তোর সাথে কাটানো আজকের দিন আমার জীবনের সেরা দিন

তোর সাথে কাটানো আজকের দিন আমার জীবনের সেরা দিন, তোর সাথে সারা নিশি,  তোর সাধনার ফলে, তোর সাধের পোষা পাখি,  তোর সাধের ঘরবাড়ি, তোর সাথে মন মেশাবো বলে, তোর প্রেমেতে অন্ধ হলাম, বন্ধুর সাথে কাটানো সময়, তোমার সাথে কাটানো সময়, প্রিয় মানুষের সাথে কাটানো সময়, আমার জীবনের লক্ষ্য রচনা, আমার জীবনের গল্প, আমার জীবনের সেরা উপহার, আমার জীবনের স্বপ্ন, আমার জীবনের লক্ষ্য অনুচ্ছেদ, আমার জীবনের একটি স্মরণীয় দিন, আমার জীবনের সেরা দিন, tor sathe, amar jiboner lokkho, amar jiboner golpo, amar jiboner eto khushi, amar jiboner sadhona, amar jiboner prothom prem, WriterMosharef

Hi I'm WriterMosharef

ছোটবেলা থেকে মায়ের থেকে শুনতাম বিপদ যত বড় মাথাও তত ঠাণ্ডা রাখতে হবে।

খবরদার বিপদে যদি কোনোদিন ভেঙে পড়িস তোর হারগোর আমি ভেঙে ফেলবো।

আমার মাকে আমি কোনোদিন কাঁদতে দেখিনি।

কোনোদিন হা হুতাশ ও করতে দেখিনি।

আর,
মায়ের সেই দীক্ষায় আমি দীক্ষিত। আমিও কোনোদিন বিপদে ভেঙে পড়িনি। কোনো সমস্যায় পড়লে যখনই অসহায় বোধ করতাম মায়ের সেই শাসানি মনে পড়ে যায়।

তবে এখন আমি যেই বিপদের মধ্যে আছি সেটা বিপদ না মহাবিপদ। আমি আমার সাথে একটা আস্ত পেত্নি নিয়ে ঘুরছি। যেই পেত্নি আমার মনের কথা বুঝতে পারে। তার হাতে একটা ব্যাগ।

এই তুই আমাকে পেত্নি বললি কেন আরিয়ান?

কই তোকে পেত্নি বললাম? মিথ্যে অপবাদ দিচ্ছিস কেন আমার নামে?

তুই কি ভুলে গেছিস তুই মনে মনে যা বলিস আমি তা শুনতে পারি?

এই মেয়েটার জন্য আমি শান্তিতে মনে মনে কথাও বলতে পারি না।

আফরান প্লিজ দোস্ত আমাকে মুক্তি দে বাসায় ফিরে যা। বাসায় ফিরে যাব? কি বলিস তুই? শোন এই আফরান এক কথার মানুষ। আমি বাসায় বলে এসেছি আমি আর বাসায় ফিরে যাবো না। মানে যাবো না। বাবার কত বড় সাহস! আমাকে বলে কিনা আমি
নাকি কোনো কাজের না আমাকে দিয়ে কোনো কিছু হবে না।

তাই বলে তুই আমার ঘাড়ে চেপে বসবি?

কিহ! আমি তোর ঘাড়ে চেপে বসছি? আমি কি ভূত?

তুই ভূত ই। আমি একটা মেসে থাকি। এই শহরে আমার পরিচিত কেউও নেই। তুই একটা গার্লস হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা করে নে। আমি এত টাকা আনিনি। আমি তোর সাথে থাকবো। তুই রাস্তায় থাকলে আমিও তোর সাথে রাস্তাতেই থাকবো।

আমি মাথায় হাত দিয়ে বসে আছি। ফুটপাতে আর কতক্ষণ বসে থাকা যায়। সাথে কিছু ভিক্ষুক বসে ছিল। তাদের সাথে আমরা দুইজন। আর আফরানকে এটা নিয়ে চিন্তা করতে দেখলাম না। হঠাৎ নিচের দিকে চোখ চলে যাওয়ায় দেখতে পেলাম সেখানে দুই চার টাকা
পড়ে আছে।

কিছুক্ষণ মাথা ঘামাবার পর বুঝলাম আমাদের দুইজন কে ভিক্ষুক মনে করে কিছু সহৃদয়বান ব্যক্তি আমাদের ভিক্ষা দিয়ে গেছে।

আমি টাকা গুলি তুলে গুণতে শুরু করলাম। আফরান ও এতক্ষণ টাকা গুলি খেয়াল করে নি।

টাকা গুলি গুণে দেখলাম সেখানে ১১ টাকা আছে। যাক এই ১১ টাকা দিয়ে দুই কাপ চা আর একটা চকোলেট পাওয়া যাবে।

আফরানের দিকে তাকিয়ে বললাম? হয়ে যাবে।

কি হয়ে যাবে?

১১ টাকা আছে। অন্তত দুইজনে দুই কাপ চা খেতে পারবো। চল সামনের টং এর দোকান থেকে চা খেয়ে আসি।

ছি! তুই ভিক্ষার টাকা দিয়ে চা খাবি? এই আফরান কোনোদিন ভিক্ষার টাকা ছুঁয়েও দেখবে না।

ওরে বাবা রে। তা কোন দেশের মহারানী তুই? কত টাকা সাথে নিয়ে এসেছিস দেখা।

ও মুখ টা কাছুমাছু করে বলল আমার চায়ে চিনি কম দিতে বলবি। আমি ডায়েটে আছি। ওকে?

