প্রথম ও শেষ ভালোবাসা ~ WriterMosharef

প্রথম ও শেষ ভালোবাসা

শেষ ভালোবাসা, শেষ ভালোবাসার গল্প

বাসর রাতে
অত্র নিজের রুমে ঢুকতেই দেখলো তার বিয়ে করা বউ আভা শাড়ি
ফেলে ব্লাউজ আর পেটিকোট পরে দাড়িয়ে আছে..
বাসর ঘরে ঢুকেই এরকম একটা দৃশ্য দেখতে অত্র তার জন্য মোটেই
প্রস্তুত ছিলো না। না চাইতেও অত্রের চোখ চলে যায় আভার
পেটের বাম পাশে থাকা অসম্ভব সুন্দর তিলটার দিকে। তার চোখ
আটকে যায় সেখানে। ফর্সা পেটের উপর কালো তিলটা চুম্বক এর
মতো আকর্ষন করছে তাকে, ধিরে ধিরে সে একটা ঘোরের মধ্যে
চলে যাচ্ছে। হঠাৎ করেই হুস ফিরে আসায় অত্র কোনো মতো
নিজেকে সামলে নিয়ে বলে ওঠে
এই মেয়ে তোমার কি লজ্জা নেই..
আভা পিছন ফিরে অত্রকে দেখে বিশাল বড় একটা শক খায় ও
দরজা লক করতে ভুলে গিয়েছে।
আভা তারাতারি নিজের ৩ পিজ নিয়ে বাথরুমে ছুটে চলে যায়..!
আভা বের হতেই অত্র তাকে খুব জোরে দেওয়ালের সাথে চেপে
ধরে বলে কান খুলে শুনে রাখো আমি তোমাকে নিজে ইচ্ছে করে
বিয়ে করি নি। পরিবারের চাপে পরে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছি।
আজ একটু আগে যেটা করেছো ভুলেও দ্বিতীয়বার যেনো এটা আর
না হয়.. তোমার এই চেহারায় আমার বাবা মাকে ফাসাতে পারলেও
এই অত্রকে ফাসাতে পারবে না। আমি অাফরাকে ভালোবাসি...
বলেই খুব জোরে আভাকে ধাক্কা মারে।
আভা টাল সামলাতে না পেরে নিচে পরে যায়।
অত্রর এই ব্যাপারে আভা একটুও ঘাবরায় নি। ও তো এটাই
চেয়েছিলো। সংসার করার কোনো ইচ্ছে আভার নেই।
আভা উঠে দাড়িয়ে অত্রকে বললো
ধন্যবাদ। আপনি আমার অনেক বড় একটা উপকার করলেন.
আভার কথা শুনে অত্র অবাক হয়।
আভা আবার বলতে থাকে অনেক রাত হয়েছে আপনার পাশে এক
খাটে সোয়ার আমার কোনো ইচ্ছে নেই। খাটে কেনো বলছি এক
রুমেই থাকার কোনো ইচ্ছে আমার নেই আপনি বরং আপনার নিজের
রুমে নিজের খাটে ঘুমান আমি বেলকনিতে ঘুমাচ্ছি। আমাকে একটা
কাথা আর বালিশ দিলেই চলবে।
এবার আভার কথায় অত্র খুব অবাক হলো এই মেয়ে বলে কি..
যাই হোক অত্র আভাকে একটা বালিশ আর একটা কাথা দিয়ে
দিলো।

আচ্ছা আমি তাহলে যাই good night
অত্র আভার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল..
একটু পর ফ্রেস হয়ে নিজেও সুয়ে পরলো...
কি অদ্ভুত এই মেয়েটা.. আমি এতো রুড বিহেভ করলাম ও কোনো
রিয়েকশনই দেখালো না.. কোনো তো রহস্য আছেই ওর মধ্যে.. ধুর
আমি এই মেয়ের কথা কেনো এতো ভাবছি.. আমি তো আফরাকে
ভালোবাসি.. দেখি আমার বেবিকে একটা কল করি,
কি হলো পাগলিটা কল রিসিভ করছে না কেনো ও কি আমাকে ভুল
বুঝলো.. এসব ভাবতে ভাবতে অত্র ঘুমিয়ে পরলো..
এদিকে আভার আজ অনেক ভালো লাগছে.. বাবা মা তাকে বোঝা
মনে করতো জোর করে তাকে বিয়ে দিলো.. কতোই না ভয়
পেয়েছিলো সে এই বিয়েতে আভার একটুও মত ছিলো না...
