পালিয়ে বিয়ে পর্ব ০৩ ~ WriterMosharef

পালিয়ে বিয়ে পর্ব ০৩

পালিয়ে বিয়ে পর্ব ০৩

প্রিন্সিপাল এর সাথে কথা বলা শেষ করে ইহিতার বাবা ইহিতাকে
সব খুলে বললেন। ইহিতা রাগে ফ্লাওয়ার ভাস ভেঙ্গে ফেলে।
-ওই ছেলের সাহস হয় কি করে ইহিতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর? আর
বাবা তুমি কিছুই করতে পারছো না?
-মামনি প্রিন্সিপাল যেখানে অনড় সেখানে আমি কি করতে পারি?
বাট তুই টেনশন করিস না সবাই তোকেই জয়ী করবে। তুই মাথা ঠান্ডা
করে একটু বাইরে থেকে ঘুরে আয়।
-নো। আমি কোথাও যাব না।
-পাগলামি করিস না ইহিতা। চল আমার সাথে বাইরে যাব।
-রেডি হয়ে আসি?
-যা তারাতারি আসবি কিন্তু।
-ওকে।
ইহিতার বাবা ইহিতার মন ভালো করতে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যায়
ইহিতাকে। CT max এর সামনে ইহিতা অভ্রকে দেখে আয়মান মির্জা
আর মিসেস আয়মান মির্জার সাথে। ইহিতা তার বাবাকে বলে
গাড়ি থামাতে।
-বাবা ওই ছেলে এখানে কি করছে? তাও আয়মান মির্জার সাথে?
(অভ্রকে দেখিয়ে)
-আয়মান মির্জা? (অবাক হয়ে ইহিতার বাবা) কই দেখি?
-দেখো
-সত্যিই তো আয়মান মির্জার সাথে এই ছেলে। আর এই ক্ষেত
মার্কা ছেলেকে দেখ কি স্মার্ট লাগছে। ব্যাপার কি?
-বাদ দাও চলো
এই কথা বলে ইহিতা সেখান থেকে চলে গেলো। আয়মান মির্জা
হচ্ছে ওয়ার্ল্ড ইয়াং লিডারশিপ এর মেইন লিডার।
ইহিতা বাসায় এসে ভাবতে লাগলো আয়মান মির্জার সাথে ওই
ছেলে কেন? থাকতেও পারে তাতে আমার কি! ইহিতা এসব ভাবতে
ভাবতে ঘুমিয়ে গেল। তিনদিন পর ভিপি ইলেকশন। ভার্সিটি তে এই
নিয়ে অনেক হৈ চৈ হচ্ছে কারণ এই প্রথম ইহিতার বিরুদ্ধে কেউ
ইলেকশন করছে। ইহিতা যথারীতি ভার্সিটি তে গিয়ে যা করার
তাই করলো। কোনো ক্লাস না করেই বাসায় চলে আসলো।
ইলেকশনের আগে পর্যন্ত ইহিতা ভার্সিটি তে যায়নি। ইহিতা
ভার্সিটি তে না গেলে অভ্র ক্লাস না করে বাইরে বসে থাকে মন
খারাপ করে। এই দুইদিন অভ্র তাই ই করলো কারণ ইহিতা আসেনি।
ইলেকশনের দিন ইহিতা আসলো ক্যাম্পাসে। নীল রঙের শার্ট আর
বাদামী রঙের প্যান্ট পরে। চুলগুলো খোলা আর সানগ্লাস পরা।
অভ্র অনেকক্ষণ তাঁকিয়ে ছিল। তারপর চোখ সরিয়ে নিজের কাজ
করলো। ইহিতা আর অভ্রকে একসাথে থাকতে বলা হয়েছে। কিন্তু
