তুমি আমার মা আমি তোমার মেয়ে বল না মা কি পেয়েছ আমায় কোলে পেয়ে ~ WriterMosharef

তুমি আমার মা আমি তোমার মেয়ে বল না মা কি পেয়েছ আমায় কোলে পেয়ে

তুমি আমার মা আমি তোমার মেয়ে বল না মা কি পেয়েছ আমায় কোলে পেয়ে, মায়ের ভালোবাসার উক্তি, সন্তানের জন্য মায়ের ভালোবাসা, সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা, সন্তানের প্রতি ভালবাসা, মায়ের ভালোবাসার গল্প, মা ও সন্তানের ভালোবাসা, চিরদিনের ভালোবাসা, mayer valobasa, mayer valobasa short film, sontaner proti pita matar kortobbo,

আম্মার মাথার বেশিরভাগ চুলই পেকে গেছে। আম্মা আয়নায় তাকায় আর আমাকে বলে দেখত আমার মাথার সব চুল কি পাক ধরেছে?

আমি বলি নাহ আম্মা বেশি পাক ধরে নি। যেটুকু ধরেছে ঐ টুকু তো ধরবেই।

আম্মা বলে চোখ রাঙিয়ে বলে আয়নায় আমি ভুল দেখলাম নাকি ফাযিল মেয়ে।

আম্মার কথা শুনে আমি মনে মনে হাসি। ব্যাপারটা হাস্যকরই তো।

বয়স হলে তো চুল পাকবেই।এতে হল্লা করবার তো কিছু নেই। আম্মা বড্ড বোকা। বুদ্ধিমতি রা তো বুঝবে ব্যাপারটা।

আম্মা সুন্দর লাল শাড়ি পড়ে বৈশাখের দিন আমার সামনে এসে বলে এই দেখত আমাকে কেমন লাগছে?ছবি তুলে দে তো আমার কটা!

আম্মার ভাবসাব দেখলে আমার ভয় লাগে। আবার যখন মন ভালো থাকে মাঝে মাঝে মায়া হয়। আব্বা টাকে আম্মা পেয়েছে মাত্র বছর দশেক। ব্যাপারটা যাতে আমার উপর প্রভাব না ফেলে তাই অত পাত্তা দিই না।

পাত্তা দিয়েই বা কি লাভ! আমি আম্মার ছবি তুলে দিই। আম্মার মন ভালো হয়ে যায়। খুটিয়ে খুটিয়ে ছবিতে নিজেকে দেখে আম্মা। আম্মার চোখে কি পানি থাকে!কি জানি! আম্মা আমাকে বলে দেখত আমার গাল দাগ হয়ে যাচ্ছে? মেশতা পড়বে টড়বে নাকি আবার।

চেহারায় তার আতংক।

আমি নরম সুরে বলি, আম্মারে তোমার গাল আমার গালের থেকেও সুন্দর। খুব মায়বী দুটি চোখের সাথে খুব মানায় তোমাকে।

আম্মা মনে হয় লজ্জা পায় কথাটা শুনে। আর আমার ভালো লাগে তখন আম্মার লজ্জা পাওয়া মুখ দেখতে।

আব্বাও হয়ত আম্মার এই লজ্জা মাখা মুখটা দেখতে পছন্দ করত আমার জানা নেই।

আম্মার এইসব আচরণে মাঝে মাঝে বিরক্তও হই। এত সূক্ষ্মভাবে কে কাকে দেখে! আজকাল কি আর এমন ভাবে দেখার সময় আছে নাকি।

একদিন আমি শাড়ি পড়লাম একটা অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য। আম্মা শুরু থেকে খুটিয়ে খুটিয়ে আমার সাজ দেখতে লাগল। আম্মারই একটা লাল শাড়ি পড়লাম।

আমার সাজার পর কাজল দেয়া শেষ হওয়া মাত্র
আমাকে পাশে বসিয়ে আমার চোখের কোণা থেকে কাজল আঙুলে নিয়ে আমার কানের পিঠে লাগিয়ে দিল! আম্মা আমাকে চুলটা বেনি করতে বলল।

করলাম, আম্মা আমাকে অনেকক্ষণ দেখে বলল? আমাকে কি তোর পাগল মনে হয়?

আমি মুচকি হাসলাম আর বললাম! মাঝে মাঝে।
তোর আব্বা আমায় পরিপাটি দেখতে পছন্দ করত।খুব! আমি বললাম আব্বা তো নেই মা।

আমার বলা কথা উপেক্ষা করে আম্মা বলতে লাগল প্রতিদিন আমাকে নিজের যত্ন নিতে বলত। আমিও নিতাম তাই অভ্যাস হয়ে গেছে। আমি যখন শাড়ি পরে তোকে কোলে নিয়ে বসতাম তুই আমার হাতখোপা খুলে দিতি দুষ্টু মেয়ে আমার। তখন তোর বাবা আমার চুলে বেনি করে দিত। আলতো করে মায়া ভরা চোখে আমার ঘুম না হওয়া চোখ দুটোয় কাজল দিয়ে দিত! কাজল দেয়ার পর চোখের কোনের কাজল থেকে আমার কানের পিঠে কাজল লাগিয়ে দিত।

নজরটিকা! বোকা লোক বড্ড কুসংস্কৃতি মানত।

আমি মনোযোগ দিয়ে শুনতে লাগলাম।মাকে আমি একটু হলেও বুঝতাম। তবে ব্যাপারটা এতটা গভীর বুঝতাম না। মায়ের মনের এতটা জায়গা জুড়ে মানুষটা এটা সেদিনই জানলাম। শুনেছিলাম আম্মা আব্বার অ্যারেন্জ ম্যারেজ ছিল।

আমার চোখে কাজল দেয়া দেখতে নাকি তার ভালো লাগত। ঐ লাল শাড়িগুলো তার নিজের হাতে কেনা। আমি যত্নে রেখেছি। যত্ন করে পরি সেসব। আমাকে কেমন লাগছে সে বলত, শ্যামবর্ণার কাজল চোখ
রিক্ত চোখে আলোর ঝলক উপচে পড়া রুপের বাহার
শূণ্য হাতের গুচ্ছ উপহার শাড়ির ভাঁজে গল্প লেখা
মনেতে অঢেল সুখ মাখা।

আমি তোর কাছে জানতে চাইতাম তুই কিছুই বলতি না।আমাকে কি আর সুন্দর লাগে না? আকুল কন্ঠে আম্মা আমাকে বলল।

আমি বাকরূদ্ধ! বহুকষ্টে জবাব দিলাম তোমাকে আমার চেয়েও সুন্দর লাগে মা! ঠিক নতুন পল্লবের মত সুন্দর
অন্ধকারে তৃপ্ত হওয়া পথিক সকল সতেজ হাওয়ার নিশ্বাসে তার নতুন প্রাণের ঘন্টা বাজুক নতুন পল্লব যেমন পৃথিবী চেনে নতুন চোখে নরম আলোয় হারিয়ে যায় সে ভুবনের বাতাসে ভেসে।

ফিসফিস করে বললাম, তুমি আব্বার চেয়েও বোকা মা। একটু না অনেক বেশি বোকা। আম্মা হয়ত এটা শোনে নি। আম্মার চোখে পানি! কবিতার প্রভাব একটু বেশি পড়ল নাকি! আম্মা কি দিন দিন মানসিক রোগী হয়ে যাচ্ছে।
Previous
Next Post »