পালিয়ে বিয়ে পর্ব ০৭ ~ WriterMosharef

পালিয়ে বিয়ে পর্ব ০৭

পালিয়ে বিয়ে পর্ব ০৭

ইশান ইহিতার হাত ছেড়ে দেয়। ইহিতার ফর্সা হাত নীল রঙের হয়ে
গেছে। ইশান দেখে ভয় পেয়ে যায়। তিন্নি মলম নিয়ে আসে
তারাতারি করে। ইশান মলম লাগাতে যাবে তখন ইহিতা বলে
-লাগবে না। ব্যাথা পাইনি আমি। (এই কথা বলে ইহিতা উপরে চলে
যায়)
ইশান ও মলম নিয়েই পিছু পিছু যায়। ইহিতা গেস্ট রুমে গিয়ে বসে
আর চাদর খামচাচ্ছে জেদে। ইশান এইটা দেখে বুঝতে পারে ইহিতা
অনেক রেগে আছে। ইশান ইহিতার সামনে আসে। ইহিতার হাত টান
দিয়ে নিজের পায়ের উপর রাখে।
-কি হচ্ছে কি? (রেগে গিয়ে ইহিতা)
-ইহিতা প্লিজ মলমটা লাগাতে দাও। আমি স্যরি। বুঝিনি এমন হয়ে
যাবে।
-Don't touch. Just leave me alone.
-ইহিতা প্লিজ
-নো। I am alright.
-যা ইচ্ছে হয় আমাকে বলো কিন্তু মলমটা লাগাতে দাও হাতে। নয়ত
ব্যথা করবে আর ফুলে যাবে।
-যাক। তুই হ্যাপি হবি তো তখন?
-ইহিতা এইটা কি ধরনের কথা বলার স্টাইল? স্যরি পার্মিশন না
নিয়ে আসার জন্য! (তিন্নি)
-আরে না বউমনি পার্মিশন কিসের। বসো।
-এই ঘরে কেন তোমরা? তোমাদের ঘরে যাও।
-না আমি এখানেই থাকব। ওই ঘরে যাব না। (ইহিতা)
-ইশান বাইরে যাও তো! আর এইটা দিয়ে যাও আমি লাগিয়ে দিচ্ছি।
(তিন্নি)
-কিন্তু বউমনি? (ইশান)
-যাও
-আচ্ছা যাচ্ছি। (ইশান চলে গেলো)
তিন্নি ইহিতার পাশে বসে ইহিতার হাতে মলম লাগিয়ে দিচ্ছে আর
ইহিতাকে বলছে
-জানো ইহিতা স্বামী হচ্ছে মেয়েদের শ্রেষ্ঠ অলংকার?
-না
-একটা মেয়ের যখন বিয়ে হয় তার বেষ্ট ফ্রেন্ড,, বয়ফ্রেন্ড,, রাগ
অভিমানের সাথী সব যে স্বামী হয় সেইটা জানো?