অত্র তাকে মেনে নেয় নি এটাই অনেক। এখন সে নিজের মতো করে
বাচতে পারবে।

সকালে
ঘুম থেকে উঠে বেলকনি থেকে রুমে চলে আসে। তারপর একবার
অত্রের দিকে তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নেয়। তারপর লাগেজ থেকে
একটা শাড়ি বেড় করে ওয়াশরুমে চলে যায় গোসল করার জন্য।
কিছুক্ষণ পরে একটা নীল শাড়ি পরে ভেজা চুলে বেড় হয়ে ড্রেসিং
টেবিল এর সামনে বসে চুলে চিরুনী করার জন্য।
হঠাৎ মুখের উপর পানির ছিটা পড়ায় ঘুম ভেঙে যায় অত্রের, তারপর
বিরক্তি নিয়ে চোখ মেলে তাকায়, কিন্তু চোখ মেলে তাকানোর
পর তার সব বিরক্ত যেনো এক নিমিষেই দূর হয়ে যায়, সে চুপিচুপি
দেখতে থাকে আভাকে, হঠাৎ আভার মনে হয় পেছন থেকে অত্র
তাকে দেখছে তাই সে পেছনের দিকে তাকায় কিন্তু দেখে অত্র
ঘুমিয়ে আছে, তারপর আভা উঠে আর একবার অত্রের দিকে তাকিয়ে
নিচে কিচেনে চলে যায়।
আভা চলে যাওয়ার পরে অত্র চোখ মেলে তাকায় আর নিজেই
নিজেকে গালি দিতে থাকে,
স্টুপিড অত্র কি হয়েছে তোর বার বার কেনো ঐ মেয়ের দিকে
এভাবে তাকাচ্ছিস, আর একটু হলেই তো ধরা পরে যাচ্ছিলি,
তারপর অত্র টাওয়েল নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়
আভা কিচেনে গিয়ে দেখে তার শাশুড়ি মা রান্না করছে। আভা
তার কাছে গিয়ে তাকে সালাম করলো.. আর বললো
মা আমি কি রান্না কাজে আপনাকে হেল্প করবো?
না মা তুমি এতো সকালে এখানে কেনো?

আন্টি আসলে রুমে থাকতে ভালো লাগছে না। তাই একটু আপনার
কাছে হেল্প করতে এলাম।
-আন্টি বলছো কেনো আমি তোমার শাশুড়ী। আর শাশুড়ী তো
মায়েরই মতন।আমাকে তুমি মা বলে ডেকো।
-আচ্ছা মা...
-অত্র কি ঘুম থেকে উঠেছে?
-জ্বি না মা, এখনও ঘুমাচ্ছে,
-তুমি যাও অত্রকে ডেকে তুলে বলো ফ্রেশ হয়ে নিচে আসতে, সবাই
একসাথে ব্রেকফাস্ট করে নাও,
কিছুক্ষণের মধ্যে সবাই বউ দেখতে আসবে তোমাকে তো আবার
রেডি হতে হবে তাড়াতাড়ি যাও
-আচ্ছা মা ঠিক আছে,
তারপর আভা রুমে এসে দেখে অত্র ফ্রেশ হয়ে সোফায় বসে কারো
সাথে ফোনে কথা বলছে,
- কারো যদি ফোনে কথা বলা শেষ হয়ে থাকে তাহলে নিচে চলে
যাক মা তাকে ব্রেকফাস্ট করার জন্য ডাকছে।
-hay you আমার একটা নাম আছে,
i am অত্র, অত্র আহমেদ
-আপাতত আমি কারো নাম জানার জন্য ইন্টারেস্টেড নই,
এটা বলার সাথে সাথে অত্র উঠে আভার গাল শক্ত করে চেপে ধরে
বলে...
- হাউ ডেয়ার ইউ সে দেট, আমার সাথে এভাবে কথা বলার সাহস হয়
কি করে তোমার?
আভা ঝারি মেরে অত্রের হাত সরিয়ে বলে
-এখানে সাহস দেখানোর মতো কিছু বলিনি যেটা ঠিক সেটাই
বলেছি,
আর একটা কথা ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে নিন, ভুল করেও কথায়
কথায় আমাকে টাচ করার মতো দুঃসাহস দেখাতে যাবেন না, এর
পরিনাম কিন্তু ভালো হবে না, মাইন্ড ইট মিষ্টার অত্র আহমেদ।
এটা বলে আভা সোজা নিচে বলে যায়,
আর এদিকে অত্র অবাক দৃষ্টিতে আভার চলে যাওয়ার দিকে
তাকিয়ে মনে মনে বলতে থাকে,
-এ কেমন মেয়েরে বাবা, ভেবেছিলাম আমি তাকে ইগনোর করবো
এখন তো দেখচ্ছি উল্টো সে আমাকে ইগনোর করছে শুধু ইগনোর নয়
রীতিমত অপমান...নাহ এর জন্য ওকে একটা উচিত শিক্ষা দিতে হবে।
হবেইই
তারপর অত্র নিচে চলে যায় ব্রেকফাস্ট করতে, তারপর আভার দিকে
এক নজর তাকিয়ে একটা চেয়ার টেনে বসে পরে,তারপর পাশ থেকে
অত্রের ছোট বোন আদ্রিতা বলে,
-কি রে ভাইয়া এরকম টমেটোর মতো লাল হয়ে আছিস কেনো, মনে
হচ্ছে যেকোনো সময় ফেটে যাবি,
-চুপ একটাও কথা না বলে চুপচাপ খা না হলে টমেটোর মতো তোকে
ফাটাবো, সব সময় ফাজলামি,
অত্রের আম্মু এই আদ্রিতা তাড়াতাড়ি চুপ খেয়ে নে তোর ভাবিকে
তো সাজাতে নাকি,
-কি বলো আম্মু আমার ভাবি এমনই যে সুন্দরী তাকে যদি আরো
সাজাই তাহলে তো লোকের নজর লেগে যাবে, এটা শুনে অত্রের
আব্বু আম্মু দুজনই হেঁসে ওঠে,
তারপর অত্রের আব্বু আভাকে বলে
-কিরে মা এখানে তোর কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো?
