারলো
না কেন এমন করলো প্রাপ্তির সাথে।
প্রাপ্তিকে তার সব বান্ধবীরা এক ঝুড়ি প্রশ্নের সম্মুকে দাঁড়
করিয়ে দেয়।
-প্রাপ্তি,পরাগ ভাইয়া তোকে চড় মারলো কেন?--একজন বান্ধবী
-পরাগ ভাইয়া তোর খোঁজ করছিল কয়দিন ধরে।ব্যাপার কি?যে
পারগের জন্য সব মেয়েরা লাইন করে একটু কথা বলার জন্য কিন্তু
সে কারো সাথে কথা বলে না।সেই পরাগ তোর খোঁজ নেয়
প্রতিদিন।আর আজ এতো কিছু করলো।(আরেকজন বান্ধবী)
বেচারির উপর দিয়ে এমনিতেই এতো বড় একটা ঝড় গেলো এখন
আবার তাঁরাও প্রশ্ন করছে।প্রাপ্তির তো এখন সব গুলোকে কাঁচা
খেয়ে ফেলতে মন চাইছে।কোথায় তাকে একটু শান্তনা দিবে তা
নয়,,একের পর এক প্রশ্ন করেই যাচ্ছে।
প্রাপ্তি সেদিনের মতো কোনোভাবে বাসায় আসলো।আর কিছুক্ষন
বান্ধবীদের সাথে থাকলে হয়তো প্রাপ্তিকে কোনো পাহাড়ে দাঁড়
করিয়ে দিতো।
বাসায় এসে প্রাপ্তি দরজায় কলিং বেল বাজিয়েই যাচ্ছে।কিন্তু
কেউ খুলার নামেই নাই।
প্রাপ্তি,,,,,,,হায় আল্লাহ।আম্মু যদি এখন গোসলে ডুকে থাকে তাহলে
আল্লাহ দিলে আমাকে এখানে তিনদিন দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।এসব
চিন্তা করছে আর কলিং এ চাপ দিচ্ছে।এর মধ্যে প্রাপ্তির মা এসে
দরজা খুলে দেয়।
আম্মু,,,,,,,কিরে তোর এতো দেরি হলো কেন আজ??আর তোর মুখে
কিসের দাগ এটা।এতো লাল হয়ে আছে কেন???
প্রাপ্তি,,,,,,(ও আল্লাহ,আম্মুও এখন এক গাট্টি প্রশ্ন করবে।ঐ
হারামিকে তো আমার চাইনিস কুড়াল দিয়ে কাটতে ইচ্ছে করছে )
কিছু না আম্মু,পোকা কামড় দিসে তাই লাল হয়ে আছে।আম্মু প্লীজ
আমাকে খেতে দাও।আমার পেটে ইদুর দৌঁড়াচ্ছে।(কথা এড়ানোর
জন্য)
আম্মু,,,,,,আচ্ছা যা গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয় আমি খাবার দিচ্ছি।
প্রাপ্তি,,,,,ওকে আম্মু।
প্রাপ্তি নিজের রুমে চলে যায় ফ্রেশ হওয়ার জন্য।ওয়াশরুমে ডুকে
আয়নায় দেখে তার গালে পাঁচ আঙ্গুলের চাপ পড়ে গেছে।
প্রাপ্তি,,,,,,ইসরে,হারামিটা আমার গালটাকে ভর্তা বানিয়ে
ফেললো।আমার এতো কিউট চেহারাটা দেখেও একটু মায়া হলো না।
আচ্ছা আপনারাই বলুন তো,আমার মতো এতো কিউট কিউট নাদান
বাচ্চাকে কেউ এমন করে মারে??আমারতো ঐ হারামিকে লাথি
মেরে বিন্দাবন পাঠিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে।
শাওয়ার নিতে নিতে প্রাপ্তি পরাগকে একেবারে ধুয়ে ফেলছে।
ফ্রেশ হয়ে নিচে এসে খাবার খেয়ে নিজের রুমে গিয়ে একটা
লম্বা ঘুম দেয়।সন্ধ্যার দিকে প্রাপ্তির ঘুম ভাঙ্গে ফোনের
রিংটোনের শব্দে।
বিরক্তি নিয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে আননোন নাম্বার।
প্রাপ্তি আননোন নাম্বার থেকে কল আসলে রিসিভ করে না।তাই