-না।
-যখন ওর আর আমার বিয়ে হয় তখন আমি কেবল ইন্টার পরীক্ষা
দিয়েছি আর ও তখন ইউরোপিয়ান ৮ টা কান্ট্রির লিডারশিপ এ।আর
এখন তো ও পুরো ওয়ার্ল্ডের ই। তো বুঝতেই পারছো ওর আর আমার
বয়সের গ্যাপটাও ৮ বছরের।সে যাই হোক, যেদিন ওর আর আমার
বিয়ে হলো সেদিন আমি ভয়ে কান্না করে দিয়েছিলাম এই
বাড়িতে এসে। তখন আম্মু আর ও মিলে আমায় নরমাল করলো। যখন ওর
সাথে আমাকে ওর ঘরে দিয়ে আসলো তখন তো আমি যাব না বলে
একদম ফ্লোরে বসেছিলাম। এইটা দেখে ইশান আর ও হাসছিল। ইশান
ও কে বারবার বলছিল বউমনি আসলেই পিচ্চি রে ভাইয়া। ও তখন
আমার সামনে এসে বসে আর হাত ধরে বলে আমি আছি তো কিচ্ছু
হবেনা! এই ৬ টা বছর এই কথা আমার কানেই বেজেছে শুধু। তখন ইশান
আর ইরাশা(ইশানের কাজিন) আমায় ঘরে দিয়ে আসলো। ও ঘরে
এসে আমাকে বলল তিন্নি যেদিন তোমার মাইন্ড সেট আপ হবে আর
যেইদিন আমায় ভয় পাবেনা ঠিক সেইদিনই তোমার কাছে অধিকার
চাইবো এর আগে নয়! ওর কথা ও রেখেছিল। বিয়ের দেড় বছর পর
আমাদের নতুন করে পথচলা শুরু হয়। আর এই দেড় বছর আমার শরীরে ও
স্পর্শ করেনি। কিন্তু এখন বুঝি কি অপরাধ করেছি আমি ওর কাছে।
দেড়টা বছর ও আমার সবকিছু সহ্য করেছে। এখন পাগলের মতোই
ভালোবাসে। কি বুঝলে বলো তো? কেন আমি এই কথা বললাম
তোমাকে জানো?
-না
-আমি চাই তুমি যাতে এই ভুল না করো। হতে পারে তোমাদের
বিয়েটা অস্বাভাবিক ভাবে হয়েছে কিন্তু ইহিতা এইটা ভুলে
যেয়ো না ইশান শত হলে ও তোমার সারাজীবনের সাথী। তোমার
বন্ধু ও।
-বউমনি ওর নাম আমি শুনতে চাই না। প্লিজ ওর নাম বলো না।
-পরে আফসোস করো না ইহিতা!
-কখনই না। ওর জন্য আফসোস আমি মরে গেলেও করব না।
-একদিন বুঝবে ইশানকে সেইদিন খুব বেশি দূরে নয়। আর পাপা আম্মু
থাকে বাসায়।তাই আমি চাই অন্তত সবার সামনে তুমি ওর সাথে
ভালো ব্যবহার করো। ওর সাথে ঘুমাও।
-ইম্পসিবল বউমনি! (ইহিতা দাঁড়িয়ে যায়)
-ইহিতা এই পরিবারের একটা সম্মান আছে। একটু ভুলের জন্য পাপা
কথা শুনবে,,ও কথা শুনবে,,ইশান কথা শুনবে! সেইটা কি ভালো হবে
বলো?
-তাহলে আমাকে কি ওই স্টুপিডটার সাথে ঘুমাতে হবে?
-হ্যা ইহিতা। সেইটা তুমি না চাইলেও করতে হবে কিচ্ছু করার নেই।
-বউমনি আমি পারবো না।
-চলো আমার সাথে।
তিন্নি ইহিতার হাত ধরে ইশানের ঘরে নিয়ে যায় ইহিতাকে। ইশান
তখন ভ্যালকনিতে দাঁড়িয়ে বাইরে দেখছিল। তিন্নি ইশানকে ডাকে
আর ইশান এসে দাঁড়ায় তিন্নির সামনে। তিন্নি ইহিতার হাত
ইশানের হাতের উপর রেখে বলে
-সারাজীবন দেখে রাখতে পারবে তো?
-পারবো। (ইহিতার চোখের দিকে তাঁকিয়ে)
-Have a nice moment.... Bye. (এই কথা বলে তিন্নি চলে গেল দরজা লক
করে দিয়ে)
ইহিতা এক টানে ইশানের হাতের উপর থেকে ওর হাত সরিয়ে দূরে
দাঁড়ালো।
-ইহিতা চিন্তা করো না আমি কাপুরুষ নই যে তোমায় ছুঁবো তোমার
অনুমতি ছাড়া।
-ইহিতা কিছু বলে না।
-ইহিতা বসো। আজকে তোমায় কিছু কথা বলি!
