নেহার চিরকুটে ভালোবাসা ~ WriterMosharef

নেহার চিরকুটে ভালোবাসা

চিরকুটে ভালোবাসা, চিরকুটের কথা, চিরকুটের শেষ কথা, নেহা, Valobashar Chirkut, chirkut image, chirkut quotes, sumi chirkut husband, chirkut bangla quotes, chirkut fb page, short story, WriterMosharef

Hi I'm WriterMosharef

সকাল থেকেই আম্মুর রেডিও বাজতেছে। এই রেডিও কখন থামবে বলা যায় না। গতকাল রাতে আমাকে একশো টাকা দিয়েছিলো উনার মোবাইলে রিচার্জ করানোর জন্য। আমি একটু পরে যাবো করতে করতে রাতে আর যাইনি। সকালে উঠে দেখি আমার বালিশের নিচে একশো টাকা। শত চিন্তা করেও এই একশো টাকা
কার মনে করতে পারলাম না৷ শুধু একটা কথাই মনে পড়লো এই টাকা রিচার্জের জন্য। পরে দোকানে গিয়ে আমার নাম্বারে এই একশো টাকা রিচার্জ করে ফেললাম। মনে মনে খুশি হলাম। আম্মু মনে হয়
আমার কোনো কাজে খুশি হয়ে একশো টাকা রিচার্জ করতে দিয়েছে। কিন্তু বাসায় আসার পর থেকেই আম্মুর রেডিও বেজেই চলেছে। আমারই বা কি করার, তুই ছাড়া তো আমার বাসায় আর কেউ নাই যে দোকানে পাঠাবো। তোর এই ভুলে যাওয়া স্বভাব কবে
ঠিক করবি বল নাহলে দেখবি একদিন আমার যেদিকে দুচোখ যায় সেদিকে চলে যাবো। আর ভালো লাগেনা এত জ্বালা। নাহ আমিও আর সহ্য করতে পারছি না। আম্মুর হাতে আমার মোবাইল দিয়ে বললাম, কার সাথে কথা বলবা বলো, আমার মোবাইলে এখন একশো
টাকা আছে। একশো টাকা দেখছো কোনোদিন? তোমার এসব বকবকানি এইবার থামাও। কথাটা বলেই আমি আমার রুমের বারান্দায় চলে আসলাম। আম্মুর রেডিও তবুও বন্ধ হয়নি এখনো চলছে।

লুঙ্গি তে আপনাকে ভালোই মানায়। জামাই জামাই ভাব আসে। সবসময় লুঙ্গি পড়বেন। তাহলে সবসময় জামাই ভাবতে সুবিধা হবে। ইতি আপনার হবু বউ। আসেপাশে ভালোভাবে তাকিয়ে দেখলাম। কেউ নাই। চিরকুট টা
আমার বারান্দায় পড়ে ছিলো। এখনো পড়নে লুঙ্গিই আছে আমার। আবারো আসেপাশে ভালো করে দেখতে লাগলাম। সামনের বিল্ডিং এর মেয়েটা দেয়নি তো? ধুর সে কিভাবে দিবে, ভাবের সাগর আছে ভিতর। তিন মাস পিছে পিছে ঘুরেও নাম্বার নিতে পারিনি। তাকে ছাড়া অন্য কাউকে সন্দেহ হচ্ছে না। কারণ তাদের বারান্দা আর আমাদের বারান্দা একদম কাছাকাছি। চাইলেই একটা চিরকুট ছুড়ে মারা যায়। কিন্তু তার দেওয়ার কোনো চান্স নেই। তাহলে কে দিলো? তাছাড়া আমার তো কারো সাথে বিয়ে ঠিক হয়নি। চিরকুটের শেষে হবু বউ লিখলো কেন? চিন্তার বিষয়। যাই হোক। মনে মনে আনন্দের ফুল ঝরছে। তেইশ বসন্ত পেরিয়ে যাওয়ার
পর কেউ তো আমার দিকে নজর দিলো? সুনজর।

