মনের অন্তরালে পর্ব ০২ ~ WriterMosharef

মনের অন্তরালে পর্ব ০২

মনের অন্তরালে, মনের অন্তরালে পর্ব ০২, moner antarale, moner antarale part 02
মনের অন্তরালে

অর্নীল নিজের অফিসে এসে বসে। লাঞ্চ টাইমে অর্নীল হালকা
কিছু খেয়েই আকাশ (অর্নীলের পিএ) কে বলে বেরিয়ে যায়।
মিমের অফিসে গিয়ে মিমের পিএ তাশিনের সাথে অর্নীলের
আগে দেখা হয়।
-জ্বি স্যার বলুন। কাকে চাই? (তাশিন)
-মিম রায়হান কোথায়? (অর্নীল)
-ম্যাম কেবিনে আছেন। কেনো?
-ওনার সাথে আমার কিছু জরুরী কথা আছে।
-স্যার আই এম স্যরি। ম্যামের পার্মিশন ছাড়া আপনাকে আমি
যেতে দিতে পারব না।
-তুমি জানো আমি কে? আমাকে এইভাবে কেউ কোথাও ওয়েট
করায়নি আর তুমি আমায় বলছো তোমার ম্যামের পার্মিশন ছাড়া
যেতে দিবেনা? হাউ ডেয়ার ইউ? (রেগে গিয়ে অর্নীল)
-স্যরি স্যার। আপনি যেই হন বাট ম্যামের সাথে দেখা করতে হলে
এপয়েনমেন্ট লাগবে তবেই যেতে পারবেন।
-তোমার ম্যামকে গিয়ে বলো অর্নীল চৌধুরী স্বয়ং এসেছে তার
সাথে কথা বলার জন্য। জাস্ট গো।
-হোয়াট? (থতমত খেয়ে গেলো তাশিন) আপনি অর্নীল স্যার? স্যার
আমায় মাফ করে দিন। আমি একদম ই আপনাকে চিনতে পারিনি।
আপনি বাস্তবে এত সুন্দর দেখতে যে চিনতেই পারিনি। স্যার স্যরি।
(তাশিন পারেনা কেঁদে দেয়)
-আজাইরা কথা না বলে যা বলেছি কর। (ধমক দিয়ে অর্নীল)
তাশিন দ্রুত মিমের কেবিনে যায়। মিম তখন জুস খাচ্ছিলো আর
ল্যাপটপে অফিসের কিছু কাজ করছিলো।
-ম্যাম অর্নীল চৌধুরী এসেছেন আপনার সাথে দেখা করতে।
(হাঁপাতে হাঁপাতে তাশিন)
-কোন অর্নীল চৌধুরী? (মিম)
-চৌধুরী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির মালিক।
-উনি কেনো এসেছেন? যাইহোক আসতে বলো কেবিনে।
-আচ্ছা।
তাশিন গিয়ে অর্নীলকে কেবিনে আসতে বলে। অর্নীল পার্মিশন
না নিয়েই কেবিনে ঢুকে গেলো। এই প্রথম অর্নীল আর মিম
মুখোমুখি। অর্নীলকে এইভাবে ঢুকতে দেখে মিমের মেজাজ খারাপ
হয়ে যায় তবুও ভদ্রভাবেই বলেছে
-বসুন। (মিম)
-আমি বসতে আসিনি। কালকে আপনি আমার আম্মুকে হসপিটালে
নিয়ে গিয়েছিলেন। মেডিসিন কিনে দিয়েছেন। আপনি হয়ত
জানতেন না উনি অর্নীল চৌধুরীর আম্মু। কত টাকা খরচ করেছেন
কাল?
-মানে? (মিম দাঁড়িয়ে যায়)
-মানে আপনি কালকে আমার আম্মুর পেছনে কত টাকা খরচ করেছেন?
(মিমের চোখের দিকে তাঁকিয়ে অর্নীল)
-সেইসব খবর মিম রায়হান রাখেনা। কেনো জিজ্ঞেস করছেন এসব?
(টেবিলে হাত রেখে মিম)
-জিজ্ঞেস করছি কারণ আমার আম্মু আর কারো দয়ায় বাঁচবেনা আর
সেইটা আমি চাইনা। কত খরচ করেছেন? হাজার বারশো? নাকি
আরো বেশি?
- মিস্টার চৌধুরী বারাবারি হচ্ছে কিন্তু। (মিম রেগে যায়)
-আমি করব বারাবারি তাও আপনার মতো একটা ডিজগাস্টিং
মেয়ের সাথে? যাইহোক আপনাকে বলতে হবেনা যে কত খরচ
করেছেন আমিই দিচ্ছি।
অর্নীল মানিব্যাগ থেকে পাঁচ হাজার টাকা বের করে মিমের
টেবিলের উপর রাখে। মিম টাকাগুলো দেখে অর্নীলকে হেসে
জিজ্ঞেস করলো,
-অপমান করার জন্য আর কাউকে পেলেন না নাকি? চিনেন না,
জানেন না, কখনো দেখেন নি তাকে এসে এইভাবে অপমান করছেন?
