পালিয়ে বিয়ে পর্ব ০৫ ~ WriterMosharef

পালিয়ে বিয়ে পর্ব ০৫


ইশান বিয়ে করে ইহিতাকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর সবাই অবাক
হলো। ইশানের ভাবি তিন্নি বলল
-আম্মু আমি বলি। ও হচ্ছে ইহিতা চৌধুরী। আশরাফ চৌধুরীর একমাত্র
মেয়ে। চিনেছেন?
-হ্যা বাট এই অসভ্য আর আনকালচার্ড মেয়ে ইশান তোর সাথে কেন?
(রেগে গিয়ে মিসেস মির্জা)
-আম্মু আমি ইহিতাকে ভালোবাসি। আর এ কারণেই তোমাদের না
জানিয়ে বিয়ে করে এনেছি। তার জন্য আমি স্যরি। বউমনিকে
বলেছি সব। ভাইয়াও জানে। তুমি আর পাপা জানো না শুধু। (অভ্র)
-এক মিনিট এখানে কোন কমেডি শো হচ্ছে? তুমি এই ফ্যামিলির
ছোট ছেলে I mean Ishan Mirja? (ইহিতা অভ্রর দিকে তাঁকিয়ে)
-হ্যাঁ ইহিতা। (তিন্নি)
-কিন্তু আমি যতটুকু জানি আয়মান মির্জার ছোট ভাই লন্ডনে থেকে
পড়াশুনা করে আর সেখানেই সে সেটেল! তাহলে ভার্সিটি তে তুমি
কেন ছিলে? (অভ্রকে প্রশ্ন করলো ইহিতা)
-তোমার জানা ভুল নয়। আমি লন্ডন থেকেই Phd করেছি in English.
(অভ্র)
-What? তাহলে এই ভার্সিটি? (অবাক হয়ে ইহিতা)
-সে অনেক কাহিনী ইহিতা। এখন ফ্রেশ হয়ে রেস্ট করো। আর ইশান
তুমি ইহিতার বাবাকে কল করে আসতে বলো। আমি পাপা আর ওকে
(আয়মান) আসতে বলছি। (তিন্নি)
-ঠিক আছে বউমনি। আর আম্মু তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
তোমার ঘরে চলো। আর বউমনি তুমি ওকেকে আমার ঘরে নিয়ে যাও।
(ইশান)
-তোর সাথে আমার কোনো কথা নেই ইশান। আমার ছেলে আজ বিয়ে
করেছে তাও না জানিয়ে আমাদের! বাহ ইশান বাহ! (মিসেস মির্জা)
-আম্মু একবার শুনুন ও কি বলতে চায়। তারপর না হয় সবটা বিচার
করবেন! (তিন্নি)
-বউমা তুমি ওকে সাপোর্ট করছো?
-না মা আমি শুধু আপনাকে শুনতে বলছি ইশানের কথাগুলো।
-আয় আমার ঘরে। (মিসেস মির্জা সেখান থেকে চলে গেলেন)
-যাও আর শুনো রেগে যেয়ো না ঠান্ডা মাথায় বুঝিয়ো! (তিন্নি
ইশানকে এ কথা বলে ইহিতাকে নিয়ে উপরে গেলো)
ইশান পা টিপে টিপে আম্মুর ঘরে গেলো।
-আম্মু স্যরি তো!! তোমার ছেলে না হয় একটা ভুল করেই ফেলেছে
মাফ করে দাও।(মিসেস মির্জাকে জড়িয়ে ধরে ইশান)
-না ছাড় তুই আমাকে! আমি কোনো সাধারণ ঘরের মেয়েকে আমার
ছোট ছেলের বউ বানাতে চেয়েছিলাম। যে হবে নম্র ভদ্র ঠিক
আমার তিন্নি মায়ের মতো। এই বেয়াদব মেয়ের মতো মেয়েকে
চাইনি!