ইচ্ছে করছে আজ লুঙ্গি পড়েই ভার্সিটি চলে যাই। লুঙ্গি খুলতে ইচ্ছে করছে না। চিরকুটের মেয়েটা বলেছে লুঙ্গি পড়লে নাকি আমাকে জামাই মনে হয়। আহা কেউ এতদিনে প্রেমিক পর্যন্ত ভাবলো না। অথচ মেয়েটা সোজা জামাই তে চলে গিয়েছে। একটু ফাস্ট হলেও খারাপ না। রাস্তায় আসার পর থেকে বিভিন্ন লোক বিভিন্ন ডিগ্রি কোনে আমার দিকে তাকাচ্ছে। চোখে কালো চশমা, পায়ে বাটা থেকে কিনে আনা চার হাজার টাকা দামের জুতা, গায়ে লাল শার্ট আর পড়নে সবুজ কালারের নতুন লুঙ্গি টা। কেউ হয়তো ভাবছে এটা নতুন
স্টাইল। কেউ হয়তো পাগল ও ভাবছে। যে যাই ভাবুক আমার কিছু যায় আসে না। সে জামাই ভেবেছে এতেই বাকিদের সব চিন্তা ভাবনা আমার কাছে এখন তুচ্ছ।

ভার্সিটিতে যাওয়ার পর শুভ আমাকে একপাশে টেনে নিয়ে গিয়ে বললো, এগুলা কি পড়ছস? মান ইজ্জত তো কিছু রাখলি না। এখন বল কাল যে বলছিলাম সাদিয়ার জন্য একটা চিঠি লিখে আনতে এনেছিস?
আমি বুক পকেটে হাত দিয়ে একটা কাগজ বের করে দিলাম শুভর হাতে। শুভ আমাকে অদ্ভুত একটা গালি দিলো। বললো, সাদিয়াকে লুঙ্গিতে ভালো মানায়, জামাই জামাই ভাব আসে এসবের মানে কি? আর ইতি তোমার হবু বউ এটা কি? আমি বউ? তোরে চিঠি লিখতে বলেছিলাম দুই লাইনের এটা কি লিখলি?

আমার হঠাৎ মনে পড়লো আমি শুভকে ভুল কাগজ দিয়েছি৷ ভুলে বারান্দায় খুজে পাওয়া চিরকুট টা দিয়েছি। বুক পকেটে হাত দিয়ে আরেকটা কাগজ দিলাম শুভকে৷ শুভ এবার খুশি হয়েছে মনে হচ্ছে।
আমাকে বললো, দোস্ত তোর চিঠি লেখার হাত দারুন৷ কাজ হয়ে গেলে ট্রিট পাবি শিওর। আমি কিছু না বলে নিজের হাতের দিকে তাকালাম। আমার চিঠি লেখার হাত টা শুভর কাছে কোন দিক দিয়ে দারুন মনে হলো বুঝে আসলো না। যাকগে, আমার মন আজ ফুরফুরে। আমি জানি যে আমাকে চিরকুট টা দিয়েছে সে নিশ্চয়ই
আমাকে লুকিয়ে ফলো করে। আমার এই সাজ দেখে অবশ্যই সে আরো অনেক বেশি খুশি হবে। একটু পর আমার বেস্ট ফ্রেন্ড নেহা আসলো৷ এসে আমার আগা গোড়া পুরোটা একবার স্ক্যান করে নিলো৷ আমার এমন অদ্ভুত কর্মকান্ডে সে অভ্যস্ত হলেও লুঙ্গি পড়ে ভার্সিটিতে আসার ব্যাপারটা একটু বেশিই জঘন্য। নেহা বললো, কাল যে তোকে একটা চিরকুট দিয়েছিলাম শোভন ভাইকে দিতে দিয়েছিলি?

আমার হঠাৎ বুকটা কেঁপে উঠলো। সকালে পাওয়া চিরকুটটার কথা বলছে না তো নেহা? আস্তে আস্তে মনে পড়তে লাগলো গতকাল রাতে এমনি কাগজ মনে করে বারান্দায় নেহার দেওয়া চিরকুট টা ফেলে দিয়েছিলাম। সকালে সেই চিরকুট পেয়েই এখন আমার এই অবস্থা৷ নেহার সাথে শোভন ভাইয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে। বিয়ে
করবে নেহা, চিরকুট দিবে নেহা। সব ওরাই করবে কিন্তু আমি কেন ছেকা খাবো? এভাবে মন ভাঙ্গা একদম ঠিক হয়নি।
Previous
Next Post »