পালিয়ে বিয়ে পর্ব ০৬ ~ WriterMosharef

পালিয়ে বিয়ে পর্ব ০৬

পালিয়ে বিয়ে পর্ব ০৬

ইহিতা আর ইশান দুইজন দুইদিকে দাঁড়িয়ে আছে। ইশান ইহিতাকে
বলল
-লাঞ্চ করবে। ফ্রেশ হয়ে এসো। আমি গেস্ট রুমে যাচ্ছি ফ্রেশ
হতে।
-আমি বাসায় যাব & right now.
-ইহিতা যা বলেছি করো। বেশি কথা বলে আমাকে রাগিও না।
ইশানের আসল রুপ কিন্তু তুমি দেখোনি।
-আসল রুপ হাহহ। I dnt care who r u. আমি আমার জায়গায় থাকলেই হবে।
বিকেলে আমি বাসায় চলে যাব।
-আগে তো দেখো ঘর থেকে বাগানে যেতে পারো কি না! আর
বাসা তো অনেক দূর।
-তোর মতো নির্লজ্জ আমি খুব কম দেখেছি।
-এইটা স্বাভাবিক। ভালোবাসার কাছে নির্লজ্জ না হলে তা
আদায় করা যায়না।
-ভালোবাসা মাই ফুট। তোর এই ভালবাসাই তোকে বিপদে ফেলল।
-উহু বিপদে পরিনি। আর তুই বলার মতো সম্পর্ক না এখন তোমার আর
আমার মধ্যে। তাই তুমি করে বলো।
-তুমি তাও তোর মতো চিটারকে! ইহিতা কখনই তোকে তুমি বলবেনা।
-ইহিতা একটা কথা বলি শুনো। আম্মু,,পাপা,,বউমনি আর ভাইয়া এই ৪
জন যাতে তোমার কাছ থেকে যথেষ্ট রেসপেক্ট পায়। আমাকে যা
ইচ্ছা বলো তুমি কিন্তু ওদের দিকে কোনোদিন চোখ তুলেও কথা
বলবেনা। সেইদিন তাহলে আমি কি করব তোমায় জানিনা।
-এই বাসায় আমি থাকলে তো বিহেভের কথা আসবে! আমি আজই
চলে যাব।
-ওই যে বললাম গিয়ে আগে দেখাও।
ইহিতা কিছু বলার আগেই তিন্নি নক করে রুমে। ইশান আসতে বলে
তিন্নিকে।
-ইশান যাও ফ্রেশ হয়ে আসো। আজকে সবাই এক সাথে লাঞ্চ করব।
(তিন্নি)
-যাচ্ছি কিন্তু তোমার হাতে কি এইগুলো বউমনি? (ইশান)
-যাও পরে দেখতে পাবে।
-যাচ্ছি।
ইশান চলে যাওয়ার পর তিন্নি ইহিতার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো আর
ইহিতাকে বলল
-ইহিতা ফ্রেশ হয়ে এই শাড়ি আর গহনা গুলো পরবে। (ইহিতার হাতে
দিয়ে)
-What? আমি এসব পরতে পারব না। আমাকে টি শার্ট দিন।
-ইহিতা মির্জা পরিবারের বউরা কখনো এসব পরেনা। এই পরবারের
একটা ট্র‍্যাডিশন আছে। তোমাকেও সেইটা মানতে হবে। অন্তত
দিনের বেলাতে।
-বউমনি I can't. (ইহিতা)
-ইহিতা তুমি পারবে। তুমি শাড়ি পরেই দেখো কতটা ভাল লাগবে
তোমাকে। আর আজ তোমার আর ইশানের সবচেয়ে মধুর একটা দিন।
নিজেকে সুন্দরভাবে সাজাও ওর জন্য। দেখবে ও অনেক খুশি হবে।
-বউমনি আমার কোনো ইচ্ছে নেই ওই স্টুপিডটার জন্য সাজতে। ওকে
আমি ঘৃণা করি জাস্ট হেইট হিম।
-সময় হোক তখন বুঝবা ইশান কি আর কেমন। এখন চটপট রেডি হও।
-ওর সম্পর্কে জানার কোনো ইন্টারেস্ট নেই আমার আর আমি শাড়ি
পরতে পারিনা।
-আমি হেল্প করবো। যাও গোসল করে আসো আগে। ওয়াশরুমে
টাওয়েল রাখা আছে।
-যাচ্ছি।
ইহিতা বের হয়ে আসার পর তিন্নি ইহিতাকে সুন্দর করে সাজিয়ে
দিল আর ইহিতাকে শাড়ি আর গহনা পরিয়ে দিল।
-দেখো তো এখন কেমন লাগছে নিজেকে? (তিন্নি ইহিতাকে বলল)
-ইহিতা অবাক হয়ে যায় নিজেকে দেখে। শাড়ির সাথে যেই
ইহিতাকে যায়না সেই ইহিতা আজ শাড়ি পরেছে আর গা ভর্তি
গহনা। অবাক লাগছে নিজেকে দেখে।
-কি বললেনা কেমন লাগছে?