(অর্নীলের সামনে এসে মিম)
-অপমান না, ধার শোধ। অর্নীল চৌধুরী কারো দয়ায় বাঁচবেনা আর
তার আম্মুকে তুমি হেল্প করেছো। তার তো গায়ে লাগবেই। যাই
হোক বাই।
অর্নীল পেছনে ঘুরে কেবিনের দরজার সামনে যায় আর মিম তখন
বলে,
-হেই লিসেন!
অর্নীল পিছু ঘুরে তাঁকালো।
-ফার্স্ট অফ অল আমি ভিখারি নই যে আপনি আমায় ভিক্ষা দিবেন।
ভুলে যাবেন না আপনার অপজিটেই কিন্তু আমি আছি। আর
সেকেন্ডলি টাকাগুলো নিয়ে যান নচেৎ মিম রায়হান এই মুহূর্তে কি
করতে পারে সেইটাই দেখবেন আপনি। আমাকে ডিজগাস্টিং
বলছিলেন না? হ্যা আমি ডিজগাস্টিং। চিনেনই তো আমাকে সো
টাকাগুলো তুলে এরপর নিজের পকেটে ঢুকিয়ে চলে যান। এছাড়া
আর একটা শব্দও আমি শুনতে আগ্রহী নই। (হাতে পেন্সিল ঘুরাতে
ঘুরাতে মিম)
-রিয়েলি? আমি কাউকে কিছু দিলে তা ফেরত নেইনা। আমি এমনি
সো আপনাকেই রাখতে হবে টাকাগুলো। এছাড়া আর কোনো ওয়ে
আমি দেখছিনা।
-শিউর?
-ইয়াহ।
মিম টেবিল থেকে টাকাগুলো নিয়ে জানালা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলল
অর্নীলের দিকে তাঁকিয়েই। অর্নীল অবাক হয়ে গেলো। এত
ডেঞ্জারাস আর একরোখা অর্নীল ছাড়া আর কেউ আছে নাকি?
এইটা ভেবেই অর্নীল আশ্চর্য হচ্ছে।
-ঠু মাচ এটিটিউড! (অর্নীল মিমকে বলল)
-সেইটা আমার না আপনার। ভালোভাবে বললাম নিলেন না তাই
বাধ্য হয়ে ছুঁড়ে ফেলতে হলো। আসলে যার মান্থলি আয় কোটি
টাকা তার কাছে এই কয়েক হাজার টাকার কোনো মূল্য নেই। শেষ
আপনার বলা বা দেখা? এখন আসুন। (ঠোঁট বাঁকিয়ে মিম)
-আপনি মেয়ে তাই আজ বেঁচে গেলেন। নারীদের সম্মান দিতে
অর্নীল জানে তাই ছেড়ে দিলাম।
অর্নীল ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিয়ে হন্তদন্ত হয়ে সেখান থেকে
বেরিয়ে আসে। রাগে অর্নীল শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতদিন জানতো
মিম রায়হান মানেই আতঙ্ক, উগ্র, বদমেজাজি আর আজ দেখলো
প্রচন্ড জেদি ও! অর্নীলকে জায়গায় দাঁড়িয়ে অপমান করা মুখের
কথা নয় আর আজ মিম সেইটাই করেছে। অর্নীল অফিসে না গিয়ে
বাসায় এসে রাগ করে দরজা লাগিয়ে দিয়ে বসে আছে নিজের
ফোনটা হাতে নিয়ে। অর্নীল এতটাই রেগে আছে যে মাথার পাশের
নীল রগগুলো ফুলে উঠেছে আর ফর্সা মুখে রক্ত গুলো দলা হয়ে
আছে মনে হচ্ছে। অর্নীল ফোনটা এত জোরে চাপ দেয় যে ফোনটা
ভেঙে কাঁচগুলো হাতের মধ্যে ঢুকে যায়। অর্নীলের কোনো খেয়াল
নেই তাতে। যখন খেয়াল হলো তখন অর্নীল হাতের দিকে তাঁকিয়েই
বলল,
-মিম রায়হান আই উইল সি ইউ। তুমি অর্নীলের ইগোতে আঘাত
করেছো। তার ফল যে কি হবে ইউ হ্যাভ নো আইডিয়া।
ওইদিকে মিম রাতে বাসায় ফিরে প্রতিদিনকার মতো বাপির সাথে
গল্প জুড়ে দিলো। অর্নীল সারাদিন আর সারারাত দরজা বন্ধ করেই
ছিলো। অর্নীলের মা পারেনি ছেলেকে ঘর থেকে বের করে
আনতে। অর্নীলের মা বুঝছেন না কি হয়েছে অর্নীলের। সে ও মহা
চিন্তায় পরে গেলো। অর্নীল সকালবেলা হাতে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে
বেরিয়ে আসে আর আম্মুকে বলে,
-চিন্তা করছিলে কেন? বলেছিনা আমি ঠিক আছি।
-কালকে সেই যে দুপুরে এসেছিস বাসায় এর মাঝে এক গ্লাস
পানিও খাস নি তুই। কি হয়েছে তোর বল আমায়? (কাঁদোকাঁদো
গলায় অর্নীলের আম্মু)
-কিছু হয়নি। আজকে অফিসে যাবনা। ভালো লাগছেনা।
-আব্বু একটা কথা বলি? (আম্মু)
-হুম
-এইবার কি তুই বিয়েটা করবিনা? আমি কি এইভাবেই একা একা পরে
থাকব ঘরের কোনে?