ইহিতা সেই কথা না শুনে দোতলায় গিয়ে ফোনে গেমস খেলছে
নিশ্চিন্ত মনে। কারণ ইহিতার কনফিডেন্স আছে ইহিতা জিতবে।
সারাদিন ইহিতা একই জায়গায় বসে রইলো। রাতে ইলেকশনের
রেজাল্ট পাবলিশ করে প্রিন্সিপাল আর রেজাল্ট ইহিতার বিরুদ্ধে
অর্থাৎ অভ্র জিতেছে ইলেকশনে। অভ্র কোনো ভ্রুক্ষেপ না করেই
ইহিতার দিকে তাঁকায়। ইহিতা হাতের ফোন ভেঙ্গে ফেলে আর
গাড়ি নিয়ে খুব দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। ইহিতার বাবা এই
কথা শুনার পর প্রিন্সিপালকে প্রচুর থ্রেড করে। ইহিতাকে তিনি
সামলাচ্ছেন। আর অভ্র বাসায় গিয়ে ইহিতার কথা ভাবছে।
মেয়েটা কি করছে না করছে এই নিয়ে! খুব বেশি বারাবারি কি
হয়ে যাচ্ছে? এসব ভাবতে ভাবতে অভ্র ঘুমিয়ে পরে। পরেরদিন
অভ্রকে ব্যাচ আর দায়িত্ব দেওয়া হয় আর শপথ করানো হয়। কিন্তু
ইহিতা ভার্সিটি তে আসেনি। অভ্রর মন ভীষণ খারাপ। এইভাবে
সাতদিন চলে যায় কিন্তু ইহিতা ভার্সিটি তে আসেনা। এরপর অভ্র
ইহিতার বাসায় চলে যায়। ইহিতা অভ্রকে দেখে অবাক তো হয়ই
সাথে তেলে বেগুনে জ্বলতে থাকে। অভ্র ইহিতাকে বলল
-ভার্সিটি তে যাও না কেন?
-আমাকে তুমি বলছো কোন সাহসে? (ইহিতা)
-ঝগড়া বাদ দাও। ভার্সিটি তে চলো।
-How dare u to force me? কোন সাহসে এসব কথা আসছে মুখ দিয়ে?
-ভিপি হিসেবে কলেজের প্রত্যেকটা স্টুডেন্ট এর প্রতি আমার
দায়িত্ব রয়েছে সো চলো।
-আমি যাব না না না।
-তুমি যাবে যাবে আর যাবে। (ইহিতার হাত ধরে)
-আমার হাত ধরার সাহস কোথায় পেলি ছোটলোক? (রেগে গিয়ে
ইহিতা)
-যা খুশি বলো। ওহ হ্যাঁ আজকে থেকে প্রতিদিন ভার্সিটি তে
যাবে আর নিয়মিত ক্লাস করবে। আর most importantly এসব ড্রেস আর
পরা যাবেনা। যাও তারাতারি চেঞ্জ করে এইটা পরে আসো। (অভ্র
একটা প্যাকেট হাতে দিয়ে)
-My foot. (প্যাকেট টা ছুড়ে মেরে ইহিতা)
-এইটাই যে তোমায় পরতে হবে ইহিতা চৌধুরী।
-বের হ আমার বাসা থেকে। জাস্ট গেট আউট ফ্রম হেয়ার।
-আগে ভার্সিটি তে চলো। আর তুমি যদি স্ব ইচ্ছায় এই ড্রেসটা পরে
ভার্সিটি তে না যাও তাহলে আমি নিজের হাতে তোমায় এই ড্রেস
পরাবো আর ভার্সিটির সবার সামনে তোমায় কিস করব। বলো
কোনটাতে রাজি তুমি?(অভ্র সোফায় বসে)
-How dare u bloody sheet?
