বন্ধন ~ WriterMosharef

বন্ধন

বন্ধন, Ties, fastening, দৃঢ়ভাবে আবদ্ধকারী, binding, বাঁধাই, বাধ্যবাধকতা, বাঁধন, nexus, confinement, কারাবাস, বন্দিদশা, নির্জনবাস, stricture, embrace, আলিঙ্গন, unification, একীকরণ, মিশ্রণ, যুক্তি, সমন্বয়বিধান, সমন্বয়সাধন, fixture, দৃঢ় করা, সংলগ্ন বস্তু,  নিশ্চল করা, short story, WriterMosharef

Hi I'm WriterMosharef

মেয়ে দেখতে গিয়ে প্রথম দেখাতেই মেয়েটিকে আমার ভালো লেগে যায়।প্রেমে পড়া যাকে বলে। তেমন একটা সুন্দর না হলেও কপালে লাল টিপের সাথে খোলা চুলে তাকে অসম্ভব সুন্দরই লাগছে। হয়তো আমার ন্যায় অন্য কেউ থাকলেও প্রেমে পড়তো।

প্রথম বার যখন চোখে চোখ পড়লো আমার, ভিতরটা কেমন করে যেনো কেঁপে উঠেছিলো। এই ভাবেই কি কেউ কারো প্রেমে পড়ে। আচ্ছা আমার ন্যায় কি তারও এমনটা হয়েছে।হাসি আসে আমার।

এই নয়ন,তোর কিছু জিজ্ঞেস করার আছে বা একা কথা বলবি, দি-ভাই এর ডাকে আমার ধ্যান ভাজ্ঞলো।

আমি মাথা দিয়ে না সূচক ইশারা করি দি-ভাইকে।

পছন্দ অপছন্দের কথা পরে জানানো হবে বলে আমরা সেদিন চলে এসে ছিলাম।

আমাদের পরিবারের সকলের পছন্দও হয়েছিলো কিন্তু
তাদের হয়নি। হুম,আমাকে তাদের পছন্দ হয়নি। সেদিন আমার চাইতে আমার পরিবারের সকলের মনই খারাপ হয়ে গিয়েছিল, হয়তো তারা এমনটা আশা করেনি।

আমি কিছু বলিনি বা এই সব নিয়ে ভাবিনি বা ভাবি না।পছন্দ নাই হতে পারে, এতে মন খারাপ করার মত কিছু হয় না। হয়তো বা আমি তাদের মেয়ের জন্য মানান সই নই।

কিন্তু তাকে আমি মনে রাখব,অনেক দিন মনে রাখব।
প্রথম দেখায় ভালো লাগা, হয়তো ভুলতে চাইলেও ভুলতে পারবো না।

এরপর চলে গেলো পায় কয়েকটা সপ্তাহ বা মাস। মাঝে মাঝে মা জিজ্ঞেস করতো আমার কোনো পছন্দ আছে কি না বা মেয়ে দেখতে যাওয়ার জন্য, কিন্তু আমি যেতাম না, কেনো যেনো ইচ্ছে করতো না আমার।

এর মাঝে মেয়েটির সাথে আমার একবার দেখা হয়েছিলো। হুম, সেদিন যখন বই মেলাতে ঘুরে ঘুরে কিছু বই দেখছিলাম তখনি ওর সাথে আমার একবার চোখাচোখি হয়েছিলো। কিন্তু আমি পারিনি আগ বাড়িয়ে কথা বলতে, একটি বার জিজ্ঞেস করতে আমাকে সত্যিই কি তার পছন্দ হয়নি। হুম সেদিন তার সাথে কথা বলতে না পারলেও আমি তার নামটা ঠিকই জেনে ছিলাম, প্রিয়ন্তী নাম ওর।

নামটা আমার বেশ লাগে।হয়তো নামের মতো মানুষ টাকেও।কিন্তু আমি আর এই সব নিয়ে ভাবি না ভাবতে চাই না।

আমার পিসি মনি ঠিকই বলেছিল এবং ঠিকই দেখেছিল কিন্তু আমি বিশ্বাস করিনি,আজ তো নিজের চোখেই দেখলাম।

বাহ্ নয়ন সাহেব বাহ্।

সেদিন যখন ছোট বোনকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে গেলাম কিছু খাওয়ার জন্য তখনি প্রিয়ন্তী কোথায় থেকে এসে কথা গুলো বললো।

আমি প্রিয়ন্তী দিকে তাকাই।তোমার পিসি মনি ঠিক বলেছিল বা ঠিক দেখেছিল মানে,মানে কি বলতে চাইছো এই যে অন্য মেয়ের সা, আমি আর বাকি টুকু বলতে দিলাম না তাকে। প্রিয়ন্তী ও আমার ছোট বোন।

সব কিছু না জেনে কাউকে অপরাধী বা দোষী ভাবা
ঠিক না।আর তা ছাড়া তোমার সাথে আমার কেনোই বা বিয়ে হলোনা, কেনই বা তোমাদের আমাকে পছন্দ হলো না আমি কিছু জানি না হয়তো জানতেও চাইনি।