-পার্ফেক্ট মেয়ে পেয়েছো আমার জন্য?
-তোর কাছে পার্ফেক্ট মেয়ে মানেই কি গ্রামের মেয়ে নাকি?
শহুরে মেয়েরা কি পার্ফেক্ট হয়না? আর কত মেয়ে দেখব একটু বল
আমায় আব্বু?
-যতদিন না আমার কাউকে পছন্দ হচ্ছে।
-এক্সেক্টলি কেমন মেয়ে পছন্দ তোর একটু বল তো!
-খুব সাধারণ একটা মেয়ে যার মধ্যে আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া
থাকবেনা, খুব শান্ত হবে, আমার বিপরীত হবে সবকিছুতে। ইমমেচ্যুর
ভাব থাকবে যার মধ্যে আর রেসপেক্ট দিতে শিখবে যে।
-এত বছর বিদেশে থেকেও কেন তুই এমন মেয়ে চাইছিস হ্যা? কে
ঢোকালো এসব তোর মাথায়? নিশ্চই তোর নানাভাই তাইনা?
-নানাভাই আমার চাওয়াতেই সবসময় সাপোর্ট করেছে। নানাভাই
কিছুই বলেনি আমায়।
-এইরকম মেয়ে তোর স্ট্যাটাস এর সাথে যায়না অর্নীল। তোর জন্য
মিমের মতো মেয়েকেই মানায়। যেমন রুপে তেমন গুণে। লক্ষ্মী
একটা মেয়ে।
-প্লিজ আম্মু এইখানেই থামো। কার সাথে কাকে মেলাচ্ছো তুমি?
থার্ড ক্লাস মাইন্ডেড মেয়ে একটা। (আবারো রেগে যায় অর্নীল)
-তুই কেন বারবার মেয়েটাকে অপমান করছিস? কি করেছে ও তোর?
কিরে তোর হাতে কি হয়েছে? হাতে ব্যান্ডেজ কেনো? (অস্থির
হয়ে অর্নীলের আম্মু)
-সামান্য কেটে গেছে।
-কিভাবে?
-ফোন ভেঙে।
-ওষুধ লাগিয়েছিস?
-হ্যা।
কয়েকদিন যাওয়ার পর কারো সাথেই আর কারো দেখা হয়নি।
মিমের নাম ও শুনতে পারেনা অর্নীল। অর্নীলের কাছে মনে হয় মিম
ই ওর একমাত্র শত্রু। মিম ভুলেই গেছে সেইদিনের টাকা নিয়ে
ঘটনাটা।
একদিন অফিসে ঢুকে মিম দেখে চারজন স্টাফ আসেনি। পরে তারা
লেইট করে এসেছে। মিমের রাগ তখন আর কে দেখে! মিম সোজা
কেবিন থেকে বেরিয়ে যায় আর ওই চারজনকে দাঁড় করায়। ভয়ে
সবাই কুঁকড়ে আছে। কারো হাতে কোনো কাজ আসছেনা।
-কেনো লেইট করেছেন আপনারা? আমি আন্সার চাই কেনো লেইট
করেছেন? (টেবিলে থাপ্পড় মেরে মিম)
-স্যরি ম্যাম আর হবেনা। এইবারের মত মাফ করে দিন। (ক্ষমা চেয়ে
চারজন)
-কালকে থেকে অফিসে আসবেন না আপনারা। বাসায় বসে
ঘুমাবেন। আপনাদের মতো এমপ্লয়ি আমি রাখতে চাইনা। গেট আইট!
আই সে আউট! (ধমক দিয়ে মিম)
মিমের কথা শুনেই চারজন বেরিয়ে গেলো।
মিম সবাইকে স্ট্রিকটলি বলে দিলো কেউ লেইট করে আসতে
পারবেনা। মিমের ভয়ে অফিসের সবাই তটস্থ থাকে।
Previous
Next Post »