রাস্তায় আফরান আর আমি হাঁটছি। এক কাপ চা ছাড়া সারাদিন কিছু পেটে পড়েনি। কোনো গন্তব্য নেই। আর আফরান কে মেসে নিয়ে যাওয়া মানে নিজের মৃত্যু নিজেই ডেকে আনার সমতুল্য।

মেসে মেয়ে নিয়ে যাওয়া তো দূর, মেসে মেয়ের নাম উচ্চারণ করাও পাপ। রাকিব তার গার্লফ্রেন্ড মুনিয়ার কথা যখন বলে সেই নাম টাও চেঞ্জ করে মনির বলে ডাকে। আর এর মধ্যে আমি সেখানে আফরান কে নিয়ে যাই মেস মালিক যদি একবার জানতে পারে তাহলে আমাকে কসাইর কাছে দিয়ে দেওয়া হবে। আর সেগুলি হয়ত ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রিও করা হতে পারে।

আমাকে তোর মেসে নিয়ে যেতে হবে না।

হঠাৎ, আফরানের কথায় ভাবনায় ছেদ পড়লো।

কিছু বললি?

বললাম যে আমাকে তোর মেসে নিয়ে যেতে হবে না।

এক কাজ করি রাস্তাতেই বাকি জীবন টা কাটিয়ে দেই।

তোর কি মাথা ঠিক আছে? সন্ধ্যা হয়ে গেল। একটু পরেই রাত হয়ে যাবে। চল তোকে বাসায় পৌঁছে দেই।
আমি বললাম তো যাবো না। তবুও যদি তুই ফিরিয়ে দিতে চাস তাহলে আমি কোনো গাড়ির তলায় ঝাপ দিবো।

এরপর আর কিছু বলার সাহস হলো না। রাত আট টা বাজে। হেঁটে হেঁটে পায়ের অবস্থা খুব খারাপ। ও চুপচাপ আমার সাথে হেঁটে যাচ্ছে।

একটু পরেই একটা ল্যাম্পপোস্টের নিচে বসে পড়লো।

কিরে বসে পড়লি যে?

আর হাঁটতে পারছি না। ঘুম পাচ্ছে। তুই তো জানিস ই আমি খুব জলদি ঘুমিয়ে পড়ি।

এখন তুই রাস্তায় ঘুমাবি?

তুই একটু পাশে বোস না।

আমি গিয়ে ওর পাশে বসলাম। ও আমার কাধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে ফেলল।

কিছুক্ষণ পর বুঝলাম ও আসলেই ঘুমিয়ে গেছে। একটু পরেই একটা আওয়াজ কানে ভেসে উঠলো।

কিরে আরিয়ান, মেয়ে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিস? মা তুমি এসেছো? দেখোতো কি একটা বিপদে পড়লাম। এখন আমি একে নিয়ে কোথায় যাই বলো তো?

মেয়েটা তোকে ভালোবাসে রে আরিয়ান। বিয়ে করে ফেল মেয়েটাকে।

ধ্যাত মা, কি যে বলো?

মেয়েটা কিন্তু আসলেই তোর মন বুঝতে পারে। কিন্তু ওর প্রতি তোর ভালোবাসা বুঝতে পারে না।

সেসব কথা বাদ দাও তো। এখন বলো কি করবো?

তোর কিছু করতে হবে না। ওর বাবা ই ওকে খুঁজতে খুঁজতে এখানে চলে আসবে।

ওহ যাক। বাঁচা গেলো।

হাহা এর চাইতে আরো বড় বিপদ আসছে তোর সামনে।

মনে রাখবি যত বড় বিপদ মাথা ততটাই ঠাণ্ডা রাখতে হবে।

কি! কি বিপদ মা?

কথা শেষ করতে পারলাম না। তার আগেই আফরানের ঘুম ভেঙে গেলো।

ঘুম জড়ানো গলায় আফরান জিজ্ঞেস করলো।

মায়ের সাথে কথা বলছিলি?
হুম।
তোর এক স্বভাব টার জন্য তোকে সবাই পাগল বলে খ্যাপায়।

হুম। সবাই ভাবে আমি নিজের সাথে নিজে কথা বলি।

যেকোনো বিপদে তুই তোর মায়ের সাথে কাল্পনিক কথা বার্তা চালিয়ে যাস। তাইনা?

হুম

তোকে খুব বিপদে ফেলে দিলাম আরিয়ান। তবে জানিস তোর সাথে কাটানো আজকের দিন আমার জীবনের সেরা দিন।

ও আর কিছু বলল না। আবার আমার কাধে ঘুমিয়ে পড়লো।

একটু দূরেই আফরানের বাবার গাড়িটা দেখা যাচ্ছে।

মেয়েটা আমাকে ছেড়ে বাবার সাথে চলে যাবে।

আমি আফরানের দিকে তাকালাম। ওকে ডেকে দিতে হবে।

ল্যাম্পপোস্টের আলোয় আফরান কে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে। জানিনা মেয়েটা আমাকে আর কত বিপদে ফেলবে।

তবে যত বিপদেই ফেলুক না কেন মেয়েটা যদি আজীবন আমার সাথে থেকে যেত খুব একটা
মন্দ হতো না।
Previous
Next Post »