ফোনটা বিছানায় রেখে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করে।কিন্তু
না,,,বার বার সেই নাম্বার থেকে কল আসতেই থাকে।
বাধ্য হয়ে ফোনটা রিসিভ করে কানে নেয়।কিন্তু কোনো কথা বলে
না।ফোনের অন্য পাশ থেকেও কোনো কথা বলে না।প্রাপ্তি শুধু
কারো নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পায়।অনেক ক্ষন এভাবে চলে যায়।
প্রাপ্তি কলটা কেটে ফোনটা রেখে দেয়।কিন্তু না।একের পর এক
কল দিয়েই যাচ্ছে।
৫/৬ বার ফোন রিসিভ করে কানে ধরে কিন্তু অন্য পাশ থেকে
কারো কণ্ঠ শুনতে পায় না।এইবার কলটা কেটে ফোনটা বালিশের
নিচে রেখে দেয়।কিন্তু তাও কলের শব্দ তার কানে ভেসে আসছে।
এইবার বেচারিতো রাগে আগুন।তারতো ইচ্ছে করছে ঐ লোকটাকে
পানি দিয়ে ট্যাবলেটের মতো খেয়ে ফেলতে।একতো এতো কল
করছে আরেক হলো কথাও বলছে না।এইবার ফোনটা রিসিভ করেই
শুরু হলো,,,,
প্রাপ্তি,,,,,,,কোন হারামিরে তুই,ডাইনোসর,বজ্জাত,এনাগন্ডা,সাদা
পিপড়া,কুমির,জলহস্থি,জিরাফ,শিয়াল,টিকটিকি আমার ঘুমের ১২টা
বাজালি।আমার সামনে আয় একবার।তোকে আমি জুস করে খাবো।
কল করে আবার কথা বলিস না।সাহস থাকে তো সামনে আয়।তোর
মাথাটা আলাদা করে আমি ফুটবল খেলবো।ইচ্ছে করছে....ইচ্ছে
করছে তোকে,,,,
কি ইচ্ছে করছে??ও,হ্যাঁ,,ইচ্ছে করছে তোকে কেঁচোর ভর্তা খাওয়াই।
একদমে প্রাপ্তি তিন বালতি বকা দিয়ে দেয়।
তার পর যা হয় আরকি।অপর পাশ থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে আসে।
এই মেয়ে তোমার মাথা ঠিক আছে??এসব আজগুবি কথা কোথায়
থেকে পাও??পাবনা যাওয়ার ইচ্ছে হয়েছে??এখন যদি সামনে
থাকতে তাহলে সকালের চড়টার মতো আরো দুগালে দুটি চড় দিতাম।
সকালেরটা হয়তো আস্তে হয়ে গেছিল তাই না??
চড়ের কথা শুনে ধরমর করে বিছানা থেকে উঠে পড়ে।তাড়াতাড়ি
ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে না এটাতো একটু আগে বার বার কল করা
নাম্বারটা না।আবার চড়ের কথা বলতেছে।তাহলে লোকটা কে??
প্রাপ্তি কাঁপাকাঁপা গলায় গিজ্ঞাসা করে,,,,
প্রাপ্তি,,,,,আপনি কে??
পরাগ,,,,,,বাহ্,এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে?আমিতো মনে করলাম
আমি মনে হয় সকালে একটু জোরেই চড়টা মেরেছিলাম।হয়তো
সপ্তাহখানেক ব্যথাটা থাকবে।কিন্তু এখন দেখা যায় তুমিতো
অনেক স্টং।দুঘন্টার মধ্যেই সব ভুলে গেছো।
এবার প্রাপ্তির বুঝতে অসুবিধে হলো না যে এটা পরাগ।
প্রাপ্তি,,,,,,আপনি??আপনি কেন আমাকে কল করেছেন??আর আমার
নাম্বার পেলেন কোথায়??
পরাগ,,,,,,এতো প্রশ্ন এক সাথে করছো কেন??একটা একটা করো।আর
তুমি কি সুন্দর করে কথা বলতে জানো না??