-না বাবা,
-দেখ একদম লজ্জা পাবি না এটা এখন তোরই বাড়ি, তাই যেভাবে
সুবিধা হয় সে ভাবে থাকবি,
-ঠিক আছে বাবা,
এটা শুনে অত্র মনে মনে বলে, বাবা তোমারও না মাথা খারাপ
সমস্যাকেই জিজ্ঞেস করছো তার কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, যত
সব আদিক্ষেতা
খাওয়া দাওয়া শেষ করে যে যার রুমে চলে যায় রেস্ট করার জন্য,
তার কিছুক্ষণ পরে আদ্রিতার সব বান্ধবীরা চলে আসে তাদের
সবাইকে নিয়ে আদ্রিতা অত্রের রুমে চলে যায়, গিয়ে দেখে আভা
বেডের উপর বসে আছে আর অত্র বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে,
আদ্রিতা অত্রের কাছে গিয়ে বলে
-ভাইয়া এখন তুই বাইরে যা আমাদের ভাবির সাথে কাজ আছে,
-তোদের কাজ তোরা কর, আমি কেনো বাইরে যাবো? আমি আমার
রুম ছেড়ে কোথাও যেতে পারবো না,
- রুম ছেড়ে যেতে পারবি না নাকি বউ কে রেখে যেতে পারবি না
কোনটা বলতো?
- দেখ একদম আমার সাথে ফাজলামি করবি না
-তুই একদিনেই বউ পাগল হয়ে গেছিস সেটাতে কোনো দোষ নেই, আর
আমি বললেই দোষ
- ধুর থাক তোরা আমি চলে যাচ্ছি রুম থেকে,এটা বলে অত্র রেগে
রুম থেকে বেড় হয়ে যায়,
আর এটা দেখে ওরা সবাই হাসতে থাকে,
তারপর সবাই মিলে আভার সাথে গল্প শুরু করে, গল্প করতে করতে
দুপুর হয়ে যায়।
সারা বাড়ি ভর্তি মেহমান..
দুপুরবেলা পার্লারের লোক এসে আভাকে সাজানো শুরু করলো..
আভার বাসা থেকে আভার আম্মু আব্বু ভাই ভাবি সকলেই এসেছে...
আভা বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে.. সবার খুব আদরের..
বৌভাতের অনুষ্ঠান শুরু।
আভাকে একটা বেগুনি রঙের শাড়ি পরানো হয়েছে অত্র আভাকে
দেখে চোখই ফেরাতে পারছে না। অঅসম্ভব সুন্দর লাগছে আভাকে।
কিন্তু তাতে আমার কি ।
অত্রর সব বন্ধুরা এসে অত্রকে কনগ্রেস করছে আর আভার এতো এতো
প্রশংসা করছে।
-হেই ডুড কি যে বলিস না ওই মেয়ে কখনো আমার আফরার মতো হতে
পারবে না।
এটা শুনে সিয়াম বলল দোস্ত তুই যানিস না আফরার বিয়ে ঠিক হয়ে
গেছে। তোর বিয়ের খবর শুনেই ও ওর ফ্যামিলির পছন্দ করা
ছেলেকে হ্যা বলে দিয়েছে।
-কি বলছিস তুই। না এটা কখনো হতে পারে না।
-আমার ইমিডিয়েটলি আফরার সাথে কথা বলতে হবে।
-দোস্ত আজ তোর বৌভাত এখন এটা করা তোর ঠিক হবে না.. অনুষ্ঠান
মিটে গেলে নাহয় যা করার করিস।
-আমার আর এক মূহুর্ত লেট করা যাবে না।
বলেই অত্র কাউকে কিছু না বলে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো।
এদিকে আভা ওর বাবা মা কে দেখে একটুও কান্না করে নি বরং
তাদের কাছে গিয়ে বলছে তোমাদের কোনো অসুবিধা হয় নি তো
এসেছো খেয়েছো এখন বাসায় চলে যাও।

এটা শুনে আভার বাবা মা অবাক হয়ে যায়, তারপর আভার বাবা
বলে...
