চা খাওয়া ~ WriterMosharef

চা খাওয়া

চা খাওয়া, eat tea, eat, tea, chai, bubble tea, boba tea, milk tea, high tea, history of tea, origin of tea, tea house, tea definition
History of Tea
বসে বসে টিভি দেখছি। বউ পাশে বসা। অনেকক্ষন যাবৎ বউকে চায়ের কথা বলছি,পাত্তা দিচ্ছে না। হঠাৎ হ্যাচ্চো করে একটা হাঁচি চলে এলো। বউ একলাফে ছিটকে তিন হাত দূরে চলে গেল।

আমি বললাম, ঘটনা কী বউ? এমন ব্যাঙের মতো লাফ দিলা কেন?

আমি কি সাপ? তোমাকে তাজা খেয়ে ফেলতে চাইছি?
বউ ভয় পাওয়া গলায় বললো, হাঁচি দিলা কেন? সত্যি করে বল, হাঁচি দিলা কেন? কোন অঘটন ঘটাও নাই তো! মর জ্বালা! হাঁচি আসলে আমি কি করবো?

তোমার অনুমতি নিয়ে হাঁচি দিতে হবে? তুমি কি রানী এলিজাবেথ?

তোমার আবার করোনা মরোনা হয় নাই তো? তাহলে কিন্তু আমি বাপের বাড়ি চলে যাবো! তুমি মর, আমার আপত্তি নাই, আমাকে মারতে চাও কেন? জামাই মরলে জামাই পাব, জান তো আর পাব না!

এই হয়েছে এক জ্বালা! আগে হাঁচি দিলে বউ দৌড়ে এসে পিঠে হাত বুলিয়ে জিগ্যেস করতো, কী হয়েছে। এখন হাঁচি দিলে ভয়ে লাফিয়ে উঠে। বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার হুমকি দেয়! শালার 'করোনা' ভালবাসায় পর্যন্ত আঘাত হেনেছে দেখছি!

আমি উঠে জামা গায়ে দিচ্ছি, বউ বললো, কোথায় যাও?

বাজারে যাচ্ছি। চা খেয়ে আসি। আফসোস! বিশ্ব থেকে
মহাজ্ঞানী আইনস্টাইন, নিউটনের মতো লোকজন চলে গেছে, এখন বাংলাদেশ থেকেও চা না খেতে পেয়ে জ্ঞানী মানুষ মারা যাচ্ছে! সেই জ্ঞানী মানুষটা কে, যে চা খেতে না পেরে মারা যাচ্ছে?

কেন? আমি!
করোনার ভয়ে বউ ঘরের ভিতরও মাস্ক পরে আছে। হায় রে বাঙালী, করোনার কী ভয়!

বাউরে যাচ্ছ। মাস্ক পরে যাও। তোমার কি ধারণা? গেন্জি কাপড়ের মাস্ক পরে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে? কোথাও কি শুনেছো, জাইঙা পরে জম্ম নিয়ন্ত্রণ করা
যায়?

কি আর করা! মাস্ক একটা মুখে বেঁধে নিলাম তারপর বাজারে চায়ের দোকানের দিকে চললাম।

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ব্যাক্তিগুলো বাস করে কোথায় বলতে পারেন? বাংলাদেশের চায়ের দোকানে। আইনস্টাইন, নিউটন, টমাস আলভা এডিসন এদের কাছে নস্যি। রাজনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান হেন কোন বিষয় নাই, যার সম্পর্কে তারা বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিতে জানে না!

চার পাঁচ জন চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছে। সবাই আমার পরিচিত। আমি এক কোনায় নিরিবিলি বসে চা খেতে লাগলাম।

আমাদের পাড়ার একজন মধ্য বয়স্ক লোক আমার দিকে এগিয়ে এসে বললো, ভাইজানের শইলডা ভালা?
আমি বললাম, আলহামদুলিল্লাহ। ভালো।

আচ্ছা ভাইজান, আমাগো দেশের নেতারা যে চাল চুরি করতাছে, এই বিষয়ে আপনের মতামত কী?

নেতারা চাল চুরি করছে না তো!চোরেরা চাল চুরি করছে। চোরদের নেতা বানানো হয়েছে।

এক্কেবারে খাঁটি কতা বলছেন ভাইজান।দশে দশ পাওয়ার যোগ্য কতা।

আপনারা যে চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছেন, আপনাদের করোনার ভয় নাই?

