Koster Kotha - ছেলেদের কষ্টের কথা ~ WriterMosharef

Koster Kotha - ছেলেদের কষ্টের কথা


 

উচ্চমাধ্যমিকের এক ছাত্র ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছে। ১০০ নম্বরের পরীক্ষা। এরই মধ্যে এক ঘন্টা শেষ হয়েছে। বাকি আছে দুই ঘন্টা। ছাত্রটির শরীর প্রচণ্ড ঘেমে যাচ্ছে। পরীক্ষার খাতায় লিখতে গিয়ে তার হাত অবশ হয়ে আসছে। পরীক্ষায় যা এসেছে সবই তার জানা। কিন্তু তবু সে লিখতে পারছে না। 


পরীক্ষার সময় শেষ হলো। ছেলেটি কক্ষপরিদর্শক স্যারকে অনেক অনুরোধ করলো, আরো কিছুক্ষণ সময় দেওয়ার জন্য। স্যার তার কথা শুনলেন না। তিনি খাতা নিয়ে নিলেন। ছেলেটি হতভম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল, তার রেজাল্ট খুবই খারাপ হবে। পরীক্ষার খাতায় যা লিখেছে তা দিয়ে ভালো রেজাল্ট তো দূরের কথা, পাশ করাই কষ্টকর হবে।  


কিছুদিন পর পরীক্ষার রেজাল্ট বের হলো। ছেলেটি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে নি। তার শিক্ষকরাও এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করলেন। ক্লাসের সবচেয়ে ভদ্র, মনোযোগী ও মেধাবী ছাত্র সে। এমন মেধাবী ছাত্রের এই রেজাল্ট তাঁরাও মানতে পারছেন না। 


এই ছেলেটির খারাপ ফলাফলের পিছনে মূল কারণ আসলে কী? 


এবারে আসা যাক, মূল ঘটনায়। ছেলেটির খারাপ ফলাফলের পিছনে মূল কারণ— হাত অবশ হয়ে যাওয়া। কিছুদিন ধরে সে এই রোগে ভুগছে। হাতের সমস্যার কারণে সে ঠিকমতো লিখতে পারছে না। ডাক্তার বলেছে, একটু সময় লাগবে সেরে উঠতে।  


ছেলেটি আজ অসহায়। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় প্রায় সবাই তাকে খারাপ ছাত্র হিসেবেই গণ্য করছে। দু-একজন তার খারাপ ফলাফলের কারণ জানার পরেও বলছে, অন্তত পাশটা করা উচিত ছিল। এতদিন যে ছেলেকে নিয়ে তার আত্মীয়-স্বজন ও শিক্ষকরা গর্ব করতো, তাঁরাই আজ লজ্জায় মুখ লুকাতে ব্যস্ত! একটি ফলাফল ছেলেটির পুরো জীবনকে এলোমেলো করে দিয়েছে। 


পৃথিবীর নিয়ম এটাই। সবাই আপনার কাছে দৃশ্যমান ফলাফল দেখতে চাইবে। এটা শুধু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাতেই নয়, জীবনের সকল ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান ফলাফল দিয়ে একজনকে বিচার করা হয়। তাইতো দেখা যায়, কেউ গোপনে ঘুষ দিয়ে চাকরি পেলেও সবাই তাকে বাহবা দেয়। অন্যদিকে, একজন সৎ-মেধাবী ছাত্র সমস্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেবল চাকরি না পাওয়ায় মানুষের ঠাট্টার পাত্রে পরিণত হয়। 


উপরে যে গল্পটি উল্লেখ করেছি, সেখানে ছেলেটির নিজের কিন্তু কোনো দোষ নেই। সে দুর্ঘটনার শিকার। আপনার-আমার ক্ষেত্রেও এমনটা হতে পারে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো— পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগমুহূর্তেও ছেলেটি জানতো, সে লিখতে পারবে না। তবুও সে পরীক্ষা দিয়েছে। নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে। এরপরও মানুষের বিচারে সে একজন ব্যর্থ যুবক। 


এবারে দেখা যাক, মহান আল্লাহপাকের বিচার-ব্যবস্থা। তাঁর বিচার মানুষের মতো নয়। শেষ বিচারের দিন এমন অনেক নবীকে দেখা যাবে, যাঁদের সাথে মাত্র দু-একজন অনুসারী থাকবে। আবার এমনও নবী দেখা যাবে, যাঁদের সাথে একজনও অনুসারী থাকবে না। অর্থাৎ পৃথিবীতে এসে সেই নবীগণ শুধু দ্বীনের দাওয়াতই দিয়ে গেছেন, তেমন দৃশ্যমান ফলাফল অর্জন করতে পারেন নি। তবুও আল্লাহর বিচারে তাঁদের মর্যাদা থাকবে অনেক উঁচুতে। সীমাহীন ধৈর্যধারণ ও সাধ্যমতো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কারণে তাঁদেরকে আল্লাহপাক এ মর্যাদা দান করবেন।   


আপনি যখন চাকরি, ব্যবসা কিংবা একাডেমিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল পাবেন না, তখন হতাশ হয়ে পড়বেন না। সততা, ধৈর্য এবং প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখুন। যদি এ তিনটি গুণ আপনার মধ্যে থাকে, তবে আপনি সফল মানুষ। এ তিনটি গুণের সমন্বয়ে যে ফলাফলই আসুক না কেন, সেটাই প্রকৃত ফলাফল। সেটাকে মেনে নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। নির্জনে কান পেতে আপনার বিবেকের কথা শুনুন। দেখবেন, বিবেক আপনাকে বলছে যদি অধৈর্য হয়ে অসততার মাধ্যমে কোনো ফলাফল অর্জন করো, তবে তা কাঁটা হয়ে তোমাকে বিদ্ধ করবে আজীবন। আর পরকাল তো সামনে পড়েই আছে।

Previous
Next Post »