-বউমনি এতগুলো গহনা পরতে পারছিনা। খুলে রাখি এগুলো!
-না অভ্যাস করতে হবে।
-কিন্তু অনেক ভারি তো।
-কিচ্ছু হবেনা এখন নিচে চলো।
তিন্নি ইহিতাকে ডায়নিং এ বসালো আর শৈলিকে (কাজের মেয়ে)
বলল সবাইকে ডেকে নিয়ে আসতে। আয়মান আম্মু দুইজন এসে গেছে।
ইশান আর পাপা আসেনি। তিন্নি পাপাকে ডেকে নিয়ে আসলো।
ইহিতাকে দেখে পাপা বললেন
-মাশায়াল্লাহ।আমাদের ইশানের পছন্দ আছে বলতে হবে রাহেলা
(মিসেস মির্জা)
-পাপা দেখতে হবে তো ভাইটা কার? (আয়মান)
-তিন্নি ইহিতাকে ইশারা করে বলল পাপাকে সালাম দিতে। ইহিতা
সালাম দিল শুধু আর কিছু বলল না। ইশান চুল নাড়তে নাড়তে সিঁড়ি
দিয়ে নামছিল। চেয়ার টান দিয়ে বসতে যাবে তখন সরাসরি
ইহিতার দিকে চোখ পরে ইশানের। তিন্নি আর আয়মান দুইজনের
দিকে তাঁকিয়ে হাসছে। ইশান হা করে সবার সামনে তাঁকিয়ে
আছে ইহিতার দিকে। ইহিতাও ইশানকে এভাবে দেখে কয়েক
সেকেন্ড তাঁকিয়ে ছিল পরে আবার চোখ সরিয়ে নেয়। আয়মান
ইশানের পায়ে চিমটি দেয় আর ইশানের কানের সামনে গিয়ে বলে
-এভাবে তাঁকিয়ে আছিস কেন।? আজ প্রথম দেখলি নাকি?
-ইশান থতমত খেয়ে যায় আয়মানের কথা শুনে।
তিন্নি যখন ইশানের প্লেট এ ভাত দিচ্ছিল তখন তিন্নি ইশানকে
আস্তে করে বলে
- রাতে দেখো মন ভরে।এখন খাও। (তখন ও ইশান ইহিতার দিকে
অপলক তাঁকিয়ে ছিল) তিন্নি ইশানকে ইহিতার পাশে গিয়ে বসতে
বলে। ইশান তখন উঠে গিয়ে ইহিতার পাশে বসে। তিন্নি আয়মানের
পাশে বসে পরে। সবাই খাওয়া শেষ করে কিন্তু ইহিতা খাচ্ছে না।
মিসেস মির্জা বললেন
-ইহিতা খাচ্ছো না কেন? বসে আছো যে!
-ঠিকই তো! ইহিতা কি হয়েছে খাচ্ছো না কেন? রান্না ভালো
হয়নি?
-না আসলে.....
