সুখী মানুষ ~ WriterMosharef

সুখী মানুষ

সুখী মানুষ, সুখী মানুষ নাটিকা, সুখী মানুষ উক্তি, সুখী মানুষ হওয়ার উপায়, প্রকৃত সুখী মানুষ কে, পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ কে, পৃথিবীতে সবচেয়ে সুখী মানুষ কে, সুখের সংজ্ঞা, মানুষের সুখ কোথায়, প্রকৃত সুখ কোথায়, প্রকৃত সুখ কি, সুখ শান্তি, মনের শান্তি বড় শান্তি, happy people, সুখ, happiness, শুভ, সুখানুভব,  প্রসন্নতা, আরাম, bliss, স্বর্গবাস, পরম সুখ, সিদ্ধি, স্বর্গসুখ, মঙ্গল, comfort, সান্ত্বনা, স্বস্তি, স্বাচ্ছন্দ্য, আয়েশ, blessedness, ভাগ্য, কল্যাণ, weal, সুখ, Short Story, WriterMosharef

Hi I'm WriterMosharef

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সিনিয়র, জুনিয়র মিলে প্ল্যান করলাম ট্যুরে যাবো। সুন্দরবন ট্যুর।

জনপ্রতি মাত্র ১ হাজার টাকা ফি ধার্য করা হয়েছে।

সবাই বেশ উৎফুল্ল মোট সাতজন মানুষ যাবো।
সবার প্রিয় রকিব ভাইকে বলবো আমাদের সাথে
যাবার জন্য। উনি বেশ মজার মানুষ। উনি থাকলে ট্যুরটা অন্যরকম আনন্দদায়ক হবে।

সন্ধ্যার দিকে উনার রুমে গেলাম। দেখলাম উনি মন দিয়ে বই পড়ছেন। অনুমতি নিয়ে রূমে ঢুকলাম। উনাকে প্লানটার কথা বললাম।

উনি খুশি হলেন ও আমাদের জন্য শুভ কামনা করলেন কিন্তু যেতে রাজি হলেন না। বললেন প্রবলেম আছে। আরেকবার ইনশাল্লাহ যাওয়ার চেষ্টা করব।

আমি অনেকবার বলেও রাজি করাতে পারলাম না। কিসের প্রবলেম জিজ্ঞেস করলাম কিন্তু উনি কথাটা এড়িয়ে গেলেন।

যাইহোক সেবার ৬ জন মিলে ট্যুরে গেলাম। সুন্দর পরিবেশ সুন্দর সুন্দর জীবজন্তু। সেইভাবে উপভোগ করলাম।

একদিন পর ক্যাম্পাসে ফিরে আসলাম অনেক অনেক মজা করার পরে।

এরপরদিন খেলার মাঠের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম তখনই রকিব ভাইয়ের সাথে দেখা। সালাম দিয়ে কথা শুরু করলাম। সুন্দরবন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বললাম এবং বললাম ভাই কেন আমাদের সাথে যায়নি গেলে আরো অনেক বেশি মজা হতো। আপনার যাওয়া উচিত
ছিল ভাই এই কাজটা ঠিক করেননি।

এরপর উনি একটা ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে আমাকে বলতে লাগলেন শোন শাকিল তোকে কিছু কথা বলি।

আসলে তুই যখন অন্যকে খুশি করার কাজটাকে নিজের থেকেও বেশি প্রায়োরিটি দিবি তোর কাছে এসব কিছুই মনে হবে না। আমার ছোট বোন আসমা ক্লাস নাইনে পড়ে। সেদিন ওদের ক্লাস থেকে পিকনিক
এর আয়োজন করা হয়েছিল। এদিকে ওদের সব বান্ধবীরা প্ল্যান করেছে এক কালারের শাড়ি পরবে।

আব্বার হাতে একদমই টাকা ছিল না। আর এজন্য আসমা মন খারাপ করে বাসায় বসে কাঁদছিল, ভয়ে আমাকে ফোন করার মতো সাহস হয়নি। আমি পরে মায়ের কাছে এসব শুনতে পাই।

এখানে টিউশনির বেশকিছু টাকা জমে আছে, দিচ্ছে না। কোনোভাবে পনেরশো টাকা ম্যানেজ করলাম, ম্যানেজ করে বাসায় পাঠালাম। টাকাগুলো পেয়ে আমার বোন আমাকে কল দিয়ে কান্না করে অনেক্ষণ।

এখনো সেই ছেলেমানুষীটা আছে ওর মধ্যে।

বিশ্বাস করবিনা এর পরদিন যখন আসমার তার বান্ধবীদের সাথে শাড়ি পড়ে হাসিমাখা মুখের ছবিটা দেখলাম আমাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে হচ্ছিলো। আমার এত অর্থবিত্তের দরকার নাই ভাই।

প্রিয় মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটুক এইটুকু করতে পারাটাই হচ্ছে আমার সফলতা।

এর বেশি আমি কিছু চাইনা।

আমি ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। কি বলবো তা আমি জানিনা। উনার সাথে কথা বলি রোজ, মাঝেমধ্যে একসাথে চলি এই ব্যাপারটা কেমন যেন আমার জন্য একটা গর্বের ব্যাপার মনে হলো।

পৃথিবীর কিছু কিছু ভাই এখনো এমন আছে বলেই সম্পর্ক গুলো এতো মধুর। ভালোবাসাগুলো বেঁচে থাকুক।
Previous
Next Post »