পালিয়ে বিয়ে পর্ব ০২ ~ WriterMosharef

পালিয়ে বিয়ে পর্ব ০২

পালিয়ে বিয়ে পর্ব ০২

ইহিতার ড্রেসে কাঁদা লেগে যাওয়ার পর ইহিতা ছেলেটার
শার্টের কলার ধরলো।
-How dare u to spoil my dress? (রাগী দৃষ্টিতে ইহিতা)
-ম্যাম mind ur self. (অভ্র ইহিতার হাত নামিয়ে শার্ট থেকে)
-What did u say? তুই আমাকে বলছিস এই কথা? এই ছোট লোক তোর এত
বড় সাহস কি করে হয় ইহিতা চৌধুরীর সাথে এইভাবে কথা বলার?
(চেঁচিয়ে ইহিতা)
-অভ্র বাইক থেকে নামে সাথে ছিল অভ্রর ফ্রেন্ড সে ও নামে। আর
ইহিতার এমন আচরণ দেখে সবাই ক্যাম্পাসে জড় হয়।
-এই যে মিস কথা সাবধানে বলুন। আমার বিহেভ ছোট লোকদের মত
করিনি যে এইভাবে আমায় অপমান করবেন।
-তুই কি এই ভার্সিটির স্টুডেন্ট? আগে তো তোকে দেখিনি। আর এই
কারণেই তুই জানিস না যে আমি কে? আর তোর কি হাল করতে
পারি? (ইহিতার রাগ চরম পর্যায়ে)
-আমার জানার প্রয়োজন নেই। আমি আপনার মত ফ্যাশন শো করতে
আসিনি ক্যাম্পাসে । নিজের দিকে তাঁকিয়ে দেখুন কি বাজে
লাগছে আবার আপনি অসভ্যের মত চেচাচ্ছেন? (অভ্র)
-তোকে আজ আমি মেরেই ফেলব। (ইহিতা গাড়ি থেকে হকি স্টিক
বের করে অভ্রর গায়ে মারার আগেই অভ্র ইহিতাকে থাপ্পড় মারে)
সবাই থ হয়ে যায় প্রিন্সিপাল সহ। কিন্তু কারো আগানোর সাহস
নেই।
-কেমন মেয়ে আপনি? মিনিমাম মেয়েদের মত আচরণ নেই তো
আপনার মধ্যে! ফালতু সব। (এই কথা বলে অভ্র বাইক নিয়ে সেখান
থেকে চলে গেল)
ইহিতা গালে হাত দিয়ে স্টিল দাঁড়িয়ে আছে। তিথি ইহিতার
বাবাকে ফোন দিয়ে ভার্সিটি তে আসতে বলেছে এতক্ষনে।
ইহিতার বাবাকে দেখে সবাই সালাম দেয় আর প্রিন্সিপাল এগিয়ে
আসেন। ইহিতাকে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ইহিতার বাবা
সামনে গেলেন। কিন্তু ইহিতা নড়ছেনা। এরপর তিথি সব বলার পর
ইহিতার বাবা চশমা চোখ থেকে খুলে ভেঙ্গে ফেলেন আর
প্রিন্সিপালকে জিজ্ঞেস করেন ইহিতাকে কোন ছেলে মেরেছে
তাকে যেন এক মিনিটে এখানে আনে। প্রিন্সিপাল অভ্রকে ডেকে
পাঠালেন। অভ্র ইহিতার বাবার সামনে আসলো।
-তোর সাহস হয় কি করে আমার কলিজার উপর হাত তোলা? যাকে
এখনো একটা পিঁপড়া কামড় দেয়নি আর আজ তাকে তুই মেরেছিস?
দেখ কি করেছিস আমার মেয়ের? (অভ্রকে থাপ্পর মেরে)
-What is this? এইটা কি ভার্সিটি নাকি কারো বাবার সম্পদ। আর
আপনার মেয়ে আমার সাথে কি করেছে সেইটা দেখেননি? না
দেখে কেন মারলেন আমাকে?(অভ্র)
-আমার মেয়ে তোকে মেরে ফেলবে তবুও একটা আওয়াজ করতে
পারবিনা তুই। কোন সাহসে মেরেছিস আমার মেয়েকে জবাব দে!!
