একাকিত্ব নিয়ে উক্তি

একাকিত্ব নিয়ে উক্তি

সন্তানকে পৃথিবীর মুখ দেখাতে গিয়ে সিজার করায় পেটে সেলাই পড়ে দাগ হয়েছে, রুটি ভাজতে ভাজতে হাতে গরম তেল পড়ে পুড়েছে, পেটে ভাজ পড়েছে সবার যত্নের ফাঁকে নিজের প্রতি অযত্নে, আগুনের ক্লান্তির গ্লানিতে মুখে কালো কালো স্পট হয়েছে।

সারাক্ষণ সংসার সংসার করতে গিয়ে মুখের দাগ
গুলো ফসকে গিয়েছে। তবুও যদি সেই স্ত্রী নামক মানুষটির সৌন্দর্যকে দায়ী করে তার প্রতি অবহেলা এবং ব্যভিচার হয় তবে তা চরম অসহ্যই।

আপনার বাড়ি ফিরতে দেরি হয় বলে বারবার ফোন করে খোঁজ নেয়, চেঁচায়, কাচুমাচু করে, আবেগ দেখায়।
বাড়ি ফিরলে বকবক করে, অযথা চিল্লায় বলে যে মানুষটির প্রতি আপনি বিরক্ত হচ্ছেন খোঁজ নিয়ে জানুন যে সেই মানুষ টি আপনাকে ছাড়া পেটে ভাত দেয় না, আপনার ফেরার অপেক্ষায় তার ঘুম হয় না।

রাতে আপনার কাঁপুনী দিয়ে জ্বর এলেও এই মানুষটি এক মুহূর্তের জন্য ঘুমায় না। টেনশনে তার মাথা খারাপ হয়ে যায়।

আপনার স্ত্রী চেঁচায় বেশি, উচ্চস্বরে কথা বলে শুধু।

এটাকে মারাত্মক সমস্যা মনে হয়! কিন্তু ভেবে দেখুন যে, একটা মানুষ সারাদিন একা একা সময় কাটায়, কাজ করে, সব সামলায়। মাঝে মাঝে দেখবেন যে, মহিলারা কাজ করতে করতে একা একা কথা বলে৷

আসলে কেন বলে কি বলে তারা নিজেরাও জানে না।

সত্য অর্থে বলার মানুষ না পেয়েই এমনটা করে তারা।

কিন্তু, এই মানুষটার যদি অহরহ রাস্তায় বিচরণ
থাকতো কিংবা অসংখ্য মানুষের ভীড়ে থাকতো তাহলে সে চেঁচামেচি করতো? আপনি অফিসের প্যারায়
কলিগদের ঝুড়িঝুড়ি দেন না? মেজাজ খারাপ হয় না?

অন্যদিকে ওই মানুষটা কিন্তু এমন সুযোগ টা পায় না।

ফলে আপনাকে সামনে পাওয়ার পর সব ঝাড়তে থাকে, ঝগড়া করে, চেঁচায়৷ মোটকথা হচ্ছে এটা তার একপ্রকার অধিকার।

অনেকেই দেখি যে, স্ত্রীর বয়স হয়েছে বলে পরস্ত্রী তে মগ্ন হয় কিংবা পরকিয়ায় লিপ্ত হয়। অথবা নতুন কাউকে আশা করতে থাকে নতুবা ডিভোর্সের চিন্তায় চিন্তিত হয়।

আচ্ছা, এই মানুষটা বুড়ি হয়েছে কার কাছে থাকতে থাকতে? কার জন্য পরিশ্রম করে এই মানুষটির স্বাস্থ্য শরীর বুড়ো হয়েছে? কার জন্য সারাক্ষণ চেঁচায়?

আপনার সংসারের জন্যই তো নাকি?

তবে, আপনি-আমি কিভাবে অন্য নারী কল্পনা করতে পারি?

