পালিয়ে বিয়ে পর্ব ০৮ ~ WriterMosharef

পালিয়ে বিয়ে পর্ব ০৮

পালিয়ে বিয়ে পর্ব ০৮

ইহিতাকে ইশান কোলে তুলে নিলো। ইহিতা ইশানের পিঠে মারছে
ওকে ছাড়ার জন্য কিন্তু ইশান শুনছেই না। ইশান ইহিতাকে ফুল দিয়ে
সাজানো বিছানায় শুইয়ে দিল। ইহিতা এক সাইড হয়ে শুয়ে পরে।
ইশান বিছানায় শোয় আর ইহিতাকে টেনে ওর পাশে নিয়ে আসে।
-আমাকে তুই টাচ করবিনা। তুই তোর মতো থাক আর আমায় আমার
মতো থাকতে দে।
-না। তোমায় টাচ করার পুরা অধিকার আছে আমার। কিন্তু এখন যদি
তুমি চুপচাপ আমার কাছে না ঘুমাও তাহলে তোমার সাথে নেক্সট এ
যা করব তার জন্য তুমি প্রস্তুত থাকবেনা ইহিতা। সো বুঝতেই
পারছো কি করব? (ইহিতার হাত ধরে ইশানের হাতের উপর শুইয়ে)
-ইশান তুই আমাকে তুলে নিয়ে বিয়ে করেছিস বলে আমার সব
স্বাধীনতা আর চাওয়া পাওয়া হরণ করে নেসনি। আমাকে আমার
মতো থাকতে না দিলে অবস্থা তোর আরো খারাপ হবে।
-ইহিতা চুপ করো। পাশে ভাইয়ার রুম। এত রাতে চেচালে তারা কি
ভাববে? (ইহিতার মুখে হাত দিয়ে)
-What the!! আমার মুখে হাত দিয়েছিস কেন?
-ঘুমাও তো আর যেভাবে আছো সেভাবেই ঘুমাও। (ইহিতাকে জড়িয়ে
ধরে)
-ইশান ছাড় আমায়। (ইহিতা চিল্লিয়ে)
-এই মেয়ে তো আমার কথাই শুনছেনা। স্কচটেপ নিয়ে আসবো এখন
দেখো।
-তুই আমায়....... (ইহিতা কিছু বলার আগেই ইশান ইহিতাকে কিস করে
দেয় আর ইহিতা চুপ হয়ে রাগি দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে থাকে ইশানের
দিকে আর ইশান ইহিতাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে যায়)
ইহিতা আনইজি তো ফিল করিছেই সাথে রেগেও আছে। এই ছেলে
পেয়েছে টা কি? যখন ইচ্ছা আমায় মারবে আর যখন ইচ্ছা আমায়
কিস করবে? ইহিতা সব রাগ একসাথে করে ঘুমিয়ে পরে।
সকালবেলা ইহিতা ঘুম থেকে জেগে দেখে ইশান এখনো ইহিতাকে
জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে আর ইহিতার গলায় ইশানের মুখের খোঁচা
খোঁচা দাঁড়ি লাগছে। ইহিতা একটু সরে গিয়ে উঠতে যায় তখন দেখে
ইহিতার শাড়ির আচল ইশানের পিঠের নিচে। ইহিতা লজ্জায় শেষ
হয়ে যায়। এখন ইশানকে ডাকলেই তো ও উঠে দেখবে ওকে এইভাবে
আর আরো লজ্জা পাবে ইহিতা। ইহিতা এখন কি করবে কিচ্ছু ভেবে
পাচ্ছে না! ইশানের প্রতি রাগ হচ্ছে কেন ওকে জড়িয়ে ধরতে গেল?
ইহিতা নড়াচড়া করতে থাকে অস্থিরতায়। ইশানের ঘুম ভেঙ্গে যায়
ইহিতার নড়াচড়াতে। ইশান দেখে ইহিতা জেগে গেছে আর ওর
কোনোকিছুর কোনো ঠিক নেই। শাড়ি পরা ওর অভ্যাস নেই তাই।
ইশান ইহিতার দিকে তাঁকিয়ে মুচকি হাসি দেয়। ইহিতার তো তখন
রাগে গা জ্বলতে থাকে। ইহিতা এক টানে শাড়ির আচলটা পরে
বিছানা থেকে উঠে শাড়িটা ঠিক করতে থাকে। ইহিতা পারছেনা
ঠিক করতে সব খুলে যাচ্ছে। ইশান হাতের উপর মাথা রেখে মায়াবী
দৃষ্টিতে দেখছে ইহিতার কর্মকাণ্ড আর হাসছে। আওয়াজ না করেই
হাসছে যাতে ইহিতা শুনতে না পায়। ইহিতার সিল্কি চুলগুলো জট
করে আছে। গয়নাগুলোও উলট পালট হয়ে সরে গেছে। ইহিতা যত