- আভা কি বলছিস এসব আজ তোর বৌভাত আমরা তোকে নিতে
এসেছি,আজ তুই আর অত্র আমাদের সাথে আমাদের বাসায় যাবি,
এটাই তো নিয়ম,
- কোনো নিয়মের তোয়াক্কা আমি করি না, আর আমি কখনো
তোমাদের বাসায় যাবো না, তোমাদের কাছে বোঝা হয়েছিলাম
তাই এতোদিন লোকের হাজার কথা শুনতে হয়েছে তোমাদের, কিন্তু
এখন তো আমার বিয়ে হয়ে গেছে এখন তো আর তোমাদের কারো
কথা শুনতে হবে না,বিয়ে করতে বলেছো বিয়ে করেছি। এখন
তোমরা শান্তিতে থাকতে পারবে।আমি এখন এই বাড়ির বউ। এখন
থেকে আমাকে আমার মতো ভালো থাকতে দিবা।
-আমরা কেনো এটা করেছি তুই খুব ভালো করেই যানিস।
আমরাও চাই আমাদের মেয়েটা হাসি খুশি থাকুক। অতীতে যা
হয়েছে সব ভুলে যা মা। আমরা কেউ তোর খারাপ চাই না।অত্র
তোকে খুব ভালো রাখবে। ওকে মেনে নে। দুজনে সুন্দর একটা
সংসার সাজা।
আভা শোন....
আর এক মূহুর্ত ওখানে দাড়িয়ে না থেকে আভা ওদের সামনে থেকে
নিজের রুমে চলে আসলো। আজ খুব কষ্ট হচ্ছে তার। কান্নায় বুক
ফেটে যাচ্ছে..মনে হচ্ছে এতোদিন জমিয়ে রাখা কষ্ট গুলো আজ
আভার চোখ বেয়ে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পরছে,
আভার মা বাবা কোনো রকম অত্রের বাবা মাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে
অত্রদের বাসা থেকে বিদায় নিয়ে, অত্র আভাকে ছারাই নিজের
বাসায় চলে গেলো।
এদিকে অত্র আফরার কাছে এসেছে এখন আফরার সাথে কথা
বলাটা খুবই জরুরী। অত্র আরফাদের বাড়ি এসে দেখে আরফাদের
বাসাটা সুন্দর করে সাজানো হয়েছে, যেটা দেখার সাথে সাথে
অত্রের বুকের ভেতরটা ছ্যাত করে ওঠে, সে ধীর পায়ে সামনের
দিকে এগিয়ে যায়, কিন্তু তার পা গুলো যেনো চলতেই চাচ্ছে না,
অত্র কোনো রকম বাসার মধ্যে ঢুকে একজনকে জিজ্ঞেস করে
আরফা কোথায়?
-আফরার তো আজ গায় হলুদ কিন্তু আপনি কে?
এটা শোনা মাত্র অত্র আর দাড়িয়ে থাকতে পারলো না। সামনের
দিকে এগিয়ে যেতেই দেখতে পারলো আফরা খুব সুন্দর করে হলুদের
সাজে স্টেজে বসে আছে..এটা দেখার সাথে সাথে অত্রের দমটা
যেনো বন্ধ হয়ে যাবে এরকম মনে হয়, স্টেজের পাশে গিয়ে অত্র
আরফাকে ডাকে,
- আরফা
হঠাৎ অত্রের কন্ঠ শুনে আরফা চমকে ওঠে তাকিয়ে দেখে স্টেজের
পাশে অত্র দাড়িয়ে আছে,
-তুমি এখানে এসেছো কেনো তোমার তো এখন নতুন বউয়ের সাথে
থাকার কথা।
আফরার মুখে এমন কথা শুনে অত্রর রাগ চরমে পৌছালো আফরাকে
সবার সামনে স্টেজ থেকে টানতে টানতে একটা খালি রুমে নিয়ে
এসে দরজা বন্ধ করে দিলো।

অত্র: এসবের মানে কি আফরা? তুমি যানো না আমি তোমাকে কতো
ভালোবাসি। আমার বাসা থেকে আমাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে
দিছে। আমি ওকে ডিভোর্স দিয়ে দিবো আমি তোমার কাছে একটু
সময় চেয়েছি আর তুমি এভাবে আমাকে না জানিয়ে বিয়ে করতে
যাচ্ছো।আফরা প্লিজ এমনটা করো না তোমাকে ছারা আমি বাচতে
পারবো না।
আফরা : শোনো অত্র যা হয়ে গেছে তুমি মেনে নাও এই দেখো
আমিও আমার ভাগ্যকে মেনে নিয়েছি। তুমি যদি আমার হতে
তাহলে তোমার ফ্যামিলি আমার সাথেই তোমার বিয়ে দিতো।
কিন্তু তারা আমাকে পছন্দ করে নি। তোমার বউকে পছন্দ করেছে।
আমি যানি তুমি ওকে মেনে নাও নি এখনো। ওকে স্ত্রী মর্যাদাও
দাও নি। আমি চাই তোমরা একটি সুখী দাম্পত্যীর মতো জীবনযাপন
করো।
প্লিজ অত্র আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও। আমরা এক হতে পারি নি
তো কি হয়েছে আমাদের বন্ধুত্ব সারাজীবন থাকবে।
অত্র : আফরা ওটা কোনো মেয়ে না একটা চুরেল তুমি যানো না।
ওকে মেনে নেওয়া আমার পক্ষে ইম্পসিবল। আমি তোমাকে খুব
ভালোবাসি আফরা (আফরার হাত ধরে) তুমি প্লিজ এই বিয়েটা
ভেঙে দাও আমরা খুব দূরে চলে যাবো। একটা সুন্দর সংসার
সাজাবো।
-অত্র আমার হাত ছারো। এটা আর সম্ভব না কাল আমার বিয়ে।
প্লিজ তুমি চলে যাও।
.