-ইহিতা ইনাফ। যা বলেছো বলেছো আর না। সোজা আংগুলে ঘি
উঠবেনা। বুঝেছি আঙ্গুল বাঁকা করতেই হবে। (হাত ধরে অভ্র ইহিতার
ঘরে নিয়ে গেল ইহিতাকে)
-আমার বাসায় এসে আমার সাথে এই ব্যবহার? তোকে আমি দেখে
নেব ফাজিল!(অভ্রর হাত থেকে ড্রেসটা নিয়ে)
-১০ মিনিটে আসো। (ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে)
-ইহিতা দরজা লাগিয়ে দিল।
১৫ মিনিট পর ইহিতা রেডি হয়ে বেরিয়ে আসলো। অভ্র আর সিমি
ইহিতার দিকে মুগ্ধ চোখে তাঁকিয়ে আছে।
-এইভাবে তাঁকিয়ে আছো কেন তোমরা? (চেঁচিয়ে ইহিতা)
-ম্যাম কি সুন্দর লাগছে আপনাকে দেখতে! (সিমি)
-চুপ একদম বেয়াদব। যাও এখান থেকে। (ইহিতা সিমিকে ধমক দিয়ে)
-চলো।
-তোকে আমি দেখে নেব অভ্র।
-দেখো। এখন চলো।
অভ্র ইহিতাকে নিয়ে ভার্সিটি তে যায় আর সেকেন্ড বেঞ্চে
ইহিতাকে বসিয়ে ও থার্ড বেঞ্চে ইহিতার পেছনে বসে। ইহিতার
সামনে গিয়ে বলে
-আজ সবগুলো ক্লাস মনোযোগ দিয়ে করে তারপর বাসায় যাবা আর
এর বিপরীতে কিছু হলে বুঝই তো কি করব!
-তোকে আমি শেষ করে ফেলব অভ্র।
-সে পরে দেখব। আগে ক্লাসগুলো করে, নোট করে বাসায় গিয়ে
পরবে। ফোন হাতে দেখলেই খবর আছে।
-জাস্ট মাইন্ড ইউর ল্যাংগুয়েজ। তোর কথা শুনতে ইহিতা চৌধুরী
বাধ্য নয়।
-হাজারবার বাধ্য।
-অভ্র। (চোখ রাঙিয়ে ইহিতা)
অভ্র পেছনে ছিল তাই আজ ইহিতা সবগুলো ক্লাস ঠিকঠাক মত
করেছে। আজকে ভালোই লেগেছে ইহিতার। ইহিতার এমন
পরিবর্তনে শিক্ষকরা সহ সবাই খুশি। বেশ প্রানোচ্ছল ভাবেই ক্লাস
করেছে ইহিতা। তিথি এসব দেখে পুরো হা হয়ে তাঁকিয়ে আছে
অভ্রর দিকে। অভ্রকে ইশারা করে তিথি জিজ্ঞেস করে
-কেমনে সম্ভব?
-অভ্র হাসি দিয়ে বুঝিয়ে দেয় চাইলেই সম্ভব।
ক্লাস করা শেষে ইহিতা বের হয়ে যায়। অভ্র সিঁড়ির পাশে
দাঁড়িয়ে ছিল। এক ছেলে ভুলে ইহিতার ওড়নায় পারা দেয় যার
কারণে ইহিতা টান খেয়ে অভ্রর হাতের উপর পরে যায় আর অভ্র
ইহিতাকে ধরে। ইহিতা পরার সাথে সাথেই পেছন ঘুরে তাকিয়ে
দেখে ওড়নাটা সিঁড়িতে পরে আছে আর একটা ছেলে স্টিল
সেখানে হা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অভ্র ইহিতার দিকে তাঁকিয়ে ওই
ছেলের সামনে যায় ইহিতাকে ছেড়ে। অভ্র দেখে বুঝেছে ইচ্ছে
করে ছেলেটা এমন করেনি।
-নেক্সট টাইম যেন এমন ভুল না হয়। (ফ্লোর থেকে ওড়না উঠিয়ে
অভ্র)
-জ্বি ভাইয়া। (ভয়ে ভয়ে ছেলেটি বলল)
-যাও এখন।
অভ্র ইহিতাকে ওড়নাটা দিল আর বইগুলো উঠিয়ে গাড়ি পর্যন্ত
ইহিতাকে দিয়ে আসলো। ইহিতা চলে গেলো অভ্রকে কিছু না
বলেই। অভ্র একটু মুচকি হাসলো আর বাইক নিয়ে বেরিয়ে গেলো।
Previous
Next Post »