-কি হয়েছে? বলো? (ইশান)
-আমি নিজের হাতে খাইনি কখনো। চামচ ধরতেই আনইজি লাগছে।
-ওহ এই কথা! ইশান ইহিতাকে খাইয়ে দে! (আয়মান)
-না আমি খেতে পারবো। (ইহিতা)
-না পারবেনা। (তিন্নি)
ততক্ষনে খাবার খেয়ে আম্মু আর পাপা টেবিল থেকে উঠে গেছেন।
ইহিতা খুব আনইজি ফিল করছে। ঘেমে যাচ্ছে পুরো ইহিতা। তিন্নি
ইশানকে ধমক দিয়ে বলল
-তোমার ভাই কি বলল শুনো নাই ইশান?
-শুনেছি। দিচ্ছি তো! (ভয়ে ভয়ে)
ইহিতার প্লেট হাতে নিয়ে ইশান হা করতে বলে ইহিতাকে। ইহিতা
কিছু বলেনা। সে ইশানের হাতে খাবেনা এইটাই বুঝাতে চাইছে
ইশানকে। ইশান বুঝেও না বুঝার ভান করে ইহিতাকে জোর করে
খাইয়ে দেয়। আয়মান তখন তিন্নিকে বলল
-আমিও তোমায় খাইয়ে দেই। হা করো
-তিন্নি হেসে দেয় আর আয়মানের হাত থেকে খাবার খায়। তিন্নি
ইহিতাকে বলছে
-এখন খেতে পারছো?
-ইহিতা হুম বলে শুধু।
খাওয়া শেষ করে সবাই উঠে যায়। আয়মান ডেকোরেটস দের সাথে
কথা বলছে বাসর সাজানোর ব্যাপারে। তিন্নির পছন্দ মতো
ইশানের ঘরকে সাজানো হয়। ইহিতা তিন্নির ঘরে ছিল আর ইশান
বসে ছিল। সন্ধ্যায় ইহিতার বাবা মির্জা প্যালেসে আসে। ইশানের
উপর প্রচন্ড রেগে যান উনি। তারপর আয়মান বুঝায় উনাকে। কিন্তু
উনি মানতে পারছেন না। কেন পারছেন না সে কারন ও বলছেন না।
তখন আব্বু আর পাপা চৌধুরীকে বুঝান। তবুও উনি শান্ত হতে পারছেন
না। ইহিতা চলে যেতে চায় বাবার সাথে। কিন্তু ইশান ইহিতার হাত
ধরে খুব শক্ত করে। ইহিতার হাতে ইশানের ৫ আঙ্গুলের ছাপ পরে
যায়। কোনোভাবেই ছাড়াতে পারছেনা ইহিতা নিজেকে ইশানের
কাছ থেকে। ইশান তখন চৌধুরীকে বলে
-বাবা ও এখন আমার স্ত্রী। আপনার থেকে বেশি অধিকার এখন
আমার ওর উপর। আপনি মানুন বা না মানুন। ইহিতা কোথাও যাবে না।
-অভ্র তুমি কেন বুঝছো না এইটা সম্ভব নয়?(ইহিতার বাবা)
-কেন নয়? আমার কি অর্থ কম? নাকি আমি অশিক্ষিত? (তখনো ইশান
ইহিতার হাত ধরে ছিল)
-এসবের কথা বলছিনা আমি।
-আপনি যাই বলুন আরর না বলুন ইহিতা এখন আমার আর ও আমার
কাছেই থাকবে।
-ওকে। এখানে আমারো আর কিছু করার নেই। কিন্তু পরে আফসোস
করো না যেন! (ইহিতার বাবা কাঁদছিলেন তখন)
-কোনো আফসোস হবেনা! আর আফসোস কেন হবে? ভালবাসাকেই
তো বিয়ে করেছি!
-দেখে রেখো ওকে। মির্জা সাহেব দেখে রাখবেন আমার
মেয়েটাকে! কখনো চুল পরিমান কষ্ট দেইনি ওকে।
-আপনি চিন্তা করবেননা চৌধুরী সাহেব। আমরা আছি।
এরপর ইহিতার বাবা চলে গেলেন। ইহিতা কাঁদছিল বাবার কান্না
দেখে। ইহিতার চোখে পানি ইশান এই প্রথম দেখলো। ইশান ইহিতার
চোখের পানি মুছে দিল আরর হাত ছেড়ে দিল।
Previous
Next Post »