আফরা প্লিজ বোঝার চেষ্টা করো। তুমি কেনো বুঝছো না আমি
তোমাকে ভালোবাসি। তোমাকে আমার চাই। (অত্র আফরাকে খুব
জেরে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে)
-অত্র আমার লাগছে ছারো আমাকে..
-তুমি বলো তুমি এই বিয়ে ভাঙবা নাকি আমি ভাঙবো
আফরা অত্রকে খুব জোরে একটা ধাক্কা দিয়ে ঠাস করে অত্রর
মুখে একটা চড় বসিয়ে দিলো।
- ছিঃ অত্র তোমাকে আমি অনেক ভালো ভেবেছিলাম, কিন্তু তুমি
এতোটা স্বার্থপর সেটা ভাবতেও আমার কষ্ট হচ্ছে, চাইলেই সবকিছু
সম্ভব হয় না অত্র আমাদের সমাজ পরিবার নিয়ম নীতি বলেও
অনেককিছু আছে তুমি ভাবলে কি করে তোমার এমন একটা
প্রস্তাবে আমি রাজি হয়ে যাবো নিজের ভালোবাসার মানুষকে
পাওয়া জন্য একটা মেয়ে হয়ে অন্য একটা মেয়ের ঘর ভেঙ্গে দিবো
এটা তুমি ভাবতে পারলে কি করে,
-আরফা তুমি আমাকে ভুল বুঝছো,
- আমি তোমাকে ভুল বুঝছি না অত্র যেটা সত্যি সেটাই বলছি,
শোনো শুধু ভালোবাসলেই হয় না ভালোবাসার মানুষটাকে আপন
করে পেতে ভাগ্যও লাগে যেটা তোমার বা আমার কারোরই নেই,
আর এটাই বাস্তব, বাস্তবতাকে মেনে নিতে শিখো অত্র, একটা কথা
সব সময় মনে রাখবে উপরওয়ালা আভাকেই তোমার জীবন সঙ্গী
হিসেবে তৈরি করেছে আমাকে নয়, তাই ওকে তুমি মেনে নাও,
আমি হয়তো তোমার প্রথম ভালোবাসা ছিলাম কিন্তু আভাই হবে
তোমার শেষ ভালোবাসা সেটা একদিন তুমি নিজেই বুঝতে পারবে,
আর একটা কথা আর কখনো নিজের ভালোবাসার দাবি নিয়ে আমার
সামনে এসো না।আমার নতুন জীবনের জন্য দোয়া করো। আমি চাই
না অতীতের কথা ভেবে ভবিষ্যত নষ্ট করতে। তুমি নিজে সুখী হও
আর আমাকেও সুখী হতে দাও।
ভালো থেকো অত্র good bye...
এটা বলে আরফা রুম থেকে বেড় হয়ে চলে যায়, আর অত্র ছলছল
চোখে তার যাওয়ার পানে চেয়ে থাকে,
.
ঘড়িতে রাত ১.৩০ টা ছুই ছুই অত্র পচন্ড নেশা করে মাতাল হয়ে
নিজের বাসায় ফিরছে।
রুমে ঢুকে সোজা বিছানায় সুয়ে পরল। পরক্ষণেই মনে পরলো আভার
কথা। আজ ওর জন্যই অত্র আফরাকে হারালো। আজ ওকে একটা
উচিত শিক্ষা দিয়েই ছাড়বে।
অত্র উঠে বেলকনিতে আভার কাছে গেলো.. আভা তখন ঘুমে মগ্ন..
ঘুমন্ত আভা মুখে হালকা চাদের আলো আর হালকা অন্ধকার মিলে
এক অদ্ভুত সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে আর সেই সৌন্দর্য অত্রকে
ভিষণ ভাবে আকৃষ্ট করছে, অত্রের মনে চাইছে সবকিছু ভুলে আভার
মাঝে ডুবে যেতে, অত্র হাটু মুড়ে আভার পাশে ফ্লোরে বসে
পরে,তারপর আভার খুব কাছে চলে যায়, এতোটা কাছে চলে যায় যে
অত্র আভার প্রতিটা নিশ্বাস অনুভব করতে পারছে। আভার মুখের
দিকে তাকালেই অত্রর এক অদ্ভুত মায়া কাজ করে এটা অত্র এর
আগেও ফিল করেছে ও যানে না এটা কি। হয়ত উপরওয়ালা সবটা
উপর থেকেই সেট করে রেখেছে। হঠাৎ অত্র কিছু একটা ভেবে
আভাকে এক ঝটকায় কোলে তুলে নিয়ে রুমে এনে বিছানার ছুরে
মারে...
হটাত বিছানায় এভাবে ধুপ করে পরার পরে আভার ঘুম ভেঙে যায়।
তার চোখ যায় অত্রর দিকে।অত্র ভয়ংকর ভাবে তাকিয়ে আছে তার
দিকে।
আভা তার কোনো পাত্তা না দিয়ে বলল এসবের মানে কি.. বলেছি
না আমাকে কখনো টাচ করবেন না বলেই উঠে যেতে চাইলে
অত্র আভার হাত ধরে ফেলে...আভা বুঝতে পারে অত্র ড্রিংস
করেছে...
