মনের অন্তরালে পর্ব ০৪ ~ WriterMosharef

মনের অন্তরালে পর্ব ০৪

মনের অন্তরালে পর্ব ০৪
মনের অন্তরালে

মিম আর অর্নীল একসাথেই ফিল্ড ওয়ার্ক করে তবে দুইজন দুইদিকে
থেকে। অর্নীল সানগ্লাস পরেছিলো সারাটাক্ষণ আর সাদা শার্ট,
কালো প্যান্ট। মিম পিংক কালার শার্ট আর কফি কালার প্যান্ট
পরা ছিলো। কানে বল রিং ছিল। আর চুলগুলো সানগ্লাস দিয়ে
আটকে রেখেছিলো। অর্নীল মনে মনে বলছিলো,
-দেখতে তো খুব সুন্দর কিন্তু এইভাবে ছেলেদের মতো থাকে কেন?
আর এত চিকনা কেন? আরেহ আজব! আমি কেন আবার ওই উগ্র
মেয়েটার কথা ভাবছি। ভাববে তো ওর বয়ফ্রেন্ড।
অর্নীল তখন সিনিয়র দের সাথে ডিসকাস করছিলো নেক্সট স্টেপ
কি হবে। মিম তখন বাপির সাথে কথা বলছিলো একটু দূরে গিয়ে।
অর্নীলের কানে হালকা আওয়াজ আসছিলো। অর্নীল কথা রেখে
মিমের দিকে তাঁকালো।
-কি আজব? কাজে এসেও বয়ফ্রেন্ড এর সাথে কথা বলা লাগে
নাকি? খাইছো, ঘুমাইছো এসব কি? মিম রায়হান এসব ন্যাকামিও
করে নাকি? (মনে মনে কথাগুলো বলে হাসলো অর্নীল)
প্রায় পনেরো মিনিট পর মিম ফোনটা হাতে নিয়ে এগিয়ে আসছে।
অর্নীল তখন আর সেইদিকে ছিল না। তাশিন মিমকে ফোন দিলো
তখন।
-ম্যাম আসসালামু আলাইকুম।
-হুম ওয়ালাইকুম সালাম। কেন ফোন করেছো?
-ম্যাম গোমেজ স্যার আমায় ফোন করেছিলেন এই মাত্র।
-হুম কেন?
-আমাকে আসতে বললেন আপনাদের সেমিনারে।
-তো আসো।
-কেন আসতে বলেছে জানেন?
-কেনো?
-আপনাকে সাজাতে।
-হোয়াট? আমাকে সাজাতে মানে? (মিম এইবার সিরিয়াস হলো)
-যেভাবেই হোক আপনাকে তাঁত পরতেই হবে। ওনারা আপনার জন্য
দামী একটা তাঁত এনেছেন। আপনাকে নেক্সট দিন ওইভাবেই থাকতে
হবে ম্যাম।
-নো ওয়ে। ওইসব যে আমি পরিনা সেইটা তুমি খুব ভালো করে
জানো তাশিন। যদি ওনারা এতই জোরাজোরি করে তো আমি ঢাকা
চলে আসছি।
-ম্যাম শুনুন। আপনার কি একবার দেখতে ইচ্ছে করেনা বাঙালি
পোষাকে আপনাকে কেমন লাগে? আপনার অফিসের মেয়ে স্টাফরা
কয়েকজন শাড়ি পরে আসে তখন আপনি তো তাদের এপ্রিশিয়েট
করেন। তাহলে নিজে কেন পরবেন না ম্যাম? ম্যাম প্লিজ অন্তত
এতগুলো মানুষের ইচ্ছেটা পূরন করুন৷ আপনি না আমার ভালো ম্যাম।
-দেখো তাশিন আমাকে চটিয়ো না। রেজাল্ট ভালো হবেনা।
মিম রেগে গিয়ে ফোন কেটে দেয়। মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেলো
ওর। তাশিন বুঝেছে মিস্টার রায়হানকেই লাগবে মিমকে রাজি
করাতে। এছাড়া আর কেউ পারবেনা। তাশিন মিমের বাপিকে ফোন
দিয়ে সব বুঝিয়ে বলে। মিমের বাপি মিমকে ফোন দিয়ে বলে,
-মামনি আমি একটা জিনিস চাইবো তোমার কাছে। দিবে?
-আজ পর্যন্ত এমন কি আছে যা আমি তোমাকে দেইনি। বলো। (মিম)
-তুমি কালকে শাড়ি পরে হোয়াটস আপ এ আমায় পিকচার সেন্ড
