আমার জিবনের লক্ষ্য ~ WriterMosharef

আমার জিবনের লক্ষ্য

আমার জিবনের লক্ষ্য


ওই ছেলেটা সব সময় নামি দামী ব্যান্ডের পারফিউম ব্যাবহার করে। সে তার কোন কাপর এক মাসের
বেশি ব্যাবহার করে না। ছেলেটার পায়ের জুতার যা
দাম সেটা দিয়ে অন্য কারো সারা বছরের কাপর কিনা
যাবে।

সামনের কুরবানি ঈদে বাবার কাছে আবদার করে ছেলেটা Fz বাইক পেয়েছে। বাইক নিয়ে ছেলেটা প্রায় সময়ই বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হয়। ছেলেটার জি এফ এর কোন অভাব হয় না। মেয়েরা সব সময়
ওর পিছনে পিছনে ঘুরে।

ছেলেটা যখন যা আবদার করে ওর বাবা সেটাই পূরন করে দেয়।

এলাকায় লোক জনের মুখে শোনা যায়, ছেলেটার বাবার নাকি লক্ষ লক্ষ টা ব্যাংক বালেন্স!

একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলের কাছে উপরের কথা গুলো যেন মনে হয় জেগে জেগে স্বপ্ন দেখার মতো! আচ্ছা, ওই ছেলেটা এতো দামি কাপর চোপর ব্যাবহার করে অথচ আমি কেন ১৫০ টাকার গেন্জি পরে থাকি?

আচ্ছা, ওই ছেলেটার কাছে এতো দামী দামী জুতা
আছে তাহলে আমি কেন প্রতিদিন ১২০ টাকা দামের চটি সেন্ডেল পরে চলাফেরা করি?

ওহ আল্লাহ তুমি কি আমায় দেখো না!? ওই ছেলেটার Fz বাইক আছে অথচ আমাকে কেন প্রতিদিন ২ কিলোমিটার পায়ে হেটে কলেজে যেতে হয়?

ওর বাবা প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করে।
আমার বাবা কেন তা করতে পারে না?

আমার বাবা কেন ৭০০০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের
কমর্চারী, অথবা আমার বাবা কেন রিকশা চালায়।

তাহলে কি সব দোষ আমার বাবার নাকি আমার
ভাগ্যের! বাবার দোষ কারন, আমার বাবা আমাকে
দামি কাপর চোপর কিনে দিতে পারে না। নামি দামি ব্যান্ডের জুতা, পারফিউম কিনে দিতে পারে না।

আবার, আমার ভাগ্যের ও দোষ কারন, আমার কপালে
কোন সুখ শান্তি নেই। আমার ভাগ্যে দামি কাপড় চোপড় নেই, আমার ভাগ্যে দামী বাইক নেই, ভাগ্যে নেই
কোন জি এফ।

আল্লাহ আমার ভাগ্যে কোন দিন এমন সুখ রাখেনি
আমার খেয়ালে আপনার বাবার ও কোন দোষ নেই।

এবং

আপনার ভাগ্যে কে দোষারোপ করা ও ঠিক হচ্ছে না।
একজন বাবা - মা তাদের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে থেকে সেই সন্তানটিকে বড় করে তোলার জন্য
যে পরিমান কষ্ট করেন তা অবর্ননীয়।

বাবা সারাটা দিন পরিশ্রম করে নিজে না খেয়ে রাতে
বাড়ি ফিরেন সন্তানের জন্য খাবার জিনিস নিয়ে।
পাতিলের মধ্যে সামান্য ভাত থাকলে সেটা নিজে না
খেয়ে তার সন্তানকে খাওয়ায় তার জন্মদাত্রী মা।

তারা ও চায় যে তাদের সন্তান দুনিয়ার বুকে প্রতিষ্ঠিত
হোক। হয়তো তারা এখন আপনাকে আপনার চাহিদা
অনুযায়ি জিনিস দিতে পারছে না। কিন্তু, তারা যে
নিষ্ঠুর দুনিয়াতে আপনাকে ছোট থেকে এতো বড়
করে তুললো এটা কি কম কিছু?

এবার আসুন ভাগ্য নিয়ে কথা বলি... দুনিয়াতে কোন
মানুষ ই খারাপ ভাগ্য নিয়ে জন্মায় না। ভাগ্য নিজেকে
গড়ে নিতে হয়। আপনার ভাগ্য আপনার নিজের হাতে।
এটা গড়ে নেওয়ার দায়িত্ব ও আপনার। আজ হয়তো
আপনি গরিব। পরিবারের থেকে সাহায্য খুব কম পান।
আপনাকে খুব কষ্ট করে পড়া - লেখা চালাতে হচ্ছে? ধ্যর্য ধরুন।

নিজের লক্ষকে ঠিক রাখুন। নিজের মনের মধ্যে একটা
ক্ষোভ তৈরী করুন। অন্য কেউ যদি সে কাজ টি করতে
পারে তাহলে আমি কেন পারবো না?? নিজের লক্ষ টা
ঠিক রেখে সেই অনুযায়ি নিজের লাইফ স্টাইল তৈরি
করুন। আর, তার সাথে কঠোর অধ্যাবসায় যোগ করুন।

এসবের পাশাপাশি পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ পরে নেক
নিয়তে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। উনার সম্মুখে হাত
তুলে দুই ফোটা চোখের পানি ফেলুন।

একদিন দেখবেন যেসব মানুষ গুলোকে আগে আপনার
কাছে সুখি মনে হতো তারা ও সেদিন আপনাকে দেখে
ঈর্ষা করতে থাকবে। আপনি এবং আপনার পরিবার
পরিজন তাদের থেকে অনেক বেশি সুখে থাকবেন।
Previous
Next Post »