প্রাপ্তি,,,,,না জানি না।আমি আপনার সাথে কোন দুঃখে সুন্দর করে
কথা বলতে যাবো?সকালে আমার মতো একটা নিরীহ বাচ্চাকে
কেমন করে মেরে তক্তা বানিয়ে দিলেন।এখন আবার কল করে
বলছেন সুন্দর করে কথা বলতে।
পরাগ,,,,,,,সকালের ঘটনার জন্য আম সরি।আর শুনো যে কারনে
তোমাকে কল দিলাম।কাল একটু তাড়াতাড়ি ভার্সিটিতে এসো।
তোমার সাথে কিছু গুরুত্ব পূর্ণ কথা আছে।বলেই পরাগ কলটা কেটে
দিল।
এদিকে প্রাপ্তি চিন্তা করছে পরাগ কেন তাকে কাল তাড়াতাড়ি
যেতে বললো?নাকি সকালের মতো কালও রামদোলাই দিবে?কথাটা
মনে হতেই সে গালে হাত দিয়ে ধরলো।
প্রাপ্তি,,,,,বুঝতে পেরেছি আমি ভার্সিটিতে গেলে আজকের মতো
আবারও আমাকে মার দিবে।আজ তাকে যা বকা দিয়েছি নিশ্চয়ই
কাল আমাকে কোথাও নিয়ে গিয়ে মেরে নদীতে ফেলে দিবে।যা
ভয়ংকর ছেলে।এর দ্বারা সব সম্ভব।আমি কাল ক্লাসেই যাবো না।
সারাদিন বাসায় থাকবো।
বিছানায় বসে এসব চিন্তা করতে করতে আরেকবার ফোনে কলটা
বেজে উঠে।ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে তার বান্ধবী দিশা কল
করেছে।
প্রাপ্তি,,,,,,হ্যাঁ দিশা বল।
দিশা,,,,,,কাল ভার্সিটিতে একটু তাড়াতাড়ি আসবি।আর সব গুলো
নোট নিয়ে আসবি।আমি অনেক দিন ভার্সিটিতে যাই নি।তাই
অনেক পিছিয়ে পড়েছি।।
প্রাপ্তি,,,,,,আমি কাল ভার্সিটিতে যাবো নারে।তুই বরং তুলিকে বল।
দিশা,,,,,,কাল আসবি না কেন??
প্রাপ্তি,,,,,,আসলে আমার শরীরটা ভালো না।মনে হয় জ্বর আসবে।
তাই।
দিশা,,,,,ওও আচ্ছা তাহলে রেস্ট কর।আর ডাক্তার দেখাবি।বাই।
প্রাপ্তি,,,,,,ওকে বাই।
রাতে প্রাপ্তি তার পরিবারের সাথে ডিনার করে নিজের রুমে
এসে পড়াগুলো দেখে শুয়ে পড়ে।শুয়েই ঘুমিয়ে যায়।সকালে তার
মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙ্গে।
আম্মু,,,,,,কিরে আজ তুই এখনো ঘুম থেকে উঠছিস না কেন??
ভার্সিটিতে যাবি না??
প্রাপ্তি,,,,,,আম্মু আজ আমার ভার্সিটিতে যেতে ইচ্ছে করছে না।
শরীরটা খারাপ লাগছে।
আম্মু,,,,সেকিরে,দেখি,জ্বরটর হলো নাকি??(গায়ে হাত দিয়ে)কই,জ্বর
তো হয়নি।
প্রাপ্তি,,,,,,জ্বর না।শরীরটা কেমন জানি করছে।প্লীজ আম্মু তুমি
যাও আমাকে ঘুমাতে দাও।
আম্মু,,,,,আচ্ছা তুই রেস্ট কর।আমি তোর জন্য গরম দুধ নিয়ে আসি।বলে
প্রাপ্তির মা চলে যায়।
ঐদিকে পরাগ প্রাপ্তির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।কিন্তু
প্রাপ্তির আসার নামেই নেই।পরাগ বার বার ঘড়ির দিকে দেখছে।
ক্লাসের টাইম চলে গেছে কিন্তু প্রাপ্তির আসার কোনো নাম নেই।
পরাগ প্রাপ্তির ফোনে কল করে।প্রাপ্তি ঘুমের মধ্যে নাম্বার না
দেখে কল রিসিভ করে।
প্রাপ্তি,,,,,হ্যালো,তুই কেডারে??সকাল সকাল দিলিতো আমার ঘুমের
১৩টা বাজিয়ে।
পরাগ,,,,,,এই মেয়ে।কল রিসিভ করার আগে নাম্বারটা দেখবা না??আর
এখনো ঘুমাচ্ছো কেন?এখনো কি সকাল আছে?ভার্সিটিতে আসো
নি কেন??