বিবেকে বাধে তো! আচ্ছা, এই মানুষটাকে বাদ দিয়ে যে নারীর কাছে যাবেন সে নারী কি বুড়ো হবে না? পেটে ভাজ পড়বে না? গরম তেলে হাত লেগে মসৃণ থাকতে পারবে সে? সৌন্দর্যের চিন্তা কিভাবে করবেন। এই মানুষটা তো আপনার সংসারে খাটতে খাটতে নিজের যত্ন সর্বশেষ কবে নিয়েছে সেটা ভুলে গেছে।

একটা রুটি ভাজতে এখন আর সে চামচ ইউজ না করে
হাতেই তুলে ফেলে। তাছাড়া পেয়াজ কাটতে গেলে হাত তো কালো হবেই। কিন্তু এখন মুখে কালো দাগ পড়েছে বলে ভালবাসি বলা যাবে না?

আপনি ঘরে ফিরলেই চেঁচাবে' এই অধিকার টা তাকে খাটাতে দিন।

ভালো লাগান খুব বেশি চেঁচালে ভালবাসি বলে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে যা মন চায় করুন। দেখবেন যে পুরোটা দিনে আর একটা কথা বলার সাহস সে পাবে না।

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে তাকে সম্মান করুন, ভালবাসুন, স্নেহ করুন, আদর করুন। দেখবেন এই অভাগী আর অশান্তি করার সাহস পাবে না।

সে যদি বুঝতে পারে যে আপনার কাছেই সে সবচেয়ে বেশি ভালবাসা এবং নিরাপত্তা পায় তবে আপনাকে ছাড়বেও না।

সেও রক্তে মাংসে মানুষ। হৃদয় তারও আছে। সে আপনাকে ভালবাসে এবং বিশ্বাস করে বলেই আপনার সংসারে থাকে, আপনার জন্য চিন্তা করে, সন্দেহ করে এবং আপনার ভালোর জন্যই এত বেশি চেঁচায়।

যাকগে, স্ত্রী পুরাতন-নতুন যাইহোক এই প্রাণীকে ভালবাসার পাশাপাশি সম্মান দিন৷ সৌন্দর্য বা দৈহিক চাহিদার লোভে অবহেলা করা অনৈতিক, সুখী হওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখা উচিত যে, সে সব সময়েই আপনার চেয়ে অনেক বেশী ক্ষমতাবান।

তাকে আপনি যাই দেন, সে তা অনেকগুণ বড় বানিয়ে
ফেরত দেবে। যদি তাকে একটি শুক্রাণু দেন, সে আপনাকে একটি শিশু দেবে। যদি তাকে একটি ঘর দেন, সে ঘরকে তোমার জন্য বাড়ি বানিয়ে দিবে।

আপনি যদি তাকে বাজার করে দেন, সে আপনাকে
খাবার দেবে। আপনি যদি তাকে একটু হাসি দেন, সে তার পুরো হৃদয়টাই আপনাকে দিয়ে দেবে। অর্থাৎ,
ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরেও যদি দেখেন সে বিরক্ত করছে তবুও উত্তেজিত হওয়ার দরকার নেই। পুরুষ হয়ে জন্মে
এত সহজে উত্তেজিত হওয়া পাপ। স্ত্রী মুখ ফসকে গালি দিলেও উল্টো গালি দিয়েন না। আর যাইহোক বাবা-মা তুলে গালি দিয়েন না। এটা ভয়াবহ অশান্তির কারণ।

এরা প্রেমভোজী প্রাণী৷ গালি আর পাল্টা জবাব এদের কাছে ভয়ংকর। মোটকথা, যদি আপনি তাকে ইটকেল টি মারার ইচ্ছে পোষণ করেন, তবে হাজারটা পাটকেল
খাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে থাকেন।

অবশেষে ভালো থাকুন, ভালো রাখুন, ধন্যবাদ সবাইকে কষ্ট করে পড়ার জন্য।
Previous
Next Post »