মনের অন্তরালে পর্ব ০৮ ~ WriterMosharef

মনের অন্তরালে পর্ব ০৮

মনের অন্তরালে পর্ব ০৮
মনের অন্তরালে

তাশিনের বলা প্রত্যেকটা কথা অর্নীল মনোযোগ দিয়ে শুনছে।
নিজের বেডরুমে দাঁড়িয়ে প্যান্টের পকেটে এক হাত আরেকহাত
ফোনে। তাশিন আবার বলতে শুরু করলো,
-ম্যামের ভীষণ জেদ ছিল নাহিল ভাইয়াকে বিয়ে করবে বলে।
ওনার আম্মুর জেদ এই ছেলের কাছে বিয়ে দিবেন না বলে। রায়হান
স্যার রাজি ছিলেন মেয়ের সুখের জন্য কিন্তু ইশিতা ম্যাম রাজি
ছিলেন না। যেদিন ম্যামের ২০ তম জন্মদিন পালনের জন্য পুরো
বাড়ি সাজানো হলো ওইদিন ম্যাম নাহিল ভাইয়াকে ইনভাইট
করেছিলেন। নাহিল ভাইয়াকে দেখে ইশিতা ম্যাম প্রচন্ড রেগে
যান। ম্যামের সাথে তখন ইশিতা মেডামের প্রচন্ড ঝগড়া হয়
গেস্টদের সামনে। ঝগড়ার এক পর্যায়ে মিম ম্যাডাম রেগে ইশিতা
ম্যাডামকে তুই করে বলে ফেলেন। নাহিল ভাইয়া আর রায়হান স্যার
কেউই মিম ম্যামকে আটকাতে পারেনি। ম্যামের এই আচরণে ইশিতা
ম্যাডাম প্রচন্ড কষ্ট পায়। মিম ম্যাডাম তখন বুঝেছে সে আম্মুকে
অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছে। ইশিতা ম্যাডাম গার্ডেনের থেকে
দৌড়ে ঘরে ঢুকতে যান তখন তিনি পরে গিয়ে গেইটের লোহার
সাথে ঢুকে যান। সাথে সাথে রক্তে চারদিক ভরে যায়। ম্যাম
সেইখানে চিৎকার দিয়ে সেন্সলেস হয়ে যায় আর নাহিল ভাইয়া
মিম ম্যামকে না দেখে দৌড়ে ইশিতা ম্যাডামের কাছে যান।
ওনাকে বাঁচাতে গিয়ে সেইদিন একইভাবে নাহিল ভাইয়াও পরে
যায়। ভাইয়ার মাথায় ঢুকে যায় একটি রড। রায়হান স্যার পুরো
পাগলের মতো হয়ে যায় আর ম্যাডাম তো সেইদিন থেকে এই তিনটা
বছর কেঁদে কেঁদে কাটিয়ে দিয়েছেন। ওনাদের হাসপাতালে
নেওয়ার পরেও নাহিল ভাইয়া আর ইশিতা ম্যাম বেঁচে ছিলেন।
ডক্টর ট্রিটমেন্ট শুরু করার আগেই ইশিতা ম্যাম মারা যান আর ঠিক দু
মিনিট পরে নাহিল ভাইয়াও মারা যায়। সেইদিন থেকেই মিম
ম্যামের দুনিয়া উলটে যায়। চোখের সামনে দুইজন ভালোবাসার
মানুষের মৃত্যু দেখে ম্যাম একটা বছর পুরো চুপ ছিলেন। কারো সাথে
একটা কথাও বলেন নি। ম্যাম সেইদিনের পর থেকে জন্মদিন দেখতে
পারেন না। নিজের জন্মদিন যেদিন আসে সেইদিন ম্যাম সারাক্ষণ
ঘরে বসে কান্না করে আর সন্ধ্যায় কবরস্থানে যায়। সেই ২০১৬ এর
কথা মনে রেখেই ম্যাম নিজের রাগ আর জেদ অনেক কমিয়ে
দিয়েছেন। বাপি বলতে অজ্ঞান ম্যাম। নিজেকে আবার নতুন করে