মেয়েটি আর কিছু না বলে চলে যায়।আমি আর তাকে
ডাকিনি ডাকতে পারিনি।

তার মানে প্রিয়ন্তীর পিসি মনি হয়তো আমাকে কোনো একদিন অন্য কোনো মেয়ের সাথে দেখেছিলো, আর তাই, আমার ভালোবাসার মানুষ বা কাছের তেমন কোনো মেয়ে নেই যে তাদের সাথে ঘুরবো।

হুম এর মাঝে একদিন আমার অফিস কলিগের সাথে
মার্কেটে গিয়েছিলাম তার স্বামীর জন্য নাকি একটা পাঞ্জাবী কিনবে তাই।তাহলে কি সেদিন দেখেছিলো।

এর পায় কয়েক দিন পর প্রিয়ন্তীকে আমাদের বাড়িতে দেখে আমি এক প্রকার অবাকই হয়ে ছিলাম। হয়তো এমনটা আশা করিনি কখনো।

ছোট বোন আর মায়ের সাথে হেসে হেসেই কথা বলছে, হয়তো অল্পতেই মিশে গেছে,আপন করে নিয়েছে খুব অল্প সময়ে। আচ্ছা ও এমন হঠাৎ করে এসে সবাইকে কেনো তার মায়ায় জড়াতে চাইছে।

সে তো এই বাড়ির বউ হবে না তাহলে কেনো,একটি বার কি জিজ্ঞেস করব।

বার কয়েক বার চোখাচোখি হলেও কথা হয়নি সেদিন আর তার সাথে, ছোট বোনের থেকে শুনেছিলাম বিয়ে নাকি ঠিক হয়েছে তার। তাই এসেছিলো।মন খারাপ হয় আমার, আমার আকাশে মেঘেরা খেলা করে। এই বুঝি বর্ষন হলো। এমন করেই বুঝি হারিয়ে যায় ভালোলাগা বা ভালোবাসার মানুষ গুলো।

দা ভাই নে পাঞ্জাবীটা পড়ে নে। বৌদির বিয়েতে যাবো।বৌদি মানে কার বিয়ের কথা বলছিস তুই, ওর আর কিছু না বলে চলে যায়।

তার কিছুক্ষন পরেই অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসে আমার, ধরবো ধরছি করতে করতেই প্রথম বারের মতো কেটে গেলো ফোনটা, কে বলছেন, অপর পাশ থেকে কোনো আওয়াজ আসে না কিছুটা সময়।

আচ্ছা আপনি বিয়েতে আসছেন তো রাগ হয় আমার, না আসছি না আমি।

জানেন আমার বর টা না অনেক কিউট। অনেক ভালোও, আপনার চাইতেও ভালো।অন্য মেয়েদের সাথে ঘুরে না হুম।

তা আমি কি করব এখন বা কি করার আছে বলবেন কি মিস, না না মিসেস প্রিয়ন্তী।

মেয়েটি মুচকি হাসে, আচ্ছা আপনি এমন করে কেনো কথা বলেন, জানেন মাঝে মাঝে আমার মন চায় হুট করে আমি আপনার প্রেমে পড়ে যাই। তাকিয়ে থাকি আমি আপনার ঐ চোখের দিকে, আচ্ছা আমার এমন টা কেনো মনে হয় জানেন কি আপনি।

আমি কিছু বলি না, বলতে পারি না। এই সময়ে কি বলা উচিত আমি ভাবি। আমি আর ভাবতে পারি না ইচ্ছে করে না তার কথার মায়াতে পড়তে। ফোন কেটে দি আমি।

মা দেখো যাঁর বিয়ে তার খবর নেই, আর আমরা সবাই রেডি হয়ে বসে আছি। দিদির মুখে এমন কথা শুনে আমি মায়ের দিকে তাকাই একটু মা মুচকি হাসেন।

মা তোমরা আমার কিছুই জানাও নি,
জানাবার কি আছে,প্রিয়ন্তীকে আমাদের খুব পছন্দ হয়েছে আর তাছাড়া মেয়েটি খুব মিশুক। সেদিন অল্প সময়েই কেমন করে আমাদের সাথে মিশে গেলো,
তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে তুই,

প্রিয়ন্তীকে ফোন দি আমি।

আমি আসছি না, এমন বিয়ে আমি মানি না, তাই না, ওকে আসতে হবে না আমি নিজেই চলে আসব, মানে মানে আমার এই মানুষটাকেই চাই, আমি হারাবো তার চোখের দিকে তাকিয়ে, শুনবো তার ছন্দ মেলানো কথা গুলো, বন্ধনে বাঁধবো আমার এই আমি টাকে।

আমি মুচকি হাসি, আমার ও যে এই মানুষ টাকেই চাই,তার বন্ধনে নিজেকে বাঁধতে চাই।
Previous
Next Post »