-আম্মু বউমনির সাথে কারো তুলনা চলেনা। ইহিতা অনেক ভালো
মেয়ে কিন্তু শাসনের অভাবে এমন হয়ে গেছে। প্লিজ আম্মু ওকে
কষ্ট দিও না কারণ জানই তো ওর মা নেই। আমার জন্য হলেও অন্তত
ওকে মেনে নাও। তুমি আর বউমনি হেল্প করলেই ও ঠিক হয়ে যাবে।
প্লিজ আম্মু,, প্লিজ
-ইশান আমি কোনো ফোর্স শুনব না। যা তুই এখান থেকে। (মিসেস
মির্জা একটু কষ্ট পেয়ে)। Well establish করেছি তোদের দুই ভাইকে
আমি আর তোর পাপা মিলে। কোনোদিন কোনো কিছুতে অপুর্ন
রাখিনি। দেশের বাইরে রেখে মানুষ করেছি তোদের যাতে কোনো
বাজে সঙ্গ না পাস। কিন্তু ইশান আজ তোর ভাইয়ের স্ট্যাটাসটা
কোথায় থাকবে আর তোর পাপারই বা ইমেজ কোথায় থাকলো?
একটা বার কি ভাবলি না? তোর কথা আমি বাদই দিলাম। ১৪ বছর পর
দেশে এসে ১৪ দিন যেতে না যেতেই এই কাজ করে ফেললি?
-আম্মু মাফ করে দাও আমায়। জীবনের প্রথম আর শেষ ভুল এইটাই।
-ইশান leave me alone. (মিসেস মির্জা)
-আম্মু? (ইশান প্রায় কেঁদে দিয়ে)
-ইশান don't be emotional. এসব আমার একদম পছন্দ নয়। (মিসেস মির্জা)
-আম্মু আসব? (আয়মান)
-আয়।
-ভাইয়া আম্মুকে একটু বুঝানা? দেখ আম্মু কিছুতেই বুঝতে চাইছেনা!
(ইশান)
-তুই যা আমি দেখছি। (আয়মান)
-ভাইয়া!
-ইশান যেতে বলছিনা আমি! (রাগী দৃষ্টিতে আয়মান)
-যাচ্ছি। (এই বলে ইশান চলে গেলো)
-বাবু আমি তোর কাছ থেকে ওর হয়ে সাফাই শুনতে চাইনা! (মিসেস
মির্জা আয়মানকে উদ্দেশ্য করে)
-আম্মু তুমি কি ভেবে দেখছো ও তোমার ছোট ছেলে আর আমাদের
সবার কত আদরের? ও না হয় একটা ভুল করেই ফেলেছে তাই বলে কি
আমার ভাই কাঁদবে? তুমিই বলো আম্মু? কোনোদিন তো আমাদের দুই
ভাইয়ের চোখের পানি তুমি ফ্লোরে পরতে দাওনি আর আজ ইশান
কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো সেইটা দেখলেনা আম্মু?
-মিসেস মির্জা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছেন।
-আম্মু প্লিজ আম্মু মন খারাপ করোনা। ৫ বছর ধরে ইশান ইহিতাকে
পাগলের মতো ভালোবাসে। যার কারণে ও বাংলাদেশে আসে।
আজ কি ওর ভালবাসা বৃথা যাবে আম্মু?
-২৫ বছর ধরে আমি মানুষ করলাম সেই মূল্য কি ও দিয়েছে বাবু?
-আম্মু তোমার মূল্য ও কি করে দিবে? তোমার ভালবাসার কোনো
মূল্য আমাদের কারো কাছে নেই আম্মু। ইহিতা ঠিক হয়ে যাবে শুধু
সময় লাগবে। তুমি আর তিন্নি ওকে সাপোর্ট করো দেখবে সব ঠিক
হয়ে গেছে। আম্মু এই নাও নেকলেস। ইহিতাকে বরণ করো এইটা
দিয়ে! (আয়মান একটা হিরার নেকলেস মিসেস মির্জার হাতে
দিয়ে)
-বাবু?