দাঁড় করিয়েছেন রায়হান স্যারের হেল্প নিয়ে। আমি এখনো দেখি
কেবিনে বসে ম্যামকে কাঁদতে। ম্যামের কেবিনে নাহিল ভাইয়া
আর ইশিতা ম্যামের দুইটা ফটো আছে। অফিসের দুইজন ব্যক্তি
ছাড়া আর কেউ জানেনা এসব। একজন আমি আরেকজন ম্যানেজার।
আপনি কেন এসব জানতে চাইলেন স্যার? (চোখের পানি মুছে
তাশিন)
-আসলেই মিমের সাথে এমন কিছু হয়েছে? (অর্নীল যেন বিশ্বাস
করতে পারছেনা)
-এইটাই হয়েছে। একটাই শব্দ তুই। এই শব্দটার জন্য আজ ম্যাম এতটা
ডেপ্রাইজড। মিম ম্যাম বাইরে থেকে যতটা হার্ড ভেতর থেকে তার
চেয়েও বেশি ক্ষতবিক্ষত। রায়হান স্যার মেয়েকে একদম নিজের
মতো ছেড়ে দিয়েছেন। রায়হান স্যার ওই মুহুর্তে মেয়েকে ফেলে
দেয়নি। সে ভাগ্য হিসেবে মেনে নিয়েছিলো।
-মিমের বার্থডে কবে?
-২৯ অক্টোবর।
-থ্যাংক ইউ এত কিছু বলার জন্যে। মিমকে কিছু বলার দরকার নেই।
-ঠিক আছে স্যার।
অর্নীল ফোনটা কেটে দিয়ে ফোনটা বিছানার উপর ছুঁড়ে মারে।
অর্নীল দুই হাত পকেটে দিয়ে ভাবছে,
-এতদিন ভাবতাম পৃথিবীর একমাত্র সাফারার আমি, একমাত্র অসহায়
ছেলেটাও আমি। আজ এসব কি শুনছি? আমার তো বাবা থেকেও নেই
আর ও একসাথে একইদিমে দুইজনকে হারিয়ে ভাল আছে? নাকি
অভিনয় করছে?
অর্নীল কখনই মিমের কোনো বিষয়ে বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্ট
দেখায়নি কারণ অর্নীল সবসময় সাধারণ একটা মেয়েকে চাইতো।
ওইদিন রাতে অর্নীল ঘুমাতে পারেনি। অর্নীল সারাক্ষণ ভেবেছে
ও এতদিন এতটা ভুল কি করে করলো?
পরেরদিন বিকালবেলা....
অর্নীল অফিসের ফাইল নিয়ে আকাশকে সাথে করে হোটেল রুফ
টপে যায়। অর্নীল ফাইল উলটাচ্ছিলো আর আকাশের সাথে কথা
বলছিলো। হোটেলে ঢুকার পর অর্নীল ফাইলদুটো আকাশকে দিয়ে
ভেতরে বসে। মিটিং এ মিম ও থাকবে বলে কথা ছিলো। অর্নীল
এসে দেখে মিম এসেছে। তাশিন আসেনি। মিমকে দেখে অর্নীলের
কালকের কথা মনে পরলো। সবাইকে গুড আফটারনুন জানালো
অর্নীল কিন্তু মিম তাঁকালো ও না অর্নীলের দিকে। মিম বসে বসে
ফোন ইউজ করছিলো। অর্নীল কথা শুরু করার পর মিম ফোন রাখলো
আর হাত ভাঁজ করে শুধু শুনছিলো ওর কথাগুলো। অর্নীলের একটা
লাইন ভুল ছিলো। মিম তখন কিছু বলেনি আর কেউ কিছু বুঝেও নি।
মিটিং শেষ হওয়ার পর মিম কথা না বলে অর্নীলের থেকে হাত
ইশারায় পেপারস চাইলো। পেপারস গুলো নিয়ে মিম পেন দিয়ে
লাইনটা কারেক্ট করে দিয়ে উঠে গেলো কারণ ওর তাড়া আছে।
মিম গাড়িতে উঠবে আর তখনি অর্নীল ওকে ডাকে,
-মিস রায়হান?