হাত ছাড়ুন আমার.. অত্র আরো জোরে আভার হাত ধরে এক ঝটকায়
নিজের কাছে টেনে আনে..
আভা চোখ বড় করে অত্রর দিকে তাকিয়ে থাকে। অত্রর এখন হুস
নেই ওকে এখন কিছু বললে ও উল্টো রিয়েক্ট করতে পারে।
অত্র আভার ঠোঁটের দিকে গভীর ভাবে চেয়ে আছে।
অত্র আভার ঠোটের দিকে এগিয়ে আসছে আর আভার রাগে শরীর
ঘিনঘিন করছে।
আভা অত্রকে একটা ধাক্কা দিয়ে চলে আসতে গেলেই অত্র আবার
আভার হাত ধরে আভাকে বিছানায় ফেলে দেয় এক টানে আভার বুক
থেকে শাড়ির আচল ফেলে নিজে আভার উপর লাফিয়ে পরে।

আভা প্রচুর চেষ্টা করছে অত্রকে নিজের কাছ থেকে সরানোর।
কিন্তু কিছুতেই সরাতে পারছে না। আভা দুই হাত দিয়ে অত্রকে
ধাক্কা দিচ্ছে। অত্র আভার দুই হাত শক্ত করে ধরে আভার গলায়,
মুখে অজস্র চুমো দিচ্ছে।একটু পর আভার হাত একটু ঢিল হলেই আভা
বিছানার সাইডে রাখা ফুলদানি দেখতে পায়। ওটা হাতের কাছে
পেয়েই অত্রের মাথায় স্বজোড়ে একটা বারি মারে। বারি খাওয়ার
সাথে সাথে অত্র আভাকে ছেড়ে মাথায় হাত দিয়ে ব্যথায়
কাতরাতে থাকে।
আভা ছাড়া পেয়েই এক দৌড়ে আদ্রিতার রুমের দরজায় গিয়ে
জোরে জোরে নক করতে থাকে,
এতো রাতে দরজায় নক করার শব্দে আদ্রিতার ঘুম ভেঙ্গে
যায়,তারপর ভয়ে ভয়ে সে উঠে বসে বলে
- কে বাইরে?
- আমি তোমার ভাবি তাড়াতাড়ি দরজা খোলো
আভার গলা শুনেই আদ্রিতা দৌড়ে এসে দরজা খুলে দেয়, আর দরজা
খোলার সাথে সাথে আভা আদ্রিতাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে
দেয়, ঘটনার আকস্মিকতায় আদ্রিতা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে
-কি হয়েছে ভাবি তুমি কান্না করছো কেনো?
- ( আভা কান্না করতে করতে বলে) তোমার ভাই মদ খেয়ে এসে
আমার সাথে অসভ্যতামি করেছে আমি ওকে মেরেছি
-কি বলো ভাবি ভাইয়া মদ খাওয়া তো দূরের কথা নামও শুনতে
পারে না, তুমি ওয়েট করো আমি দেখছি, তারপর
আদ্রিতা অত্রর রুমে যেয়ে দেখে তার ভাইয়ের মাথা দিয়ে রক্ত
ঝরছে। অত্র অজ্ঞান অবস্থায় বিছানায় পরে আছে।
এটা দেখার সাথে সাথে আদ্রিতা চিৎকার দিয়ে উঠে
- ভাইয়া.........
আদ্রিতার চিৎকার শুনে আভা ভয়ে কেঁপে ওঠে , আর নিচে থেকে
অত্রের বাবা মাও চলে আসে, তারপর অত্রের অবস্থা দেখে বলে
_একি অত্রর কি হলো মাথা দিয়ে এতো রক্ত পরছে কেনো?
-কি ভাবে হলো এসব?
আদ্রিতা তুই এক্ষুনি ডাক্তারকে ফোন কর
-আমি এক্ষুনি যাচ্ছি আম্মু
এটা বলে আদ্রিতা দৌড়ে
ফোন নিতে রুমে এসে দেখে আভা গুটিসুটি মেরে বসে কান্না
করছে, এরা দেখে আদ্রিতা আভাকে বলে
- ভাবি ভাইয়ার অবস্থা খারাপ রক্ত পড়া বন্ধ হচ্ছে না, তুমি
তারাতারি ভাইয়ার কাছে যাও, আমি ডক্টরকে ফোন করছি,
-কিন্তু আব্বু আম্মু যদি কিছু জিজ্ঞেস করে তখন আমি কি উত্তর
দিবো?