-না আমি কিছু শুনতে চাইনা তোর মুখ থেকে।
-শুনা যে দরকার তোমার। বোরিং কিছু বলব না।
এরপর ইহিতা ড্রেসিং টেবিলের সামনের টুলে বসলো আর ইশান
ইহিতার বিপরীতে সোফায় বসলো। দূরত্ব কয়েক হাতের। ইশান
ইহিতার দিকে তাঁকিয়ে বলে
-প্রথম দেখেছিলাম ১১ ই জানুয়ারি ২০১৩ বিকেল ৫ টা বেজে ৫৬
মিনিট। আমি লন্ডন থেকে এসেছি বাংলাদেশে ৩ দিন হবে। তুমি
এসএসসি দিবে। ভাইয়ার সাথে মার্কেট এ গিয়েছিলাম বউমনির
জন্য গিফট কিনতে। CT max এর পাশের দোকানে ছিলে তুমি। বের
হওয়ার সময় তোমার দিকে চোখ যায় আমার। White T-shirt,,Black jeans
আর স্ট্রেইট করা চুলগুলো একদম খোলা। সাথে তোমার বাবা ছিল।
আমি এক দৃষ্টিতে তোমার দিকে তাঁকিয়ে ছিলাম তখন ভাইয়া বলল
এমন করে কি দেখছি? আমি বললাম একটা পরীকে। তখন ভাইয়া
হেসে দিল আর বলল ওই মেয়ের ডিটেইলস আমার জানা। বাসায় চল
বলছি। আমি তখন ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করেছিলাম কিভাবে চিনো?
ভাইয়া বলল আশরাফ চৌধুরীর মেয়েকে সবাই চিনে। তখন ভাইয়া সব
বলল তোমার জেদ,,তোমার অহংকার,, তোমার don't care attitude
সম্পর্কে। আমি তখন ভাইয়াকে প্রমিস করেছিলাম ওকেই আমি
আমার করব। তখন থেকেই শুরু হলো আমার ভাবনা তোমায় নিয়ে। যতই
ভাবতাম ততই ভালো লাগত। লন্ডনে আমার রুমে তোমার ছবি
লাগানো। সেইগুলো দেখতাম আর ভাবতাম কবে তুমি বড় হবে? যখন
আমার PhD complete হলো তখন ই ভাইয়াকে বলে প্ল্যান করেই তোমার
ভার্সিটি তে যাই। প্রিন্সিপাল স্যার সব জানেন। আর যেদিন
তোমায় চড় মেরেছিলাম সেইদিন আমি নিজের হাত কেটেছি। এই
দেখো! (ইহিতার সামনে হাত বাড়িয়ে দিয়ে) বউমনি খুব বকেছিল
সেইদিন। যখন তুমি আমার দেওয়া ড্রেসটা কেটে ফেলেছিলে তখন
অনেক রাগ হয় আমার। আর তাই আমি তোমাকে এইভাবে বিয়ে করে
নিয়ে আসি। বলো আমার ভাবনা আর আমার কাজে কি কোনো ভূল
ছিল?
-একটাই তোর ভুল সেইটা আমায় ভালোবাসা আর বিয়ে করা।
-সেই ভুল তুমি চাইলেই শুধরে দিতে পারো! (একটু মুচকি হেসে ইশান)
-মরে গেলেও না। কখনো তোকে মেনে নিব না আমি শুনেছিস তুই?
-তাহলে তো আমার পাগলামী এপ্লাই করতে হবে আমার বউয়ের উপর।
-How dare u? তোর বউ কে?
-এই সুন্দরী আর পরীটা! চলো ঘুমাবে।
-তোর সাথে না!
-হ্যা আমার সাথেই আর আমার বুকের উপরে! (ইশান ইহিতার সামনে
দাঁড়িয়ে)
-What? ?
Previous
Next Post »