-হুম।
-কোথায় যাচ্ছেন?
-ওইটা আমার ব্যাপার। জেনে কি করবেন?
-চলেন আমি দিয়ে আসছি। আমি ফ্রি আছি৷ আমি জানি আপনি এই
সময় কোথায় যান। (মিমের সামনে এসে অর্নীল)
-কোথায় যাই? (সানগ্লাস মাথায় তুলে মিম)
-চলুন নিয়ে যাই। আর সেইদিনের জন্য আমি স্যরি। অর্নীল চৌধুরী
কাউকে স্যরি বলেনা। আপনাকেই বলেছে।
-ইটস ওকে। আমার লেইট হয়ে যাচ্ছে। বাই।
-উহুম বলেছি আমি নিয়ে যাব। (মিমের গাড়ির গ্লাস ধরে অর্নীল)
অর্নীল ওর গাড়ির পেছনে ফাইলগুলো নিয়ে মিমকে ওর গাড়িতে
বসতে বলল। আর আকাশ কে বলল মিমের বাসায় মিমের গাড়িটা
দিয়ে আসতে। মিমের লেইট হচ্ছে বলে মিম তর্কে গেলো না। মিম
অর্নীলের গাড়িতে গিয়ে বসলো আর অর্নীলকে বলল,
-আমি বনানী.....
-আমি জানি তো। নিয়ে যাই? (মিমকে থামিয়ে অর্নীল)
-কি জানেন আপনি?
অর্নীল এইবার আর কোনো কথা না বলে গাড়ি স্টার্ট করলো। মিম
সিট বেল্ট বেঁধে বসলো। মাথার খোলা চুলগুলো কাটা দিয়ে
আটকালো আর চুলের কোণাগুলো বেরিয়ে ছিলো। সারাটাক্ষন মিম
বাইরে তাঁকিয়ে ছিলো। অর্নীল ওকে বনানী কবরস্থানে নামিয়ে
বলে
-যান। আমি ওয়েট করছি।
-আপনি কি করে জানেন আমি এই সময়ে এখানে আসি?
-সবই জানি। আপনার লেইট হচ্ছে।
মিম আর কথা না বলে জুতা খুলে এগিয়ে যায়। মিম সেখানে প্রে
করে আর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। আযান দেওয়ার পর সেখান
থেকে বেরিয়ে আসে। অর্নীল ও উঠে গাড়িতে বসে।
-আপনি কি করে জানেন এসব? (মিম)
-সেইটা ফ্যাক্ট না। জানতে পেরেছি এইটাই বড় কিছু। অভিনয় করে
আছেন কি করে?
-কিসের অভিনয় করছি আমি? (ভ্রু উঁচু করে মিম)
-এই যে জিন্দা লাশ হয়ে কিভাবে বেঁচে থাকা যায়।
-আমি ঠিক আছি। আমি কোনো লাশ টাশ নই।
-অনেক ভালবাসেন ছেলেটাকে তাইনা? (গাড়ি চালাতে চালাতেই
অর্নীল)
-সেসব আপনাকে কেন বলতে যাব?
-বলবেন এই কারণে যে এখন থেকে উই আর ফ্রেন্ডস। আমি আর
আপনার পিছু লাগব না। প্রমিস।
-স্যরি আমার কোনো ফ্রেন্ড দরকার নেই। ভালো আছি আমি।
তাড়াতাড়ি চালান। আমি বাসায় যাব।
-ফ্রেন্ডশিপ করতে না চাইলে তো জোর করে করাতে পারিনা।
মিম আর কিছু বলেনি। অর্নীল মিমের বাসায় গিয়ে মিমকে
নামিয়ে চলে আসে। মিম একবার বলেও নি বাসায় আসতে। ও আর
কোনো ছেলেকে বাসায় নিয়ে আসেনা যদি বলতে হয় ভালবাসি,
এই ভয়ে। অর্নীল ও এখন আর মিমকে আগের মতো চাইলেও ভাবতে
পারেনা। তবে খুব বেশি সিম্পেথি ও দেখায় না।
তিনদিন পর...