-প্লিজ আম্মু চলো।
-চল।
-থ্যাংকইউ আম্মু। জানি তুমি বুঝবে। bcz আমার আম্মু বেস্ট। (মিসেস
মির্জার হাতে চুমু দিয়ে)
-হয়েছে এখন চল ইশানের ঘরে।
-আসো।
এইদিকে ইহিতা ইশানের ঘরে গিয়ে থতমত খেয়ে যায়। দেয়ালের
সব জায়গায় ইশানের ছবি। এত্ত সুন্দর লাগছে ইশানকে যা ইহিতা
মুগ্ধ হয়ে শুধু দেখছেই। তিন্নি বলল
-এইটাই আমার দেবর। আর এতদিন যেই রুপ দেখেছো সেইটা সাময়িক
শুধুমাত্র তোমার জন্য। আমার স্মার্ট দেবর তোমার জন্য ক্ষেত
সাজলো। এতে অবশ্য আমি আর তোমার ভাইয়া অনেক রিয়েক্ট
করেছিলাম কিন্তু পরে মানিয়ে নিয়েছি। কারণ love at 1st sight বলেও
একটা কথা আছে। (তিন্নি ইহিতাকে বলল)
-আপনাকে আমি পার্সোনালি চিনিনা কিন্তু আপনার বিষয়ে যতটুকু
জানতাম আপনি তার থেকেও অনেক বেশি ভালো। (ইহিতা
তিন্নিকে বলল)
-তাই? আমি মোটেও ভালোনা যখন বকব তখন বুঝবে। (তিন্নি)
-তিন্নি আসব? (আয়মান আর মিসেস মির্জা)
-আসো। তুমি কখন আসলে?
-২০ মিনিটস হবে। ইশান কই?(ঘরের চারিদিকে তাঁকিয়ে)
-ও তো ঘরে আসে নাই। কেন আম্মুর সাথে না ছিল?
-দাঁড়াও আম্মু আমি ইশানকে নিয়ে আসি।
আয়মান ছাদে গিয়ে ইশানকে পেলো আর ইশান দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
কাঁদছে।
-ইশান? তুই আবারো কাঁদছিস? (আয়মান)
-ভাইয়া তুমি? (ভ্যাবাচেকা খেয়ে ইশান)
-চল
-কোথায়?
-সারপ্রাইজ আছে চল
আয়মান ইশানকে নিয়ে ইশানের ঘরে গেলো। ইশানকে দেখে
ইহিতা রেগে গেলো কিন্তু তিন্নির ইশারাতে থেমে গেলো ইহিতা।
মিসেস মির্জা ইহিতাকে নেকলেস পরিয়ে দিয়ে দোয়া করেন।
কিন্তু ইহিতা এতে ভ্রুক্ষেপই করলো না। ইশান আয়মানকে জড়িয়ে
ধরলো
-ভাইয়া তোকে কোনোদিন থ্যাংক্স দেইনি আর আজ ও দিব না।
-শয়তান ছেলে তোর কাছ থেকে আমি থ্যাংক্স চেয়েছি? (আয়মান)
-U r best ভাইয়া।
-উহু এসব পামে আমি ফুলছিনা।
-হিংসে হচ্ছে কিন্তু আমার! তুমি আমার বরকে জড়িয়ে ধরে
রেখেছো! (তিন্নি ইশানকে বলল)
-বউমনি আগে আমার ভাই তারপর তোমার বর।
-হইছে তিনজন ফ্রেশ হয়ে নিচে আসেন। লাঞ্চ করতে হবে তো
নাকি? (তিন্নি)
-পাপা আসুক! (আয়মান)
-পাপা আসছে। (তিন্নি)
-আচ্ছা তুমি আগে ঘরে আসো কথা আছে আমার। (আয়মান তিন্নিকে
বলল)
-চলো।
এরপর সবাই ইশানের ঘর থেকে চলে গেল। ইশান আর ইহিতা দুইজন দুই
প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
Previous
Next Post »