পরাগের কথা শুনে প্রাপ্তি নাম্বারটা দেখে আবার ফোনটা কানে
ধরে।
প্রাপ্তি,,,,,,আমি ভার্সিটিতে কেন আসিনি এটা আপনাকে বলতে
যাবো কেন আজিব।আর আপনি আমাকে বারবার ডিস্টার্ব করছেন
কেন??
পরাগ,,,,,,,,দশ মিনিটের মধ্যে আমি তোমাকে ভার্সিটিতে দেখতে
চাই।
প্রাপ্তি,,,,,,আমি আজ আসবো না।আমার শরীর ভালো নেই।
পরাগ,,,,,,ঠিক আছে।তাহলে আমি তোমার বাসায় আসছি।
প্রাপ্তি,,,,,,এএএএএএ না না।আপনি আসবেন না।আমি আসতেছি।
বাপরে বাপ,,,,এই ছেলেকে বিশ্বাস নেই।যদি সত্যি সত্যি চলে
আসে।আম্মুতো আমাকে প্রশ্ন করতে করতে শেষ করে ফেলবে।তার
চেয়ে বরং আমিই চলে যাই।বলে প্রাপ্তি উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে
চলে আসে।এসে দেখে তার মা কাজ করছে।
আম্মু,,,,,কিরে তুই এখন কোথায় যাস?
প্রাপ্তি,,,,,,,আম্মু আমি ভার্সিটি যাচ্ছি।
আম্মু,,,,,,একটু আগে না বললি যাবি না।শরীর খারাপ।তাহলে এখন
আবার কি হলো।
প্রাপ্তি,,,,,,,আমার মাত্র মনে হলো আজ একটা ইম্পরট্যান্ট ক্লাস
আছে।তাই যেতে হবে।
আম্মু,,,,,আচ্ছা ঠিক আছে যা কিন্তু কিছু খেয়ে যা।
প্রাপ্তি,,,,এখন সময় নেই।ক্যান্টিনে খেয়ে নিবো।বাই
বলে প্রাপ্তি ভার্সিটিতে চলে যায়।ভার্সিটিতে গিয়ে এদিক
ওদিক না তাকিয়ে জোরে হাঁটতে থাকে।হঠাৎ কারো সাথে
ধাক্কা খেয়ে প্রাপ্তি চিৎকার করে উঠে,,
প্রাপ্তি,,,,,,,আল্লাহ গোওওওওও,আজ বুঝি আমার কোমড়টা গেলো।
(আপনারা চিন্তা করবেন না।পড়ে গিয়ে হাত পা ভাঙ্গে নি )
চোখ বন্ধ করেই কথা গুলো বলে ফেললো।কিন্তু কোথায়??আমিতো
ব্যথা পেলাম না।বলে একটা চোখ তাকিয়ে দেখে পরাগ তাকে ধরে
রেখেছে।পরাগকে দেখে ঝট করে পরাগের কাছ থেকে নিজেকে
ছাড়িয়ে নেয়।
দুজনেই কিছুক্ষন চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে।পরাগ খেয়াল করলো
প্রাপ্তিকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে।হলুদ থ্রি পিছে প্রাপ্তিকে
অপরূপ সুন্দর লাগছে।পরাগ আনমনে একটু প্রাপ্তির কাছে চলে আসে।
এতোটা কাছে আসে যে পরাগের নিঃশ্বাস প্রাপ্তির মুখের উপর
পড়ছে,,,,,,
পরাগ,,,,,,তোমাকে যে সাজেই দেখি না কেন সেই সাজেই তুমি
শ্রেষ্ঠ।
পরাগের কথা শুনে প্রাপ্তি কিছুটা আন ইজি ফিল করে।সে পরাগের
কাছে থেকে একটু দূরে সরে দাঁড়ায়।
Previous
Next Post »