শাড়ি ঠিক করছে ততই খুলে যাচ্ছে। ইহিতা এইবার প্রচন্ড ক্ষেপে
যায়। শাড়ি ফেলে দিয়ে বিছানায় বসে পড়ে। ইশানের দিকে
একবারো তাকাচ্ছেনা ইহিতা। ইশান বিছানা থেকে উঠে
ইহিতাকে দাঁড় করায় আর ইহিতার শাড়ি ঠিক করে দেয়। ইহিতার চুল
ঠিক করে দেয় ইশান। ইহিতা বিরক্ত হয়েই সহ্য করলো। ইহিতা
রেডি হয়ে তিন্নির কাছে গেল। তিন্নি টেবিলে খাবার সার্ভ
করছিল আর আয়মান কফি খাচ্ছিলো। ইহিতা তিন্নিকে বলল
-Good morning বউমনি আর গুড মর্নিং ভাইয়া।
-Good morning ইহিতা। (দুই জন এক সাথে) ইশান কই?
-জানিনা। (বিরক্ত হয়ে ইহিতা)
-আচ্ছা বসো তুমি। (তিন্নি)
ইহিতা বসে পেপার পরছিল তখন ইহিতার বাবা আসে। বাবাকে
দেখে ইহিতা দাঁড়িয়ে যায় আর জড়িয়ে ধরে। চৌধুরী তিন্নির
হাতে এক ব্যাগ ওষুধ দিয়ে যায়। কিন্তু সবগুলোর নাম উঠানো।
তিন্নি অবাক হয়ে যায়।
-আংকেল এই মেডিসিন গুলো কেন?(তিন্নি)
-ইহিতাকে প্রতিদিন ২ টা করে খাইয়ে দিও মনে করে প্লিজ।
আমার মামনিটাকে দেখো।
-কিন্তু আংকেল এতগুলা মেডিসিন তাও নাম ছাড়া। আরর কিসের
ওষুধ এগুলো?
-আমার বুঝ হওয়ার পরই দেখছি বাবা প্রতিদিন ২ টা করে এই ওষুধ
আমায় খাওয়ায় কিন্তু কোনোদিন বলেনি কিসের ওষুধ। (ইহিতা)
-আংকেল বলেন কিসের ওষুধ ? (তিন্নি ভয় পেয়ে)
-এত কিছু বলতে পারব না। আমার অফিসের টাইম হয়ে গেল। যেতে
হবে আর ওষুধ গুলো খাইয়ে দিও প্লিজ। (এইই কথা বলে হনহন করে
বেরিয়ে যায় ইহিতার বাবা)
তিন্নি আর আয়মান দুইজন দুইজনের দিকে তাঁকিয়ে আছে। ইহিতা
ওষুধ গুলো নিয়ে ঘরে রেখে আসে। ইশান কে কেউ কিছু বলল না।
সবাই নরমালি নিল ব্যাপারটা কিন্তু তিন্নির মনে খটকা লেগে
গেলো। তিন্নি সবাইকে খাবার সার্ভ করলো। সবাই খেয়ে দেয়ে
উঠে গেলো। তিন্নি আয়মানকে বলল ইহিতার ব্যাপারটা। আয়মান
তিন্নিকে বলল হবে হয়ত কিছু। বাদ দাও,,খেতেই পারে। তিন্নিও
আর মাথা ঘামালো না। তিন্নি ইহিতাকে ওষুধ খেতে বলল। ইহিতা
ওষুধ খাওয়ার পর তিন্নি ইহিতাকে ছবির এলবাম দেখাতে বসলো।
পাশে ইশান বসে জুস খাচ্ছে। আয়মান অফিসে। তিন্নি ইহিতাকে
আগে ওদের বিয়ের ছবি দেখালো। ইহিতা হাসছে আর দেখছে আর
ইশান ইহিতার দিকে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তাঁকিয়ে আছে। এরপর তিন্নি
ইশানের ছবি দেখালো ইহিতাকে। ইহিতা হা হয়ে দেখছে আর
পাতা উল্টাচ্ছে। অনেক সুন্দর লাগছে ইশানকে। এরপর ইহিতা
আঁড়চোখে ইশানকে দেখলো এমনিতেও ইশান দেখতে
মাশায়াল্লাহ। একটু পর ইশানের ফোনে ইশানের বেস্ট ফ্রেন্ড
নাদিরা কল করলো। ইশান ইহিতা আর বউমনির সামনেই ফোন রিসিভ
করলো
-হ্যালো নাদিরা। কেমন আছিস? (হাসি মুখে ইশান)

-হ্যা আমিও ভালো আছি। বাংলাদেশে আসছিস কবে?

-তারাতারি আয়।
এসব শুনে ইহিতা রাগে দাঁড়িয়ে যায়। এরপর ইহিতা সেখান থেকে
ঘরে চলে যায় আর ওয়াশরুমে গোসল করতে ঢুকে। কিন্তু কোনো
কাপড় নিয়ে যায়নি ইহিতা সেই খেয়াল নেই ওর।
Previous
Next Post »