- এখন এসব নিয়ে কিছু বলার দরকার নেই আগে ডক্টরকে আসতে দাও
তারপর দেখা যাবে,
- আচ্ছা ঠিক আছে এটা বলে আভা নিজের রুমের দিকে পা বাড়ায়,
কিন্তু তার পা যেনো একদম চলতেই চাচ্ছে না,কোনো মতো সে
রুমের দরজার পাশে এসে দাড়ায়ে, কিন্তু রুমের ভেতরে ঢুকার সাহস
পাচ্ছে না, একটু পরে আদ্রিতা ডক্টরকে ফোন করে হাতে একটা
ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে এসে দেখে আভা এখনও বাইরে দাড়িয়ে
আছে তাই সে আভার হাত ধরে টেনে ভেতরে নিয়ে যায়, ওদের
দেখে অত্রের আব্বু বলে
- কি রে আদ্রিতা ডক্টরকে ফোন করেছিস? আর আভা কোথায়
ছিলে এতক্ষণ?
এটা শুনে আভা কিছু বলার আগেই আদ্রিতা বলে উঠে
- হ্যা ডক্টরকে ফোন দিয়েছি, আর ভাবি আমার রুমে গিয়েছিলো
ফাস্ট এইড বক্স আনতে..
আভাকে দেখতেই অত্রর বাবা বলল আভা তুমি তো রুমে ছিলে এসব
কিভাবে হলো?
-আসলে বাবা (এখন এসব কথা কিভাবে বলব আল্লাহ তুমি আমার
সহায় হও কথাটা মনে মনে বলল আভা)
তখনি আদ্রিতা এসে বলে
- বাবা ভাইয়া আজ অতিরিক্ত ড্রিংস করে বাসায় এসেছে যার
ফলে টাল সামলাতে না পেরে পরে গিয়ে মাথা ফেটে গেছে,
- কি বলছিস এসব অত্র তো কখনো ড্রিংস ছুঁয়েও দেখে না, আজ
হঠাৎ এসব করলো কেনো?
- সেটা তো জ্ঞান ফিরলেই জানা যাবে, এখন একটু চুপ করো
আপাতত রক্ত বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে, এটা বলে আদ্রিতা
আভার দিকে একবার তাকিয়ে ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে অত্রের পাশে
বসে তুলা দিয়ে রক্ত পরিষ্কার করতে থাকে, তার কিছুক্ষণ পরে
ডক্টর চলে আসে, তারপর সব ঘটনা শুনে,
কাটা জায়গা পরিষ্কার করে দিয়ে ব্যান্ডেজ করে দেয় আর কিছু
ঔষধ দেয়,
অত্রের আব্বু বলে
- ডক্টর ভয়ের কোনো কারন নেই তো?
- না মি. আশরাফ আহমেদ ভয়ের কোনো কারন নেই আসলে রক্ত
পড়েছে ঠিকই কিন্তু কাটা টা তেমন গভীর নয়,
- কিন্তু এখনও যে জ্ঞান ফিরছে না?
- আসলে অত্র একটু বেশিই ড্রিংস করে ফেলেছে, তাই ওর অজ্ঞান
হওয়ার পিছনে মাথা ফেটে যাওয়ার থেকে নেশাটা বেশি কাজ
করেছে, এখন ঘুমাতে দিন ঘুম ভাঙ্গলেই আশা করি সব ঠিক হয়ে
যাবে
এখন অনেক রাত আমাকে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে হবে ঔষধ
গুলো ঠিক মতো খাওয়াবেন আর কোনো অসুবিধা হলে অবশ্যই
আমাকে ফোন দেবেন, আমি এবার আসি,
- আচ্ছা চলুন আপনাকে গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসি,
তারপর আশরাফ আহমেদ আর ডক্টর রুম থেকে বেড় হয়ে যায়, তখন
অত্রের আম্মু বলে,
- আভা আজ সারাদিন তোমার উপর অনেক ধকল গেছে তুমি এখন যাও
আজ আদ্রিতার সাথে আদ্রিতার রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পরো আমি
অত্রের সাথে আছি..
- কিন্তু মা,
- কোনো কিন্তু নয় আমি যেটা বলছি সেটা শোনো আমি আর একটা
কথাও শুনতে চাই না।।
এটা শুনে আভা চুপচাপ আদ্রিতার সাথে আদ্রিতার রুমে চলে যায়
তারপর আদ্রিতার রুমে ঢোকার পরই তার হাত ধরে বলে
- thanks আদ্রিতা তোমার জন্য এখন বড় বাঁচা বেঁচে গেছি কিন্তু কাল
ওনার জ্ঞান ফেরার পরে কি হবে জানি না,
- এসব নিয়ে তোমাকে এতো টেনশন করতে হবে না কাল এ নিয়ে
কথা বলা যাবে এখন চুপচাপ ঘুমাও..
সকালে
.
অত্রের ঘুম ভাঙতেই মাথা ঝিমঝিম এর সাথে সাথে মাথায় হাল্কা
ব্যথাও অনুভব করছে তারপর মাথায় হাত দিতেই বুঝতে পারে তার
মাথায় ব্যান্ডেজ করা। পরক্ষণেই তার গতরাতের সব কথা মনে পরে
যায়।

সে তার ভুল বুঝতে পারে..।সকাল থেকে অত্র আভাকে খুজছে
একবার সরি বলার জন্য।অাভা অত্রর রুমে আসতেই অত্র আভাকে
নিজের কাছে ডাকে.।
আভা চুপচাপ অত্রর কাছে যায়..
