বাসর রাতের রোমান্টিক গল্প ~ WriterMosharef

বাসর রাতের রোমান্টিক গল্প

বাসর রাত ইসলাম, বাসর রাতের রোমান্টিক গল্প, বাসর রাতের রোমান্টিক দৃশ্য, রোমান্টিক ফুলশয্যার গল্প, বাসর ঘরে ভালোবাসা, প্রথম রাতের অভিজ্ঞতা,

বাসর রাত ইসলাম রুমে এসেই দেখে নিধি একটা টিশার্ট পরে আছে। কিন্তু স্থির ভাবে দাঁড়িয়ে নেই।

টেনেটুনে টিশার্ট টি লম্বা করার চেষ্টা করছে। ইসলাম যে রুমে এসেছে সেটা খেয়াল করেনি নিধি। সে টিশার্ট লম্বা করতে ব্যস্ত। নিধির কাজ দেখে এক মুহুর্ত থেমে গেল ইসলাম বাসর রাতের রোমান্টিক দৃশ্য। চোখ পরিষ্কার করে আরও একবার দেখে কিন্তু, সে তো ভুল দেখছে না।

এই যদি হয় প্রথম রাতের অভিজ্ঞতা বর যদি দেখে তার বউ টিশার্ট পরে সেটা টানাটানি করছে তাহলে কেমন ফিলিংস হবে কে জানে।

ইসলাম বের হয়ে যাবে কিনা বুঝতে পারে না। হালকা একটু কাশে ইসলাম।

নিধি একদম চুপচাপ হয়ে গেছে, ইসলামের দিকে অপরাধীর মতো তাকিয়ে আছে। সেই সাথে চোখে অসহায় ভাব আছে। ইসলাম নিচের দিকে তাকিয়ে বলল?

আমি কি ভেতরে আসব?

না মানে, তোমার যদি সমস্যা থাকে তাহলে আমি না না আপনি ভেতরে আসুন। কখন থেকে আপনার জন্য অপেক্ষা করছি।

ইসলাম ভেতরে এসে বেডের একপাশে বসে। নিধি টিশার্টের উপরে একটা ওড়না পেছিয়ে ইসলামের সামনে বসে। ইসলাম তাকিয়ে দেখে মেয়েটা চোখ নামিয়ে রেখেছে। বউ সাজ আছে শুধু শাড়ি নেই।

শাড়ির পরিবর্তে টিশার্ট। ইসলাম বুঝতে পারে না যে
নিধিকে সুন্দর লাগছে নাকি অদ্ভূত লাগছে। নিধি মাথা নিচু করে বলল?

আমাকে খুব অদ্ভুত লাগছে তাই না?

ইসলাম কি বলবে বুঝতে পারছেনা। প্রশ্নটা তো ওর ও। কথা ঘুরিয়ে বলল?

এই অবস্থা কেন তোমার?

নিধি ভয়ে ভয়ে বলল, আসলে আমি খুব নার্ভাস ছিলাম। পানি খাবার জন্য পানি খুঁজছিলাম কিন্তু ভুল করে টি টেবিলের উপর থেকে দুধের গ্লাস নিছি। খেয়াল না করেই মুখে দিলাম। তাড়াতাড়ি রাখতে যেয়ে গ্লাসের সব দুধ আমার শাড়িতে পড়লো।

তারপর?

লাগেজ খোলার ট্রাই করলাম কিন্তু খুলতে পারিনি। আপনার আলমারি ধরে কিছুক্ষণ টানাটানি করার পর খুলল। তারপর এই টিশার্ট সরি।

নিধির কথা শুনে ইসলাম জোরে জোরে হেসে ওঠে। হাসলে মানুষকে এতো পবিত্র লাগে সেটা জানা ছিল মেয়েটার।

নিধি ভেবেছিল ইসলাম অনেক রাগারাগি করবে। নিধি হা করে ইসলামের দিকে তাকিয়ে আছে। ইসলাম হাসি থামিয়ে বলল,

তো এই টিশার্ট পরেই থাকবে? নাকি লাগেজ খোলার ট্রাই করব? প্রথম রাতেই কি একটা ঝামেলা করে ফেললাম। ( নিধি অসহায় ভাবে বলল)

ইসলাম উঠে লাগেজ খুলে একটা শাড়ি নিধির হাতে দিলো। চেঞ্জ করে এসে নিধি বলল,

একটা জিনিস চাইব। দিবেন? বলো,
এই টিশার্ট টা। এটা যদি আপনার পছন্দের হয় তবে মাঝে মাঝে আপনাকে পরতে দেবো।

এটাই কেন? অন্য কিছু চাইতে পারো না?

কেন জানিনা তবে খুব পছন্দ হয়েছে। সমস্যা হলে দরকার নেই।

ইসলাম হাত ধরে নিধিকে পাশে বসিয়ে বলে,
তোমার বয়স যেন কতো? একুশ।

একুশ বছরের মেয়ে বাসর রাতে বরের কাছে টিশার্ট চাইছে।

ইন্টারেস্টিং না? বাসর ঘরে ভালোবাসা।

নিধি এবার লজ্জা পায়। সত্যি এটা একটা বোকামি। কথাটা পরে বললেও তো হতো।

ইসলাম মনে মনে ভাবে এই পুতুলের মতো বউটার সব আবদার সে পূরণ করতে রাজি।

কেটে গেছে সাতাশ বছর। সংসারের জীবনের মাঝ পথেই নিধিকে একা রেখে না ফেরার দেশে চলে যায় ইসলাম। নিধি এখন বয়স্ক একজন মহিলা। চোখে পাওয়ারের চশমা, গায়ে চাদর। দুইটা ছেলে মেয়ে নিধি আর ইসলামের। তাদের বিয়ে হয়েছে, বাচ্চা ও আছে।
সবাই অনেক ভালো আছে শুধু অপূর্ণ আছে নিধি।

আজও যেন ইসলামের সেই হাসি মুখটা স্পষ্ট মনে আছে। নিধি টিশার্ট টা নিয়ে একমনে দেখছে। অরিন (নিশির ছেলের মেয়ে) এসে বলল,

আচ্ছা দাদুন একটা কথা বলব, বলো বলো

এই  টিশার্ট টা রোজ কি দেখো বলো তো? কি আছে এরমধ্যে?

দাদুন, এটা তোমার দাদুর দেওয়া প্রথম উপহার।

দাদুকে মিস করো তাই না?

নিধি কিছু না বলে শুধু হাসে।

অরিন চলে যাওয়ার পর নিধি আবার টিশার্টের দিকে তাকায়। সেদিন যদি ভুল করে এটা না চাইতো তাহলে এই শেষ বয়সে এসে কি হতো? সঙ্গ দেওয়ার জন্য এই টিশার্ট টা হয়তো সেরা জিনিস।
Previous
Next Post »