করোনা মরোনা আমাগো কিছু করতে পারবো না।
ঐটা তো বড়লোকগো ধরবো।এইটা বড়লোকদের অসুক! আমি চুপ করে রইলাম। তাড়াতাড়ি চা খেয়ে কেটে পড়তে চাইছি।

শুনছেন ভাইজান, টেরাম সাব তো মামলা দিছে, এই বার হারামী গো খবর আছে। ব্যাটারা টের পাইবো, পাগলা টেরাম কি চিজ! আমি বললাম, পাগলা টেরাম কে ভাই? আপনার কোন আত্মীয়? কই থাকে? সৌদি আরব? দূর মিয়া! আমরিকার পেসিডেন সাব। এইবার চীন মুইত্তা দিবে! কেন ভাই, চীন মুতবে কেন? কতবড় সাহস! আমরিকার লগে ফাইট দেয়! চীন শালা রে ছিঁড়া
স্যান্ডেল দিয়া বাইরানি দরকার।কি এক করুনা ভাইরাস বানাইছে, আমরিকারে ছেঁড়া বেড়া কইরা দিছে। লাক লাক লোক মরতাছে।

ওরা ওগো দেশে ইচ্ছা কইরা দুই তিন হাজার মাইরা সারা পৃথিবীতে লাক লাক লোক মারতাছে! এইটা কোন কতা! আমি তো শুনেছি, বাদুর থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্থা তো তাই বলছে!

বিশ্বস্বাস্হ্য কোন কচুটা জানে! ওগো মাতামুতা ঠিক আছে নিহি! ওরা তো আস্ত আবাল! ওরা কি জানে, চীন কি চীজ? ওরা গরু মাইরা স্যান্ডেল দান করতাছে! সারা পৃথিবীতে করুনা ভাইরাস ছাইড়া দিছে, অখন আবার নকল মাছ, পিপি দিয়া সাহায্য করতাছে।

সেগুলো পইরা ইরোপ আমরিকার ডাক্তার লাফাইয়া মরতাছে। চিন্তা করেন, কি হারামি বুদ্ধি! অরা বিশ্ব মোড়ল অইবার চায়! ইরোপ আমরিকা শেষ!

এক বৃদ্ধ এগিয়ে এসে বললো, বেশি ফাল পাইরেন না মিয়া! আমরিকা করুনা ভাইরাস বানাইছে, এখন চীন রে দুষ দিতাছে! চীন রে মারতে চাইছিল। এখন নিজেরা মরতাছে! টেরাম একটা নেতা হইলো? নেতা আছিল বারেক সাব! আমি বললাম, বারেক সাব আবার কে? কোন এলাকায় থাকে? আপনার পরিচিত?

বৃদ্ধ রেগে গিয়ে বললো, দূর মিয়া, চান্দের দেশে থাকেননি? আমরিকার আগের পেসিডেন সাব অইলো বারেক সাব। উনার বউয়ের নাম হেলারী। কাইল্যা বেডায় বড় ভালা লোক আছিল!

বারেক ওবামার কথা বলছেন? উনার বউ তো হিলারি নয়। মিশেল ওবামা! মধ্য বয়স্ক লোকটা বললো, চীন কত হারামি চিন্তা কইরা দেখেন। ঐ শালারা সব সময় সব কিছু ওয়ান টাইম ইউজ বানায়। কিন্তু কি করুনা
বানাইলো, দুনিয়া শেষ!

বৃদ্ধ বললো, চীন রে শিক্ষা দিতে চাইছিল টেরাম! চীন দিছে ওগো বড় বড় যুদ্ধ জাহাজে ভাইরাস ঢুকাইয়া! ব্যাটারা এখন বাপ বাপ কইরা পালাইতাছে! যুদ্ধ করবো কি!আমরিকা শেষ! ওরা এখন বাংলাদেশের লগেও পারবো না!

মধ্য বয়স্ক লোকটা পিচ করে পানের পিক ফেলে বললেন, কতা খাঁটি। শালারা টাচ মোবাইল বানাইল, ঠিক আছে। টাচ ঘড়ি বানাইল, ঠিক আছে। টাচ টিভি বানাইল, সেইটাও ঠিক আছে। তগ শালা টাচ রোগ বানানীর কী দরকার!

আরে বুঝলেন না! এইটা আমরিকারে শিক্ষা দেওনের কৌশল। শালা আমরা পরছি বিপদে। আগে হাঁচি আইলে মনে করতাম, কেউ হয়তো আমারে মনে করতাছে। এখন হাঁচি আসলে মনে অয় শালার আজরাইল আইসা ঘরে বইসা রইলো না তো!

বৃদ্ধ আমার দিকে তাকিয়ে বললো, আইচ্ছা কন তো দেহী, এখন আমরিকার লগে বাংলাদেশের যুদ্ধ লাগলে কে জিতবো?

মধ্যবয়স্ক ভাইজান আমার সামনে একদলা থুতু ফেলে বললো, অবশ্যই বাংলাদেশ! শালার আমরিকা একটা দেশ হইলো? যত পাগল ছাগল নেতা বানাইছে!

আমি চায়ের দোকান থেকে বেড়িয়ে এলাম। মনে মনে বললাম, হায়! বাংলাদেশে এতো জ্ঞানী মানুষ থাকতে দেশটার এই অবস্থা।
Previous
Next Post »