-স্যরি সেইটা আপনার মেয়েকেই জিজ্ঞেস করবেন। আমার ক্লাস
আছে ছাড়ুন। (এই বলে অভ্র সেখান থেকে চলে গেল)
ইহিতার বাবা ইহিতাকে গাড়িতে বসিয়ে নিয়ে গেল বাসায়।
ইহিতার গালে অভ্রর তিন আংগুলের দাগ স্পষ্ট ভাবে ফুটে আছে।
সিমিকে দিয়ে ইহিতার গালে যত মেডিসিন আছে সব লাগালো
ইহিতার বাবা। ইহিতা চুপ করে আছে এখনো। ইহিতাকে কথা বলতে
বলছে সিমি আর ইহিতার বাবা কিন্তু ইহিতা কথা বলছেনা। ইহিতা
এই প্রথম কারো হাত থেকে মার খেলো। কোনো শিক্ষক কোনোদিন
তার দিকে চোখ রাঙিয়ে কথা বলেনি আর মার দেওয়া তো দূর।
কিন্তু অভ্র আজ ইহিতাকে ভার্সিটির সবার সামনে চড় মেরেছে।
ইহিতার কাছে এইটা অনেক বেশি যন্ত্রণার লাগছে। এক পর্যায়ে
ইহিতা ঘরের সব কিছু ভাংচুর করতে শুরু করে। আশরাফ চৌধুরী
ইহিতাকে বলেন
-মা তোর যত খুশি ভাং কিন্তু একটু কথা বল আর একটু শান্ত হ।
-বাবা ওই ছেলেকে আমি আস্ত রাখব না। ও আমায় মেরেছে?
ইহিতা চৌধুরীকে মেরেছে ও? শেষ করে ফেলব আমি ওকে।
(পাগলের মত করে)
-আমি নিজে ওকে শাস্তি দিব। তুই শুধু একটু শান্ত হ ইহিতা।
-এরপর ইহিতা চুপচাপ বিছানায় গিয়ে আয়নায় নিজের মুখ দেখছে।
এখনো হাতের ছাপ দেখা যাচ্ছে। এরপর ইহিতা আয়নাও ভেঙ্গে
ফেলে। পরে এক মাস ইহিতা ভার্সিটি তে যায়নি। এমনকি বাসা
থেকেও বের হয়নি। ওইদিকে অভ্রর ঠিকানা কেউ জানেনা বলে
ইহিতার বাবা অভ্রকে কিছু করতে পারেননি।
এক মাস পর ইহিতা ভার্সিটি তে যায়। অভ্র ৪ তলায় আনমনে হয়ে
দাঁড়িয়ে আছে। ইহিতার গাড়ি দেখে অভ্র চমকে যায়। দ্রুত নিচে
নেমে আসে অভ্র। ইহিতা একটা বই হাতে নিয়ে ক্লাস রুমের দিকে
যায়। অভ্র ইহিতাকে থামায়।
-ইহিতা? (পেছন থেকে অভ্র)
-ইহিতা পেছন ঘুরে রাগী দৃষ্টিতে তাঁকায় অভ্রর দিকে।
-স্যরি সেইদিন আপনাকে থাপ্পড় মেরেছিলাম বলে। আমি চট করে
রেগে গিয়ে কি করি আমার খেয়াল থাকেনা। তাই ওইভাবে
রিয়েক্ট করে ফেলেছিলাম। আপনি গত একমাস আসেননি ভার্সিটি
তে তাই স্যরি বলতে পারিনি। (অভ্র)
-ইহিতা কিছুই না বলে উপরে চলে যায়। ইহিতা আর অভ্র দুইজনেই
কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট এর স্টুডেন্ট। কিন্তু অভ্রকে দেখে কেউ
বলবে না যে অভ্র স্টুডেন্ট। মনে হয় পড়া লেখা শেষ।
আজ ইহিতা প্রথম বেঞ্চে না বসে ৩ নম্বর বেঞ্চে বসলো আর
ইংলিশ ক্লাসটা মনোযোগ দিয়ে করলো। স্যার একটা কোয়েশ্চন
করেছিল যেইটার উত্তর অভ্র ছাড়া আর কেউ দিতে পারেনি। সবাই
অবাক হয়ে যায় আর লেকচারার নিজে অভিভূত হয়ে যান অভ্রর
উত্তর শুনে। ইহিতা তখন উত্তরটা নোট করলো। ইংলিশ ক্লাস শেষ
করে সবাই ল্যাব এ গেল কিন্তু ইহিতা বসেছিল। অভ্র বের হওয়ার
আগে ইহিতাকে বলল
-যাবেননা ল্যাব এ?
