দূরত্বটা মনের শরীরের নয় ~ WriterMosharef

দূরত্বটা মনের শরীরের নয়

দূরত্বটা মনের শরীরের নয়, মনের কথা, মনের কষ্টের কথা, মনের কিছু কথা, আবেগি মনের কষ্টের কথা, কষ্টের জীবন নিয়ে কিছু কথা, আবেগি মনের কিছু কথা, মনের কিছু না বলা কথা, না পাওয়ার কিছু কথা, তোমাকে নিয়ে কিছু কথা, সুন্দর কিছু কথা, প্রিয় মানুষকে নিয়ে কিছু কথা, durotto moner shorirer noy, short story, WriterMosharef

Hi I'm WriterMosharef

কফি মগ নিয়ে বারন্দার দোলনায় বসলাম।এই মাঝরাতে দুল খেতে খেতে কফি খেতে ভালোই লাগে।

কফি মগে একটা চুমুক দিয়ে আকাশের দিকে তাকালাম। বাহ! আজ আকাশে অনেক সুন্দর চাদ
উঠেছে। চাঁদের আলো চারিদিকে এমনভাবে পড়ছে
যে মনে হচ্ছে এখন দিন। এমন সময়গুলোতে না চাইতেও পূরনো কথাগুল মনেপরে যাই।

এই নিস্তব্ধ পরিবেশে পুরনো সৃতিগুলা না চাইতেও মনের গভীর থেকে চিৎকার করে উঠে। এবং ওই চিৎকার এতোই জরদার হয় যে চাইলেও সেটা এরিয়ে যাওয়া যায় না। কিন্তু ওই চিৎকারটা আজ প্রায় অনেক বছর ধরে শুনেও না শুনার ভান করে জিবন কাটাই
দিচ্ছি।জিবন তো চলছে বেশ! থেমে তো নাই।

এই অনেক।জিবন তো চলছে কিন্তু মন? মনকে কিভাবে মানাবো তা আজও আমার জানা হয়ে উঠেনি।আচ্ছা, সে ও কি আমার মতো এমন কফি হাতে আমার
কথা ভাবে এখনো? এখনো কি মনে হয় ইশ!যদি আর একটু লড়ায় করতে পারতাম ভালবাসার জন্য? শুনেছি সে ও বিয়ে করেছে। আচ্ছা ওরও মনে হয় ওর বউয়ের যায়গায় যদি আমি থাকতাম। যদি একটু সাহস করে লড়ায় করতাম ফ্যামিলির সাথে? হয়ত হয় হয়তবা হয় না। হয়তবা সে ওমনের ওই চিৎকারকে এরিয়ে চলে। অবশ্য শুনেই বা কি হবে? যখন শুনার দরকার ছিল তখন তো কান বন্ধ করে রেখেছিলাম দুজনেই।

দীঘনিশ্বাস নিয়ে আবার কফিতে চুমুক দিলাম।লোকে বলে বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যায়। বিয়ের আগের প্রেম ভালবাসা সব ভুলে যায়।

আসলেই কি? হ্যা সব ঠিকই আছে। ফ্যামিলির দিক দিয়ে।বাবা মা খুশি,আসলে কত্ত আদর যত্ন করে। যদি আমার ভালবাসার হাত ধরতাম তাহলে এইটা পেতাম না হয়ত আমার সাথে যোগাযোগই বন্ধ করে দিত আব্বু আম্মু। মানিয়ে নিয়ে নিয়ে এইভাবেই জিবন কেটে যাবে এতো বছরে খুশি থাকার অভিনয়টা বেশ ভালোই শিখে
গেছি। ফারহানের আওয়াজে রুমের দিকে তাকালাম দেখি ও পাশ ফিরে শুচ্ছে। এক্সি ডেন্ট করছে ও আজ আল্লাহ রহমতে বেশি কিছুহয় নি কিন্তু হাতে পায়ে বেশ কেটে গেছে তাই হয়তো পাশ ফিরতে কষ্ট হচ্ছে।

মাঝেমধ্যে মনে হয় আমি হয়তো ফারহানকে ভালবেসে
ফেলেছি এই ৪ বছরে। আবার মনে হয় না! যা করি সব দায়িত্ববোধ থেকে। এই যে এখনকার সময়ই ধরে নিয়ে বলি আমি যদি ওকে সত্যিই ভালবাসতাম তাহলে কি এখন এমনভাবে রিলাক্সে কফি খেতে পারতাম?