করছো। আমি আমার মেয়েকে শাড়ি পরা অবস্থায় দেখতে চাই।
-হোয়াট ইজ দিজ বাপি? এইভাবে কেন লাগছো তোমারা আমার
শাড়ি পরা নিয়ে? তুমি তো জানো এইসব আমি কখনো পরিনি আর
পারব ও না পরতে।
-সেইটা তোমার ইচ্ছা তবে আমি তোমার কাছে চেয়েছি এইটা।
দিবা কি দিবানা সেইটা তুমি জানো। রাখছি।
মিমের বাপি ফোন কেটে দেয়। মিমের বাপি ড্যাম শিউর মিম
কালকে যেভাবেই হোক শাড়ি পরবে ওর বাপির জন্য। মিমের বাপি
তাশিনকে বলে বান্দরবান চলে যেতে মিমকে সাজানোর জন্য।
তাশিন জিজ্ঞেস করলো,
-স্যার, মেডাম কি রাজি হয়েছে? (তাশিন)
-না তবে হবে। তুমি যাও বান্দরবান।
-ওকে স্যার।
তাশিন সেইদিন সন্ধ্যা বেলায় বান্দরবান চলে আসে। তাশিনকে
দেখে মিম অবাকই হলো কিন্তু মিম নিজের ঘরে ঢোকার আগে
তাশিনকে বলে,
-কালকে সকাল নয়টায় আমার ঘরে এসো। শাড়ি পরাতে পারো?
-জ্বি ম্যাম পারি। (খুশি হয়ে তাশিন)
-ওকেহ। নয়টায় কিন্তু।
-ওকে ম্যাম। গুড নাইট।
তাশিন নিজের ঘরে এসে লাফালাফি শুরু করে। কালকে সকালে
কি যে হবে? তাশিন মিমের বাপিকে ফোন করে বলে মিম রাজি
হয়ে গেছে। তাশিন মিস্টার গোমেজকে জানিয়ে দেয় মিম রাজি
আর সকালে যেন শাড়িটা পাঠিয়ে দেয়। মিস্টার গোমেজ খুব খুশি
হয়ে যায়। তাশিন শুধু ভাবছে মিমকে কিভাবে সাজাবে?
পরেরদিন সকালে....
মিম অস্বস্তি নিয়ে ঘুম থেকে উঠে। ওকে আজকে শাড়ি পরতে হবে
যা ও কখনো ভাবেনি। তাশিন সকাল সকাল এসে মিমের ঘরে
হাজির। মিম ফ্রেশ হয়ে আসে আর ব্রেকফাস্ট করে ফিল্ড
ওয়ার্কের আগে রেডি হতে বসে। মিমের তাঁতটা জাম কালার আর
হালকা লালচে। দেখতে খুব সুন্দর। তাশিন সুন্দর করে মিমকে তাঁতটা
পরিয়ে দেয়। কুচি ছাড়াই মানায় এই তাঁত। বাঙালি স্টাইলে মিমকে
শাড়িটা পরায় তাশিন। মিমের চুলগুলো খোপা করে বেলিফুলের
মালা আটকে দেয় চারপাশে। চুলের মাঝখানে বেশ সুন্দর একটা
সিঁথি! বাদামী রঙের চুলগুলো এত সুন্দর ভাবে মানিয়েছে শাড়িটার
সাথে যা মিমকেও মুগ্ধ করে দিয়েছে। কানে বড় ঝুমকো আর গলায়
প্লাটিনামের হালকা নেকলেস। মিম শু পরে কমফোর্ট ফিল করে
কিন্তু আজ প্লেইন হিল পরতে হলো। সব শেষ হয়ে গেলে মিম
নিজেই নিজেকে আয়নায় দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়। মিম হাত দিয়ে ওর
মাথাটা ছোঁয় একবার আর একবার নিজেকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত
দেখে। ফর্সা মুখে কালো কাজল আর জাম কালার লিপস্টিক এত
সুন্দর মানিয়েছে মনে হচ্ছে একদম তুলি দিয়ে কোনো মাটির
পুতুলকে সাজানো হয়েছে। মিম বলেই ফেলে,
-মার্ভালাস!! কান্ট এক্সপ্লেইন! থ্যাংক ইউ তাশিন আমার নিজেকে
নিজের নতুন করে দেখার চান্স করে দেওয়ার জন্য।