-That's none of ur business. Just go from here. Otherwise.....
-Otherwise?? (অভ্র ইহিতাকে প্রশ্ন করলো)
-হে ওইদিন কিছু বলিনি বাট এইটা ভেবো না ইহিতা কিছু করতে
পারেনা।
-ওকে ভাবলাম না। (এই বলে অভ্র চলে গেল)
ক্লাস শেষ হওয়ার পর অভ্র ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা
দিচ্ছিলো। ইহিতা গাড়িতে উঠতে যাবে তখন এক ভিক্ষুক এসে
দাঁড়ালো ইহিতার সামনে। ইহিতা রেগে যায়।
-আমি ছাড়া কি আর কেউ নেই দান করার? আমার কাছে কেন
আসলি? (থালা ছুড়ে মেরে ইহিতা)
অভ্রর এইটা দেখে প্রচন্ড রাগ হয়। ইহিতার সামনে দাঁড়িয়ে
মানিব্যাগ থেকে ৫০০ টাকার একটা নোট বের করে ভিক্ষুককে
দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বলল।
-গাড়ি,, বাড়ি থাকলেই মানুষ মানুষের মত হয়না। অধিকাংশ
ক্ষেত্রে কুকুরই হয় যেমনটা আপনি নিজে। (এই কথা বলে অভ্র এক
সেকেন্ড না দাঁড়িয়ে বাইক নিয়ে চলে গেল)
ইহিতা রাগে গাড়ি হাই স্পিডে চালিয়ে বাসায় এলো। ইহিতা তার
বাবাকে ফোন করে বাসায় আসতে বলল। ইহিতার বাবা অফিসের
সব কাজ ফেলে বাসায় চলে আসে।
-বাবা ওই ভার্সিটি তে হয় ওই ছোট লোকটা থাকবে নয়ত আমি?
-কোন ছোটলোক?
-ওইদিন যে আমায় মেরেছিল।
-ও আবার কি করেছে তোমায়? (রেগে গিয়ে আশরাফ চৌধুরী)
-আজকে ও আমায় কুকুর বলেছে কুকুর। (ভাস ছুঁড়ে মেরে ইহিতা)
-What? আমি এখনি প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলছি।
-ওই ছেলেকে ভার্সিটি থেকে বের করে দিন। (আশরাফ চৌধুরী)
-স্যার সেইটা সম্ভব নয়। (প্রিন্সিপাল)
-What? আপনি আমাকে বলছেন সম্ভব নয়?
-স্যরি স্যার। ছেলেটা অনেক মেধাবী আর outstanding personality. ওর মত
ভার্সিটি তে সেকেন্ড কপি নেই। আর সবচেয়ে বড় কথা এইবার
ভিপি ইলেকশনে ইহিতা মামনির বিরুদ্ধে অভ্র দাঁড়াবে।
-What? আমার মেয়ের বিরুদ্ধে?
-হ্যাঁ স্যার। তাই আর সেই চান্সটা নেই বের করার। পরে ভার্সিটি র
ছেলে মেয়েরা ক্ষেপে যাবে আর কমিশন পর্যন্ত গড়াবে এই ঘটনা।
তাই আমি আর রিস্ক নিতে চাচ্ছিনা। মাফ করবেন।(প্রিন্সিপাল)
ইহিতার বাবা ফোন রেখে দিয়ে ইহিতাকে সব বললেন।
Previous
Next Post »