মনে আছে একবার রাহাত এক্সিডেন্টে করে ৫ দিন
হাসপাতালে ছিল। ওর ডান পা ভেগে গেছিল।

ওই কয়দিন আমার নাওয়া খাওয়া সব বন্ধ ছিল। তিন  বেলা কিছু না কিছু বানাইয়ে যেতাম আর ডাক্তারের কাছে ঝাড়ি খেতাম। কারণ, হাসপাতালে বাইরের খাওয়া নিয়া বারন ছিল। আমার ঝাড়ি খাওয়া দেখে
রাহাত মিটমিট করে হাসতো। সত্যি বলতে ওর ওই হাসিটা দেখার জন্যেই আমি ইচ্ছে করে খাবার নিয়ে যেতাম।

শেষ যখন আমাদের দেখা হয় ও বলেছিল লাবণ্য আমাকে মাপ করে দিও কিন্তু আমি পারছি না দুই ফ্যামিলির পেসার নিতে। এইদিকে তোমার বাবা
হুমকি আর আরেকদিকে আমার মায়ের কান্না। আমি আর নিতে পারছি না। আমাদের আলাদা হয়ে যাওয়াই ভালো। আমি শুধু হ্যা সূচক মাথা নেড়ে ওখান থেকে চলে এসে আব্বুকে বলেছিলাম যাকে যাকে বলবে তাকেই বিয়ে করবো।

লাবণ্য ফারহানের ডাকে চমকায় ঘুরে তাকালাম।
লাবণ্য বাস্তবে ফিরে এসো নিজেই নিজেকে বলে ফারহানের কাছে গিয়ে ওর পাশে বসলাম। বসতেই
ফারহান আমার কোলে মাথা রেখে মাজা জোরাই ধরে শুইলো বাচ্চাদের মতো। আমি ওর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বল্লাম,

শরীর বেশি খারাপ লাগছে?

নাহ।

ব্যথা করছে? জলছে কাটা জায়গায়? জললে বল আমি মলম লাগাই দেই।

নাহ বস এখানে। (আরও শক্ত করে জরাই বল)

হুম।

এই ছেলেটা আমাকে ভালবাসে। একটু না অনেক বেশি ভালবাসে।

সেটা আমি বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারি। মাঝেমধ্যে আমি নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করি, আমি ওর এতো যত্ন নেয় সেটা ভালবাসা থেকে না দায়িত্ববোধ থেকে? এই ৪ বছরে এই প্রশ্নের উত্তর পাইনি আমি। ফারহান আমার দিকে তাকাল আমি ওর তাকানো দেখে জিগ্যেস করলাম,

কি?
একটা কথা জিগ্যেস করি?
হুম।

এখনো ভালবাস ওই ছেলেকে?

ওর প্রশ্নটা শুনে থমকে গেলাম। বিয়ের ২ দিন পরই ফারহানকে সব বলেছিলাম আমি। ওইদিনের পর থেকে ফারহান আর রাহাতের কথা তুলেনি কখনো। হঠাৎ, আজ কেন? আমাকে চুপ থাকতে দেখে ও উঠে বসে আমার দুই গালে হাত দিয়ে বল,

বল না?
হঠাৎ, এগুলো বলছ কেন?
এমনি।

কিছু খাবে? খাওনি তো আজ রাতে। বলেই উঠে দাড়ালাম। মূলত ওই প্রশ্ন থেকে পালানোর চেষ্টা। কিন্তু ও আমার হাত চেপে ধরলো।

আজও ওই ছেলেকেই ভালবাস না?

কিসব বলছ ফারহান? এক্সিডেন্ট করে মাথা খারাপ হয়ে গেছে?

কি উত্তর দিব ওকে? আমি নিজেই তো এই উত্তর খুজছি।

রেগে যাচ্ছ কেন? বলেই উঠে আমাকে জরাই ধরলো।

যা ও সবসময়ই করে আমি রেগে লেগে সরি, হঠাৎ এমন প্রশ্ন করছিলা তো তাই। আমিও ওকে জরাই ধরলাম।

ভালবাসি তোমাকে লাবণ্য। অনেক ভালবাসি।
হুম। খাবে কিছু?
না।

ও আমার চোখের দিকে তাকাইয়ে বলল। ওর চোখে আজ আমি কষ্ট দেখছি। ভালবাসার মানুষটার কাছ থেকে ভালবাসি শুনতে না পারার কষ্ট।

এটাই স্বাভাবিক। নিজেকেও অপরাধী মনে হয়। আমি
ওর সামনে আর দাড়াই থাকতে না পেরে রুম থেকে বের হয়ে গেলাম। ড্রানিং টেবিলে এসে এক মগ পানি নিয়ে বসলাম। এই প্রশ্নের উত্তরটা আমি এখনো নিজেই নিজেকে দেইনি তো ওকে দিব কিভাবে? আচ্ছা এতো সহজেই কি ভালবাসাকে ভোলা যায়?