অর্নীল খুব রাত করে সেইদিন বাড়ি ফিরছিলো। রাত তখন
এগারোটা হবে। অর্নীলের বাড়ি বনস্রী আর মিমের বাড়ি
ধানমন্ডি। অর্নীল অফিস থেকে বের হয়ে বনানীর রাস্তা হয়েই
বাসায় ফিরে। সেইদিন অর্নীল ভীষণ টায়ার্ড ছিলো আর বৃষ্টিও
পরছে ভীষণ। রাস্তা প্রায় ফাঁকা। অর্নীল কি দেখে হঠাৎ জোরে
গাড়ি ব্রেক করলো। অর্নীল নিজেও জানেনা ও কি দেখেছে।
অর্নীল গাড়ি ব্যাক এ নিলো আর দেখলো মিম ফাঁকা রাস্তায়
দাঁড়িয়ে ভিজছে গাড়ির সাথে হ্যালান দিয়ে। অর্নীল হেডলাইটের
আলোতে শিউর হলো যে ওইটা মিম। অর্নীল ঘড়িতে তাঁকিয়ে দেখে
রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা বাজে! অর্নীল গাড়ি থেকে নেমে
বৃষ্টিতে ভিজে মিমের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।
-মিস রায়হান আর ইউ ক্রেজি? এইভাবে বৃষ্টিতে ভিজছেন কেন?
(রেগে গিয়ে অর্নীল)
-সো হোয়াট? (গোঙানোর স্বরে মিম)
-কি হয়েছে আপনার? (অর্নীল মিমের শরীরে হাত দিয়ে দেখে পুরো
শরীর ফুলে গেছে আর বরফের মতো ঠান্ডা শরীর) আপনার এলার্জি
বৃষ্টির পানিতে তবুও কেন ভিজলেন এইভাবে?
-নিজেকে কষ্ট দিতে ভালো লাগে তাই।
অর্নীল খেয়াল করলো মিমের হাতের বাম পাশে দুইটা বিয়ারের
ক্যান ফালানো। এইগুলো মিম খেয়েছে তাই এইভাবে কথা বলছে।
অর্নীল মিমের হাত ধরলো আর দেখলো গাড়িতে মিমের ফোনটা
বেজেই যাচ্ছে। অর্নীল গাড়ির দরজা খুলে ফোন হাতে নিয়ে
দেখলো বাপি লিখা। নিশ্চই টেনশন করছে মিম বাসায় ফেরেনি
বলে। অর্নীল পকেট থেকে ওর ফোন বের করে ঝুম বৃষ্টির মধ্যে ওর
ড্রাইভারকে কল দিয়ে বলল এই রোডে এসে মিমের গাড়ীটা নিয়ে
অর্নীলের বাসায় যেতে। মিমের অবস্থা ভীষণ খারাপ। মিমের
বাসা থেকে অর্নীলের বাসা সামনে তাই অর্নীল মিমকে কোলে
তুলে ওর গাড়িতে বসালো। মিম ঘুমিয়ে গেছে আর চেহারা ফুলে
গেছে অনেক। মিমের ফোনটাও নিলো ওর সাথে। ড্রাইভার আসার
পর অর্নীল দ্রুত মিমকে নিয়ে ওর বাসায় যায়। অর্নীলের আম্মু
ছেলেকে এইভাবে কাউকে কোলে নিয়ে ঢুকতে দেখে ভয় পেয়ে
যায়। অর্নীল মিমকে গেস্টরুমে নিয়ে শোয়ায়। ওর আম্মুও দ্রুত
দৌঁড়ে যায়।
-মিমকে তুই এইভাবে কোথায় পেলি?