-ম্যাম থ্যাংকস তো রায়হান স্যারের প্রাপ্য।
-হ্যা। বাপিকে তো দেখাতে হবে তার মেয়েকে কেমন লাগছে।
(মিম)
মিম তাশিনকে ওর ফোন দিয়ে বলল ছবি তোলার জন্য। কতগুলো
স্টাইলিশ ছবি তুলে মিম ওর বাপিকে হোয়াটস আপ করে দিলো।
এরপর মিম মিস্টার গোমেজের কল পেয়ে বেরিয়ে যায়। হাঁটতে কষ্ট
হচ্ছে কিন্তু শান্তি লাগছে মিমের। সব অফিসারস রা সেখানে
ওয়েট করছিলো মিমের জন্য। অর্নীল প্রচন্ড রেগে যায় মিমের জন্য
ওয়েট করতে করতে। অর্নীল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কফি খাচ্ছে আর
রাগে ফুঁসছে। মিম ওর বাপির সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে
এগিয়ে আসছিলো আর তাশিন মিমের সাথেই আসছিলো। মিমকে দূর
থেকে দেখে সবাই বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায়। অর্নীল পাহাড়ের
দিকে মুখ করে কফি খাচ্ছিলো আর মিম ওর পেছনে। কফি খাওয়া
শেষ করে অর্নীল মগটা দেওয়ার জন্য ঘুরতে যাবে তখনি মিমের
দিকে চোখ যায়। অর্নীল বাধ্য হয় সানগ্লাস খুলে তাঁকাতে। কফি
মগটা দিতেই অর্নীল ভুলে গেছে। মিম সামনে চলে আসার পরেও
অর্নীলের ঘোর কাটছেনা। অর্নীল মিস্টার গোমেজকে জিজ্ঞেস
করে,
-হু ইজ শি? মিম রায়হান তো?
-স্যার আমিও কনফিউজড! কি দেখছি? নিজের চোখকেই বিশ্বাস
হচ্ছেনা। (মিস্টার গোমেজ)
মিম সামনে এসে সবাইকে গুড মর্নিং বলল। মিস্টার গোমেজ মজা
করেই বলল,
-ম্যাম আপনি? আমি তো ভাবলাম অন্যকেউ চলে এসেছে। হাউ
বিউটিফুল ইউ আর! প্রশংসা করলেও কম হয়ে যাবে। অনিন্দ্য লাগছে
একদম। (মিস্টার গোমেজ)
-থ্যাংক ইউ সো মাচ! যাওয়া যাক।
-প্লিজ ইটস মাই প্লেজার! (মিস্টার গোমেজ)
তাশিনসহ ওরা সবাই দুইটা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেলো। অর্নীল এক
গাড়িতে আর মিম আরেক গাড়িতে। অর্নীল শুধু ভাবছে এইটা কে?
সেই উগ্র মেয়েটা কোথায়? মিম রায়হান তো এইটা নাকি? আর মিম
রায়হান যদি হয় তবে তার সম্পর্কে আমার আর কিছু বলার নাই।
এতদিনের ধারণা সব ভুল ছিলো। অর্নীল চৌধুরীর ধারণাও ভুল হয়?
মিম পাহাড়ে নেমে তাশিনকে বলল,
-ভালো হয়েছে তুমি এসেছো। একা একা লাগছিলো।
-ম্যাম ট্রাস্ট মি! আমি এখনো চোখ সরাতে পারছিনা আপনার
থেকে। (তাশিন)
-কেনো?
-ইউ জাস্ট কান্ট ইমাজিন কত সুন্দর লাগছে আপনাকে।
-থাক আর বলতে হবেনা। আমি এমনিতেই সুন্দর! (হাসি দিয়ে মিম)
-হেই মিস বাদামী চুল? (পেছন থেকে মিমকে ডাক দিয়ে অর্নীল)
মিম অর্নীলের ডাক শুনে রেগে যায়নি তবে মুড অফ করে ফেলেছে।
মিম পেছনে ঘুরে বলে,
-হোয়াট ডু ইউ মিন বাই বাদামী চুল? (কর্কশ গলায় মিম)
-বাদামী চুলকে বাদামীই বলা উচিৎ।

আরো..

Previous
Next Post »