ভুলে থাকা যায় তার সাথে কাটানো দিন গুলো? ব্যস্ত থাকলে ভুলে থাকি কিন্তু যখনই এমন ফ্রি থাকি তখনই না চাইতেই এগুলা মনে পড়ে যায়। ফারহানের প্রশ্নটা আমাকে আরও নাড়া দিয়েছে।

ওর চোখের দিকে তাকাইয়ে মিথ্যা কথা বলতেও পারি না আমি।

মাঝেমধ্যে নিজের উপর অনেক রাগ হয় জানেন?
না পারলাম ভালবাসার জন্য কিছু করতে না পারছি ফারহানকে হ্যাপি করতে।

নিজেকে অনেক অপরাধী মনে হয়। হঠাৎ পায়ের আওয়াজে চমকায় উঠলাম ঘুরে দেখি আব্বু,

কি করে ঘুমাস নি? (আব্বু পাশে এসে বসে বলল)
না। (ভাবেছিলাম রাহাতকে আর কেউ মানুক আর না মানুক আব্বু মানবে। কিন্তু আব্বুও অন্য সবার মত করেছিল দেখে আব্বুর আর আমার সম্পর্কে একটা ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে)

ফারহান ঠিক আছে?
হুম (বলে উঠে চলে আসতে লাগলাম)
৪ বছর হয়ে গেছে লাবণ্য! এখন তো মাপ করে দে?
আমি তোমার উপর রেগে নাই আব্বু।

জানি আছিস। রাহাতের ঘটনার পর থেকে তুই আমাকে এরিয়ে চলিস।

না।
হ্যা।

দোষ তোমাদের না আব্বু। আমরাই দুজন দুজনের হাত ধরে রাখতে পারিনি। আমাদের ফ্যামিলি মানলো না ব্যাস ওমনেই আমরা একে অপরের হাত ছেড়ে দিলাম।

আসলে আমাদের মধ্যে এতো সাহস ছিল না তোমাদের বিরুদ্ধে যাওয়ার।

ফারহান ভালো ছেলে।
আমি তো বলছি না ও খারাপ ছেলে।
তাহলে?

বুঝবা না আব্বু। একটা কথা জানো? আমি ভাবছিলাম তুমি আমাকে বুঝবা। কারণ, তোমার আমার সম্পর্কটা অন্য রকম ছিল।

আমাদের ফ্যামিলিতে কেউ কখনো প্রেম করে বিয়ে করেনি।

তোর যদি বিয়ে দিতাম সবাই আমাকে কথা শুনাতো।

হুম।

তুই কি খুশি না? ফারহান কি তোকে?

ফারহান ওর সাধ্য মত চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো একক্ষনে মনে হয় ফারহানের জায়গায় যদি রাহাত থাকতো?

দেখ।
মনে হয় যদি আরেকটু লড়ায় করতে আমরা? তাহলে হয়তো সব অন্যরকম হত।

সরি আমি।

আমরা তোমাদের অনেক ভালবাসি। সারাজীবন তোমাদের কথা মত চলি। কিন্তু, তোমরা একটা সময় আমাদের বুঝো না কেন আব্বু? আমরা কোনোদিনই তোমাদের আর ভালবাসার মধ্যে যেকোনো একটাকে
বেছে নিতে চাই না। কিন্তু, তোমরা আমাদের বাধ্য কর বেছে নিতে। আর বিশ্বাস কর ২টার যেকোনো একটা ছাড়তেই একই পরিমাণ কষ্ট হয়।

বলেই আসলাম রুমে। এই কথাগুলো ৪বছর ধরে বুকে চেপে রাখছি। আজ সব বলে নিজেকে একটু হালকা লাগছে। হয়ত আজকের পর আব্বুর সাথে দূরত্বটা আরও বেরে যাবে। রুমে এসে দেখি ফারহান চিত
হয়ে হাত পা ছড়াইয়ে শুয়ে আছে। আমি বসে ওর হাত পা ঠিক করে একটু জায়গা করে শুতেই ও ঘুরে আমাকে জরাই ধরে বলল ওর বুকের উপর মাথা রেখে শুতে। আমার আর তর্ক করার ইচ্ছা না থাকায় তাই
করলাম। ও আমার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল তুমি ভাল ঠিকই বাস কিন্তু নিজেই বুঝ না। কিন্তু,  ভালবাসো আর নাই বাসো, তুমি আমার বউ। তুমি শুধু আমার কথাটা আমি চাইলেও বদলাতে পারবো না।

সত্যি বলতে আর চাইও না। জীবন আর ভাগ্যকে মেনে নিতে শিখে গেছি। ওই যে বলে না খুব কম ভাগ্যবান মানুষই নিজের ভালবাসার মানুষকে বিয়ে করতে পারে।

আমি আর রাহাত হয়তো ওই ভাগ্যবান মানুষের মধ্যে পরি না।

আমরা শত চাইলেও ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবো না।

চলুক জিবন জিবনের মতো। আমিও মানিয়ে নিয়ে চলতে শিখে গেছি।
Previous
Next Post »