-আম্মু পরে বলছি আগে তুমি কাউকে ডেকে বলো ওরে চেঞ্জ করে
দিতে ফাস্ট।
-তুই ও তো পুরো ভিজে গেছিস, যা চেঞ্জ করে আয়।
-আম্মু আমি জাস্ট ভিজেছি কিন্তু ওর অবস্থা পুরো খারাপ।
তারাতারি কর আমি ডক্টরের সাথে কথা বলে আসছি।
-আমার শাড়ি ছাড়া তো মেয়েদের আর কোনো ড্রেস নেই আমাদের
বাসায়।
-আমার টি শার্ট আর ট্রাউজার নিয়ে আসো যাও। ওইগুলোই পরাও।
অর্নীল এসি অফ করে দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যায় ফোন করতে করতে
আর ওর আম্মু মিমের ড্রেস চেঞ্জ করিয়ে দেয়। অর্নীলেরই একটা
টি শার্ট আর ট্রাউজার পরায় ওর আম্মু। অর্নীল ডক্টরকে বাসায়
আসতে বলে মিমের বাপিকে ফোন দিয়ে বলে দেয় মিম ভালো
আছে আর টেনশন যাতে না করে। মিমকে ডক্টর এলার্জির কিছু ওষুধ
দিয়ে যায় আর সেগুলো অর্নীল মিমকে খাইয়ে দেয়। মিমের
চুলগুলো ভেজা। অর্নীল একটা টাওয়েল নিয়ে মিমের চুল মুছে
দিচ্ছে আর মিম মরার মতো ঘুমাচ্ছে। অর্নীলের আম্মু ছেলের কান্ড
দেখে অবাক। অর্নীল নাকি চুলও মুছতে জানে? অর্নীলের আম্মু
ভীষণ খুশি হয় কিন্তু মিমের জন্য টেনশন ও হচ্ছে। ওর ঘুম তো
ভাংছেই না। অর্নীল মিমের উপর পাতলা কম্বল দিয়ে দেয় আর ওর
আম্মুকে বলে,
-তুমি আজকে থাকো ওর পাশে।
-হ্যা আমি আছি। তোর খাবার দিয়ে এসেছি ঘরে। খেয়ে ঘুমিয়ে
যা।
-আমার শরীর টাও ভীষণ খারাপ লাগছে আজকে। আসলেই ঘুম আসছে
কিন্তু ও? (মিমের দিকে ইশারা করে)
-আমি আছি।
-রাতে কিছু হলে আমায় ডাক দিও নয়ত কল দিও।
-ঠিক আছে।
অর্নীল গেস্টরুম থেকে বেরিয়ে নিজের ঘরে যায়। অর্নীল না
খেয়েই খাটের উপর বাঁকা হয়ে শুয়ে ঘুমিয়ে পরে। মাঝরাতে হঠাৎ
অর্নীলের ঘুম ভেঙে যায় আর ফোনের স্ক্রিন অন করে দেখে
তিনটা পয়ত্রিশ বাজে। অর্নীলের তখন মিমের কথা মনে পরে যায়।
অর্নীল ঘর থেকে বের হয়ে গেস্টরুমে যায় আর গিয়ে দেখে আম্মু
পাশে শুয়ে আছে আর মিম উপুড় হয়ে ঘুমাচ্ছে। চুলগুলো সব বিছানায়
ছড়ানো। অর্নীল তখন ওর আম্মুর ঘরে গিয়ে ড্রেসিংটেবিল এ চুল
আটকানোর ব্যান্ড খুজতে থাকে। ব্যান্ড নিয়ে গেস্টরুমে এসে
মিমের চুলগুলো হালকা করে ধরে একটু পেচিয়ে কাটা লাগিয়ে
দেয়। মিমের ঘুমন্ত মুখটা দেখে অর্নীলের হার্ট বিট গ্রো করতে শুরু
করলো। অর্নীল পাত্তা দিলো না তখন। অর্নীল মিমের চুল আটকে
মিমের উপর কম্বল দিয়ে চলে আসে নিজের ঘরে। একগ্লাস পানি
খেয়ে আবার ঘুমিয়ে যায়।
Previous
Next Post »