-শোনো আভা গতকাল তোমার সাথে খারাপ ব্যবহারের জন্য আমি
রিয়েলি সরি। আসলে আমি নিজের মধ্যে ছিলাম না। অতিরিক্ত
ড্রিংস করে ফেলেছিলাম.. যানো আমি কখনো এই নামটাই শুনতে
পারতাম না আর এখন থেকে এটাই হবে আমার রোজকার সঙ্গী।
-যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমি কি যানতে পারি এসব করার
কারন কি?
অত্র আভাকে তার আফরার সাথে সম্পর্কের সব কথা শেয়ার করলো..
আর এটাও বলে আজ আফরার বিয়ে।
আভা মনে মনে ভাবল একটা মানুষ কিভাবে এতোটা ভালোবাসতে
পারে..
একসাথে না থাকলেও ভালোবাসার মানুষটিকে সারাজীবন
ভালোবাসা যায়।
এরই মধ্যে অত্রর মা সাহানুর বেগম খাবার নিয়ে এসে হাজির।
-আভা এই ধরো এগুলো আত্রকে খাইয়ে ঔষধ খাইয়ে দাও..
-মা আপনি খাইয়ে দিন (আভা এটা বলে নিজে নিজেই লজ্জা
পেলো) সরি মা দিন আমাকে।
-মা আমার ব্যথা মাথায় লেগেছে হাতে না দেও আমাকে আমি
নিজে নিয়ে খেতে পারবো।
-আচ্ছা নে ধর।
বলেই অত্রর মা চলে যেতে নিলেই
আভা বল্ল মা আমিও আসছি..
আচ্ছা চলো ...
.
দুপুরে অত্রর ফোনে আফরার কল .. আফরার কল এসেছে দেখেই অত্র
খুশিতে পাগল প্রায়।
কল রিসিভ করতেই যতটা খুশি হয়েছিলে তার থেকে বেশি কষ্ট
পেতে হলো
-আত্র আজ তুমি আর তোমার বউ আমার বিয়েতে চলে এসো. আমি
আমার বিয়েতে তোমাকে আমার সামনে দেখতে চাই। প্লিজ এসো
অত্র।
অত্র গলা দিয়ে যেনো কোনো কথা বের হচ্ছে না তবুও উত্তরে বল্ল
অবশ্যই আসবো..আমিও আমার ভালোবাসার মানুষকে বউ সাজে
দেখতে চাই ।
না চাওয়া সত্তেও অত্র চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরলো।
-আচ্ছা অত্র ভালো থেকো ঠিক সময়ে চলে এসো।
আভা রুমে আসতেই অত্র অাভাকে তৈরি হতে বলে।
আভা প্রশ্নর উত্তরে অত্র বলে আফরা কল করেছিলো ইনভাইট
করলো তোমাকে আমাকে ওর বিয়েতে যেতে বলেছে তাই সময় নষ্ট
না করে তারাতাড়ি তৈরি হয়ে নাও।
-আপনি যাবেন এই বিয়েতে সহ্য করতে পারবেন তো?
-বেশি কথা না বলে তারাতারি রেডি হও।
-আমি যাবো না।
-
-আচ্ছা যাবো তো এতো রাগ করছেন কেনো। আপনি অসুস্থ তাই
রাজি হলাম নাহলে কখনো আপনার সাথে যেতাম না ।
আভা একটা সুন্দর লাল রংয়ের শাড়ি পরলো অত্রও রেডি হয়ে
নিলো
.
নিচে নামতেই অত্রর বাবা বল্ল অত্র তুই এই অবস্থায় কোথায়
যাচ্ছিস।
-বাবা একটা ইনভিটেশন আছে যেতেই হবে। আর আমি এখন ঠিক
আছি। তোমরা চিন্তা করো না আভা যাচ্ছে আমার সাথে..
..
চারিদিকে ঝলমলে আলো, ফুল দিয়ে সাজানো স্টেজে আফরা বউ
সেজে বসে আছে।
অত্র নকল হাসি দিয়ে আফরাকে শুভেচ্ছা যানালো।
আভার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো।
অত্রর চোখের সামনে আফরার বিয়ে হয়ে গেলো ।
অত্র আফরার কাছে যেয়ে বল্ল মেড ফর ইচ আাদার।ভালো থেকো
সুখে থেকো আফরা ।
অত্র আভার হাত ধরে আর এক মূহুর্ত না দাড়িয়ে চলে আসলো।
অত্র বেলকোনীতে দাড়িয়ে চোখের পানি ফেলছে আভা এসে
পিছন থেকে অত্র কাধে হাত রাখলো আর বল্ল ভালোবাসার
মানুষকে না পাওয়ার যে কষ্ট এটা আমার থেকে বেশি আর কেউ
বুঝবে না।
অত্র চোখ মুছে পেছনে ফিরে প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে আভার দিকে
তাকিয়ে আছে
- যানতে চান আমার ভালোবাসার মানুষ রাজ্যর কথা?
-তোমার ভালোবাসা মানে?
-হ্যা আমিও একজনকে ভালোবাসি।

Previous
Next Post »